বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধের ৫৭ কিমি’র অর্ধেক স্থান ঝুঁকিপূর্ণ,প্রকল্প বন্দী লালফিতায়



মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের চৈতন্যগঞ্জ গ্রামের ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙনের কারণে গত কয়েক বছরে বহু ঘরবাড়ি বিলীন হয়ে গেছে। এখনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বহু বসতবাড়িসহ ফসলি জমি।
প্রতিরক্ষা বাঁধের অব্যাহত ভাঙনে চৈতন্যগঞ্জ গ্রামের অনেক বসতভিটে, ফসলি জমি ও ছাইয়াখালি হাওর এলাকার লোকজন হুমকির মুখে রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে গ্রামবাসী প্রতিরক্ষা বাঁধটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসলেও পাউবো কর্তৃপক্ষ তাতে সাড়া দেয়নি।
সরেজমিনে চৈতন্যগঞ্জ গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, প্রতিরক্ষা বাঁধ এলাকার অন্তত দেড় কিলোমিটার স্থানে শুধু ভাঙনের চিহ্ন। বাঁধটি ভাঙতে ভাঙতে গ্রামের বসতিপূর্ণ এলাকার এক ফুটের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। ভাঙনে মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন কুমার দাশের পাকা বসতঘরের তিনটি কক্ষ নদীতে বিলীন হয়ে শুধু রান্নাঘরটি কোনোমতে টিকে আছে। মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন কুমারের প্রতিবেশি সুরুজ মিয়ার কাঁচাঘরটি বিলীনের পথে। এভাবে গ্রামের আখলুছ মিয়া, আজাদ মিয়া, শফাত মিয়া, মৃত মোস্তফা মিয়ার স্ত্রী কৈতরী বেগম, মধু মিয়ার ঘরসহ অন্তত ৩৫ জনের বসতঘর ভাঙনের কবলে পড়ে কোনোমতে টিকে আছে।
মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন দাশসহ নদীভাঙনের হুমকিতে থাকা সুরুজ মিয়া, আখলুছ মিয়া, আজাদ মিয়া, শফাত মিয়া, কৈতরী বেগম, মধু মিয়া প্রমুখ জানান, প্রায় এক বছর ধরে প্রতিরক্ষা বাঁধটি ভাঙতে ভাঙতে এখন তাদের বসতঘরের সীমানায় এসে ঠেকেছে। যে কোনো সময় বসতঘর বিলীন হওয়ার আশঙ্কায় আছেন এখানকার বাসিন্দারা।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, গত ১৫ বছরে চৈতন্যগঞ্জ গ্রামের ইসহাক মিয়া, আত্তর উল্লা, হুরমত মিয়া, জব্বার উল্লা, নজির মিয়া, বাদশাহ মিয়া, মতলিব মিয়া, মাহমুদ আলী; রবিদাশ সম্প্রদায়ের ধরম রাজ রবিদাস, বিজয় রবিদাস, বাদল রবিদাস, অর্জুনা রবিদাস, সগুয়া রবিদাস, জলিম রবিদাস, বলরাম রবিদাস, মিঠাই লাল রবিদাস, কান্ত রবিদাস, আন্ত রবিদাস, জাদারিয়া রবিদাস ও রামচরণ রবিদাসের ৫০টি ঘর ধলাই নদে বিলীন হয়েছে। এসব মানুষ এখন এ গ্রাম ছেড়ে অন্য জায়গায় গিয়ে বসবাস করছে।
মুক্তিযোদ্ধা নিরঞ্জন কুমার জানান, চৈতন্যগঞ্জ গ্রাম এলাকায় ধলাই নদের প্রতিরক্ষা বাঁধটি মেরামতের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ আব্দুস শহীদ, ইউএনও, ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা পাউবো’র নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেও আজ পর্যন্ত কোনো সাড়া মেলেনি। সংশ্লিষ্টরা সরেজমিন তদন্ত করে শুকনো মৌসুমে বাঁধটির উন্নয়নের আশ্বাস দিলেও আজও কোনো কাজ হয়নি। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে একসময় ছাইয়াখালি হাওরের ১৫০ একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে জানালেন তারা।
কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান জানান, বাঁধটির উন্নয়নে একটি প্রকল্প পাউবো’র কাছে আছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হক জানান, বিষয়টি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে পাউবো কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইন্দু বিজয় শংকর চক্রবর্ত্তী জানান, সীমান্তবর্তী ইসলামপুর থেকে রহিমপুর ইউনিয়ন পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৭ কিলোমিটার প্রতিরক্ষা বাঁধটির অনেক স্থানই ঝুঁকিপূর্ণ। এজন্য ৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। আগামী শুকনো মৌসুমে প্রতিরক্ষা বাঁধে মেরামতের কাজ শুরু হতে পারে বলে আশা করছি। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ গ্রাম এলাকার দিকে পাউবো’র নজর রয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত