মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চার উপজেলায় টিলার চূড়োয় লক্ষাধিক মানুষের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস



জালাল আহমদ:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা, জুড়ী, কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলসহ মৌলভীবাজারের চার উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় পাহাড়-টিলা কেটে ঘরবাড়ি তৈরি করে চরম ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে লোকজন। এসব স্থানে ভূমিধ্বসের আশংকা থাকায় প্রশাসন লোকজনকে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে। তবে অনেকে প্রশাসনের কথা শুনছে না। লোকজন সরে না যাওয়ার মূল কারণ, দখল করা টিলাভূমি যদি পরে না পাওয়া যায়। তাদের কাছে টিলাভূমি মূল্যবান, জীবন নয়!
সূত্র জানায়, বড়লেখা উপজেলার ডিমাই, শাহবাজপুর এলাকা; জুড়ী উপজেলার ভজিটিলা; কমলগঞ্জ উপজেলার কালেঙ্গা ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার মোহাজেরাবাদ এলাকা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। এসব স্থানে খাসটিলার চূড়ো ও নিচে বাস করা বেশিরভাগ মানুষই বাস্তুহারা।
জুড়ী উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ ভজিটিলার ৭৪টি পরিবারকে সরিয়ে পাশের কেবি ইয়াহিয়া, বিশ্বনাথ এবং চম্পকলতা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিন্টু চৌধুরী জানান, ভজিটিলা ছাড়াও দু’একটি ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কিছু পরিবার আছে। মাইকিং করে লোকজনকে সতর্ক করা হচ্ছে।
বড়লেখা উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে সদর ইউনিয়নের ডিমাই এবং দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের বোবারথলসহ আরও কয়েকটি এলাকা। বড়লেখা সদর ইউপি চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদ জানান, উত্তর ও দক্ষিণ ডিমাই এলাকায় অন্তত ৫ হাজার মানুষ খাসজমিতে টিলা কেটে বাড়িঘর বানিয়েছে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিও টিলার মাটি কাটছে। লোকজনকে সতর্ক করে মাইকিং করা হয়েছে। এই ডিমাই এলাকার-ই বিওসি কেছরীগুল (বতাউড়া) গ্রামে গত ১৭ জুন রাতে টিলাধ্বসের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আছিয়া বেগম ও তার মেয়ে স্কুলছাত্রী ফাহমিদা বেগম নিহত হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, ডিমাই এলাকটি দুর্গম। ঝুঁকিপূর্ণ এই এলাকায় টিলার আশপাশে না থাকতে অনুরোধ করা হচ্ছে। তবে লোকজন সরতে চায় না। অনেক চেষ্টায় অন্তত ২০টি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া দক্ষিণভাগ, শাহবাজপুর ইউনিয়নের কিছু ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে লোকজন আছে। তাদেরও সরানোর চেষ্টা চলছে।
কমলগঞ্জ উপজেলার সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা কালেঙ্গা। সেখানেও টিলা কেটে অনেকে ঘরবাড়ি বানিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা লিপি বেগম (২৫) জানান, আমরা গরিব মানুষ, এর লাগি এত উফরে থাকি। যদি টাকা-পয়সা সরকারে দিত, এনো থাকতাম না। মরার ঝুঁকি লাইয়া থাকলামনানে। এখন আর কিতা করমু? আল্লায় রাখতা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হক সম্প্রতি কালেঙ্গা এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় দুটি পরিবারকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি জানান, উপজেলার কয়েকটি এলাকায় টিলার মধ্যে লোকজনের বসবাস রয়েছে। তবে কালেঙ্গাই ঝুঁকিপূর্ণ। লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের মোহাজেরাবাদ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি পরিবার প্রশাসনের আহ্বানে নিরাপদ স্থানে সরছে না। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোবাশে^রুল ইসলাম জানান, মোহাজেরাবাদ এলাকায় খাসজমিতে কয়েকটি পরিবারের বসতি রয়েছে। অনুরোধ করার পরও তারা সরছে না।
এদিকে জেলার কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়ন; রাজনগর উপজেলার মুন্সীবাজার, টেংরা ও উত্তরভাগ ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার সদরের চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় ছোটো ছোটো টিলায় কিছু পরিবার বাস করছে। সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ বলছেন, এসব স্থান খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম জানান, জেলায় মোট কতোসংখ্যক মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে, এর সঠিক পরিসংখ্যান এখনও পাওয়া যায়নি। তবে বড়লেখা, জুড়ীসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার স্থানগুলো থেকে লোকজনকে সরাতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত