সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধে অনিয়ম ও অপমান জনক বক্তব্যে দুর্যোগ সচিব শাহ কামালসহ ১৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের দায়ে ও উদ্ধত্য ও অপমান জনক বক্তব্যে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল সহ ১৪০ জন পাউবো, পিআইসি ও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে জেলা আইনজীবী সমিতি। গতকাল সকালে সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ মামলা দায়ের করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল হক। মামলা নং-১২/২০১৭ইং। মামলার প্রেক্ষিতে দুদককে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। অভিযুক্তদের মধ্যে দুর্যোগ সচিব শাহ কামাল ছাড়া পাউবো’র ১৫ জন কর্মকর্তা, পিআইসি ৭৮ জন ও ঠিকাদার ৪৬ রয়েছেন। পিআইসিদের মধ্যে রয়েছেন ৩ জন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ৩১ জন ইউপি সদস্য ও ১ জন মহিলা সদস্যা। এর আগে দুদক পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদারসহ ৬১ জনকে অভিযুক্ত করে সদর মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করে দুদকের সহকারী পরিচালক ফারুক আহমদ। আইনজীবীদের অভিযোগের এজাহারে উল্লেখিত পাউবো কর্মকর্তা ও ঠিকাদার অনেকেই দুদকের দায়ের করা অভিযোগে তাদের নাম রয়েছে। নতুন করে পিআইসিদের অভিযুক্ত করে এজাহার দাখিল করায় জেলার সর্বত্র দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনার দাবী জোড়ালো হচ্ছে। এজাহারে ২৯ জনকে স্বাক্ষীর মধ্যে ১২ জনই গণমাধ্যমকর্মী। এছাড়া স্বাক্ষী হিসেবে আছেন, সাবেক জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম ও বর্তমান জেলা প্রশাসক মো: সাবিরুল ইসলাম, তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, কমিউনিস্ট পাটির সভাপতি চিত্তরঞ্জন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান, মালেক হোসেন পীর, সালেহীন আহমদ চৌধুরী, ইউপি সদস্যা মনেসা বেগম, আকবর হোসেন। বাকিরা সবাই জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য। অভিযোগ পাঠ করে জানা যায়, হাওর এলাকায় বাঁধ নির্মাণে পাউবো বিভিন্ন প্রকল্প পিআইসি ও ঠিকাদার দিয়ে কাজ করানো হয়। নির্দিষ্ট পরিমাণ মেয়াদ ও বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু তারা মেয়াদের মধ্যে কাজ করা দুরে থাক অনেক ক্ষেত্রে কাজ শুরুই করেননি। বরাদ্দকৃত টাকা পিআইসি ও ঠিকাদারদের দিয়ে দেয়া হয়। ফলে পাউবো’র দুর্নীতি ভুক্তভোগীদের চোখে দৃশ্যমান হয়। এবং মানবসৃষ্ট দুর্যোগে ছোট বড় সকল হাওর তলিয়ে যায়। ফসল ডুবিতে দেখা দেয় জেলায় হাহাকার। আরো জানা যায়, পাউবো’র কাগজপত্রে পিআইসি’র কোন সঠিক হিসেব নেই। কোন হিসেবে ২৪৬টি, কোন হিসেবে ২৩৯টি পিআইসি’র তালিকা পাওয়া যায়। পিআইসি গঠিত হয় বাঁধ এলাকায় ইউপি সদস্য বা চেয়ারম্যানকে সভাপতি ও একজন স্বতন্ত্র ব্যক্তিকে সাধারণ সম্পাদক ও কয়েকজনকে সদস্য করে ৫/৭ জনের সমন্বয়ে পিআইসি কমিটি গঠিত হয়। এদের দেখভাল দায়িত্ব পাউবো’র। পাউবো’র গাফলিতে অর্থ আত্মসাতে সক্রিয় হয় পিআইসিরা। কোথায় কোথায় পিআইসি কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম পাওয়া যায়নি। নম্বর আছে কিন্তু লোক নেই। দুর্নীতি ও লুটপাটের উদ্দেশ্যেই এরকম কাল্পনিক নাম সৃজন করে পিআইসি গঠন করে কোটি টাকা পকেটস্থ করার অভিযোগ করা হয়েছে। জেলার ৩৯টি পিআইসি হাওররক্ষা বাঁধের কোন সংস্কার কাজ করেনি। কাজ না করেই বিল তুলে নিয়ে গেছে। এদিকে দুর্যোগ সচিব শাহ কামাল এর ‘কিসের দুর্গত এলাকা একটি ছাগলও তো মারা যায়নি’ এমন উদ্ধত্য ও অপমান জনক বক্তব্যে উপর ৫০৫(১) ধারার অপরাধ সংঘটন হয়েছে বলে অভিযোগ আনেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত