রবিবার, ২১ জুলাই ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ শ্রাবণ ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

দ্রুত রাশিয়া ছাড়ুন, ৭৫৫ মার্কিন কূটনীতিককে পুতিন



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: রাশিয়ায় কর্মরত ৭৫৫ মার্কিন কূটনীতিককে অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম- বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, রাশিয়ার ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রাক্কালে এই ধরণের ঘোষণা দিলেন পুতিন। জানা গেছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ওইসব কর্মকর্তাদের রাশিয়া ত্যাগ করার সময় বেঁধে দিয়েছেন তিনি।
এছাড়া প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশ্নে আরও কঠোর হবেন, এমন হুশিয়ারিও দিয়েছেন পুতিন। বিবিসি জানাচ্ছে, শুক্রবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পুতিন নিশ্চিত করেছেন ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দেশত্যাগ করতে হবে মার্কিন কর্মকর্তাদের। এই অব্যাহতি আধুনিক সময়ে সবচেয়ে বেশি কূটনীতিক প্রত্যাহারের ঘটনা। এখন মার্কিন দূতাবাসে কর্মীর সংখ্যা থাকলো ৪৫৫। ওয়াশিংটনে রুশ দূতাবাসেও সমান সংখ্যক কর্মী রয়েছে।

রবিবার রাতে রশিয়া ওয়ান টিভি চ্যানেলকে দেয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে পুতিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়া সম্পর্ককে খারাপ করবে এমন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটি বিধিবহির্ভূত নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রাশিয়ার সঙ্গে সু-সম্পর্ক রয়েছে এমন রাষ্ট্রসহ পৃথিবীর অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোকেও নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এখানে এটি উল্লেখ করা গুরুত্বপূর্ণ যে, এই বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের উস্কানি ছিল না।
মস্কোতে দূতাবাস ছাড়াও একাতেরিনবার্গ, ব্লাদিভস্তকক ও সেন্ট পিটার্সবার্গে কনস্যুলেটগুলো থেকেও মার্কিন কূটনীতিককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তা জানায়, এই পদক্ষেপ খুবই দুঃখজনক। পররাষ্ট্র দফতরের এক মুখপাত্র জানান, আমরা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করছি এবং এর জবাবের চিন্তা করছি। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতার মুখেও গত বুধবার রাশিয়ার উপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপে হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে বিল পাস করে। এছাড়া ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানোর কারণে ইরান এবং নর্থ কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপেও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা একমত হন। ক্রিমিয়া ইস্যু ছাড়াও রাশিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য অবরোধ রয়েছে।

গত ডিসেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হ্যাকিংয়ের অভিযোগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ৩৫ রুশ কূটনীতিককে আমেরিকা থেকে তাড়িয়ে দিয়ে দেশটির দুইটি দূতাবাস বন্ধ করেছিলেন। ২০১৪ সালে ইউক্রেন সংকট শুরুর পর থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছিলো আমেরিকা। বিবিসি ও সিএনএন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত