মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নবীগঞ্জে সিসি ক্যামেরার যে দৃশ্য নিয়ে তোলপাড়



নবীগঞ্জ প্রতিনিধি:: হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে যৌতুকের দাবীতে এক গৃহবধূকে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গৃহবধূ রোকিয়া বেগম বাদী হয়ে স্বামী কাছন মিয়াকে একক আসামী করে গত রবিবার সকালে হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। আদালতে মামলা করায় ক্ষিপ্ত হয়ে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রোকিয়া বেগমের পিতার বাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্যে হামলা চালায় কাছন মিয়া। যা বাড়িতে লাগানো সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ধরা পড়ে। এসময় তার খুঠিঁর জোর নিয়েও প্রত্যক্ষদর্শী অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। এমনকি সে দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা সেবন ও রমরমা ব্যবসা করে আসছে বলেও মামলায় উল্লেখ করেছে তার স্ত্রী।
গৃহবধূ রোকিয়া বেগম উপজেলার গজনাইপুর ইউনিয়নের কান্দিগাঁও গ্রামের ধন মিয়ার মেয়ে। মামলার আসামী রোকিয়ার স্বামী কাছন মিয়াও একই গ্রামের মৃত আতিক উল্লার ছেলে।
মামলা ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১৬/১৭ বছর পূর্বে রোকিয়ার সাথে কাছন মিয়ার বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের ঔরষজাত ৪ সন্তান রয়েছে। বিয়ের কয়েক বছর পর থেকেই কাছন মিয়া মাদকের নেশায় ঝুকে পড়ে। প্রতিনিয়তই নেশা করে রাতে বাড়িতে গিয়ে কারণে অকারণে স্ত্রীকে মারধর করে। যৌতুকের দাবীতে রোকিয়া বেগমকে একাধীকবার মারপিটের ঘটনা সামাজিকভাবে সমাধান হয়। যা এলাকাবাসী ও সালিশ বিচারকগন জানান।
গৃহবধূ রোকিয়া জানান, একাধীকবার নির্যাতনের শিকার হয়েও ৪ সন্তানের সুখের কথা চিন্তা করে তিনি আমেরিকা প্রবাসী ভাইয়ের নিকট থেকে দুই কিস্তিতে প্রায় ১০ লক্ষ টাকা এনে দেন। এর কিছু দিন পর থেকে আবারো মধ্যযুগীয় কায়দায় হাত পা বেধে বেধড়ক মারপিট করে। শরীরের এমন স্থানে আঘাত করে যার চিহ্ন কাউতে দেখানোর মতোও নয়। বেশ কিছুদিন পূর্বেও তাকে মারপিট করে পিত্রালয়ে পাঠিয়ে দেয়। পরে বিষয়টি স্থানীয় চেয়ারম্যানসহ এলাকার মুরুব্বিয়ান আপোষে মিমাংসা সমাধান করে দেন। এসময়ও আসামী কাছন মিয়া তার স্ত্রীকে যৌতুকের জন্য মারপিট করবেননা মর্মে মৌখিক ভাবে অঙ্গীকার করেন। এদিকে গত কয়েক দিন ধরে আবারোও রোকিয়ার আমেরিকা প্রবাসী ভাইয়ের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা এনে দেয়ার জন্য রোহার পাইপ দিয়ে মারপিট করলে দু হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জকমপ্রাপ্ত হয়। এ ঘটনায় রোকিয়া বেগম বাদী হয়ে স্বামী কাছন মিয়াকে একক আসামী করে গত রবিবার হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা দায়ের করেন। মোবাইল ফোনে ধারণ করা চিত্র গুলোই প্রমান করে স্ত্রী কতটা অমানুষিক নির্যাতন করে কাছন। এদিকে আদালতে মামলা করেও যেন বিপাকে পড়েছে অসহায় পরিবারটি। রোকিয়ার পিতা ধন মিয়া মহুরী এলাকার একজন বিশিষ্ট মুরুব্বি, তিনি অসুস্থ অবস্থায় ঘর থেকে বের হতে পারেননা। এ অবস্থায় এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত কাছন মিয়া ক্ষিপ্ত হয়ে মামলাটি তুলে নেয়ার জন্য বাদী পক্ষকে বিভিন্নভাবে হুমকি ধামকি প্রদান করছে। এমনকি গতকাল মঙ্গলবার সকালে রোকিয়া বেগমের পিতার বাড়িতে গিয়ে প্রকাশ্যে হামলা চালায় কাছন মিয়া। রোকিয়াকে লক্ষ করে ইট নিক্ষেপ করার দৃশ্য ধরা পড়ে সিসি ক্যামেরায়। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ‘‘আমরা রাস্তা দিয়ে হেটে যাচ্ছিলাম, হঠাৎ দেখি কাছন মিয়া হাতে একটি ইট নিয়ে দৌড়ে গিয়ে ধন মিয়ার বাড়িতে নিক্ষেপ করেন।” এ সময় ধন মিয়ার পরিবারের লোকজনসহ আশপাশের মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। ভয়ে মুখ খুলে কথা বলার সাহস পায়নি কেউ। এঘটনায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। ৪ সন্তানও কাছন মিয়ার কাছে রয়েছে বর্তমানে। এ ব্যাপারে আসামী কাছন মিয়ার সাথে অনেক চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত