রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বৃদ্ধিতে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী



মৌলভীবাজার জেলা প্রতিনিধি:: অব্যাহত বৃষ্টির কারণে মৌলভীবাজারের রাজনগরের কাউয়াদীঘি হাওরে পানি বৃদ্ধি হচ্ছে প্রতিদিনই। এ কারণে জেলার রাজনগর ও সদর উপজেলার ৫০ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। প্রধান সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত। সরেজমিনে রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ঢেউবন ও উত্তরসারমপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, এলাকার লোকজনের চলাচলের প্রধান পাকা সড়ক মধুর দোকান-সারমপুরের প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ পানির নিচে তলিয়ে আছে। কোথাও হাঁটুপানি আবার কোথাও কোমরসমান পানি। অনেকে নৌকা দিয়ে চলাচল করছেন। নিচু এলাকার বাড়িঘরে পানি উঠেছে। বাড়িতে বসবাসকারী লোকজন ঘরের ভেতরে বসেই টুকটাক কাজ সারছেন। স্থানীয় লোকজন বলেন, মাসখানেক ধরে পানি আছে। ঈদুল ফিতরের সময় থেকে পানি বাড়ছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে সবচেয়ে বেশি পানি উঠেছে।
ঢেউবন গ্রামের সুধাংশু সরকার (৩০) জানান, কেউ বাড়িঘরে মাচা বেঁধে বাস করছেন। কেউ বাড়িঘর ছেড়ে চলেও গেছেন। উত্তরসারমপুর গ্রামের রশিদ আহমদ (৩০) নৌকা বানানোর কাজ করেন। তিনি বলেন, পানির লাগি মাইনসে ঘর থাকি বারইতো পারের না। এখন যে পারের, নাও বানার।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানান, কাউয়াদীঘি হাওরের বন্যায় রাজনগর উপজেলার ফতেহপুর ও পাঁচগাঁও ইউপি’র প্রায় পুরোটা এবং মুন্সীবাজার, মনসুরনগর, রাজনগর সদর ও উত্তরভাগ ইউপি’র আংশিক প্লাবিত হয়েছে। মৌলভীবাজার সদর ইউপি’র একাটুনা ও আখাইলকুরা ইউপি’র হাওরসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে।
পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কে মাসখানেক ধরে বাস চলাচল বন্ধ আছে। সড়কের প্রায় ৫ কিলোমিটারের বিভিন্ন স্থান পানিতে তলিয়ে রয়েছে। অল্প কিছু গ্যাসচালিত অটোরিকশা যাত্রী আনা- নেওয়া করেছে। গত কয়েকদিন ধরে সেগুলোও বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রীরা। রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কের আখালি সেতুর কাছে গিয়ে দেখা গেছে, অন্তত ১০টি নৌকা এসে ভিড়েছে। নৌকাগুলো আশপাশের গ্রাম থেকে এসেছে। সেখানে সড়কের ওপর দাঁড়িয়ে আছে ৭/৮টি অটোরিকশা। নৌকায় আসা লোকজন এখান থেকে অটোরিকশায় রাজনগর উপজেলা সদর, জেলা সদরসহ বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন। গ্যাসচালিত অটোরিকশা চালক শিবলু মিয়া জানালেন, প্রায় একমাস ধরে বাস চলাচল বন্ধ। কিছু অটোরিকশা চলতো। এখন সবকিছু একবারে বন্ধ হয়ে গেছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) মৌলভীবাজার কার্যালয় সূত্র জানায়, কাউয়াদীঘি হাওর থেকে কুশিয়ারা নদীর পানি সামান্য নিচে। মনুনদী প্রকল্পের কাশিমপুরে স্থাপিত পাম্প হাউসের গেট খুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু খুব একটা পানি কমছে না। বৃষ্টি হলেই পানি বাড়ছে।
পাউবো মৌলভীবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (যান্ত্রিক) আনিসুর রহমান জানান, বিশাল অঞ্চলজুড়ে কাউয়াদীঘি হাওর। প্রতিদিন যে পরিমাণ বৃষ্টি হচ্ছে তা পাম্পে সেচ দিয়ে বের করা সম্ভব নয়। এই পাম্প মূলত আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষার জন্য করা হয়েছে। এতো পানি সেচ দেওয়ার সুযোগ নেই। কুশিয়ারার পানি হাওরের নিচে নামলে গেট খুলে দেওয়া হচ্ছে। কুশিয়ারার পানি ওপরে থাকলে গেট বন্ধ থাকে।
এ বিষয়ে পাঁচগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান শামসুন নূর আহমদ জানান, দিন দিন পানি বাড়ছে। এ ইউনিয়নে ৩৭টি গ্রামের ৩৫টিই প্লাবিত হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত