মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

গাছে বেঁধে অন্তঃসত্ত্বাকে নির্যাতন : ৯ সপ্তাহ আগেই সন্তান প্রসব



নিউজ ডেস্ক::গরু চুরির মিথ্যা অভিযোগে গাছে বেঁধে নির্যাতনের শিকার সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শেফালী বেগম নির্দিষ্ট সময়ের আগেই কন্যাসন্তান প্রসব করেছেন।

নির্যাতনের ঘটনাটি ঘটে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় গত শুক্রবার। নির্যাতনে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হয়। এক পর্যায়ে তার পরিবারের সদস্যরা শনিবার শেফালীকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।

ঘটনা সূত্রে, গত শুক্রবার গরু চুরির অভিযোগে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শেফালী বেগমকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করে এলাকার এক প্রভাবশালী। নির্যাতনে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় চিকিৎসা কেন্দ্রে নেয়া হয়। সেখানেও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র তাকে মাদক মামলায় জড়িয়ে দেবে এমন হুমকি দিলে সে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করে।

সোমবার বিকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার সন্তান জন্ম নেয়। তবে সময়ের আগে জন্ম হওয়ায় নবজাতকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসি সুলতানা জানান, সময়ের ৯ সপ্তাহ আগে ৯০০ গ্রাম ওজন নিয়ে শিশুটির জন্ম হয়। প্রসূতির অবস্থা কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও নবজাতক শিশুর অবস্থা সংকটাপন্ন। শিশুটিকে নবজাতকের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। এছাড়া প্রসূতিকেও পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

উল্লেখ্য, জমি সংক্রান্ত মামলা তুলে না নেয়ায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এলাকার কিছু প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী মহল শেফালীকে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতন চালায়। এ ঘটনায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়। সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা শেফালী এ সময় জ্ঞান হারিয়ে ফেললে প্রভাবশালীরা চলে যায়।

পরে তার আত্মীয়স্বজনরা তাকে চিকিৎসা কেন্দ্রে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে শেফালীর মামা সহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ১৯ জনের বিরুদ্ধে ডিমলা থানায় মামলা করেন। পুলিশ এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম, খালেকুম বেগম এবং গ্রাম পুলিশ সদস্য রশিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত