শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মৌলভীবাজারে অতিবর্ষণ : চা উৎপাদন হ্রাসের আশংকা



জালাল আহমদ:: অতিবর্ষণের কারণে মৌলভীবাজারে চা উৎপাদন হ্রাসের আশংকা করছে জেলার ৯৩টি চা বাগান কর্তৃপক্ষ। গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টিপাত হয়েছে এবার। বৃষ্টিতে চা বাগানের উপরিতলার মাটি সরে গেছে। সার ভেসে গেছে। মশাসহ পোকা-মাকড়ের আক্রমণ বেড়েছে। চা গাছের কুঁড়ির বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে। আশংকা করা হচ্ছে, চা’র উৎপাদন গতবারের চেয়ে ১৫-২০ শতাংশ কম হবে।
চা বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশীয় চা সংসদ ও চা বোর্ড সূত্র জানায়, এ বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বৃষ্টি শুরু হয়েছে। শুরুতে বৃষ্টি হওয়ায় চা গাছে নতুন কুঁড়ি আসতে থাকে। এই বৃষ্টিপাতকে চা পাতা উৎপাদনের জন্য আশীর্বাদ বলেই ধরে নিয়েছিলেন উৎপাদনকারীরা। কিন্তু এই অবস্থা থাকেনি। অতিবর্ষণ, লাগাতার বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়া চা উৎপাদনের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বৃষ্টির কারণে চা বাগানের মাটি বৃষ্টির শুরু থেকেই স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে। অতিবর্ষণে চা বাগানের উপরিভাগের মাটি আলগা হয়ে বৃষ্টির পানিতে ভেসে গেছে। বাগানে প্রয়োগ করা সারও ভেসে গেছে। সারাক্ষণ মাটি ভেজা থাকায় চা গাছ বাড়তে পারছে না। লাগাতার বৃষ্টি ও মেঘলা আবহাওয়ার কারণে চা বাগান প্রয়োজনীয় রোদ পায়নি। এতে করে চা গাছে মশা, লাল মাকড়সাসহ বিভিন্ন রোগের আক্রমণ দেখা দিয়েছে। গাছ দুর্বল হয়ে পড়ছে। গাছ দুর্বল হলে কুঁড়ির উৎপাদন কমে যায়। জেলার ৯৩টি চা বাগানে কমবেশি এ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
গত বছর বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ চা উৎপাদিত হয়েছিলো। উৎপাদনের পরিমাণ ছিলো ৮৫ মিলিয়ন কেজি। এবার সেই পরিমাণ না হয়ে চা উৎপাদন না হওয়ার আশংকা করছেন চা উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। আশংকা করা হচ্ছে, অতিবর্ষণের কারণে ১৫-২০ শতাংশ চা উৎপাদন কম হবে। বৃষ্টি কমে গেলেও যদি তাপমাত্রা কমে যায়, তাহলেও উৎপাদন কম হবে।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। গত বছর এই সময়ে এর পরিমাণ ছিলো ১ হাজার ৪০০ মিলিমিটার। শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ পর্যবেক্ষক হারুন-অর-রশীদ জানান, বিগত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বৃষ্টি হয়েছে। আর আগের বছরগুলোর তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।
বাংলাদেশীয় চা সংসদের সিলেট ব্রাঞ্চ চেয়ারম্যান গোলাম মো: শিবলী জানান, চায়ের জন্য যেমন বৃষ্টি দরকার, তেমনি রোদও দরকার। এতো বৃষ্টি হয়েছে যে, তাতে টপ-সয়েল ধুয়ে গেছে। সার ধুয়ে গেছে। গত দুই মাসে যা বৃষ্টি হয়েছে, বিগত ২০ বছরেও এই সময়ে এতো বৃষ্টি হয়নি। বৃষ্টির কারণে গাছ অসুস্থ হয়ে পড়ছে। মশা, লাল মাকড়সা বাড়ছে। এখন পর্যন্ত অন্য বছরের তুলনায় চায়ের উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে ২০ শতাংশ কম আছে। রোদ ও বৃষ্টি স্বাভাবিক হলে হয়তো কিছুটা কাভার করা যাবে। কিন্তু পুরোটা কাভার করা সম্ভব হবে না।
বাংলাদেশ চা বোর্ডের চা বাগান কোষ মহাব্যবস্থাপক শাহজান আকন্দ জানান, দৈনিক অন্তত ১১ ঘণ্টা চা গাছের রোদ পাওয়া দরকার। লাগাতার সূর্যের আলো পায়নি চা গাছ। মাটি স্যাঁতস্যাঁতে হয়ে আছে। তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। এতে গাছ বাড়তে পারছে না। মশার আক্রমণও জোরদার হচ্ছে। মশা চা গাছের কুঁড়ি নষ্ট করে ফেলছে। এর মধ্যে সেপ্টেম্বরের দিকে যদি তাপমাত্রা কমে যায়, তাতেও সমস্যা। উৎপাদন কমে যাবে। বৈশ্বিক তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে এবার বর্ষণ ও বর্ষণের সময় অস্বাভাবিক ছিলো বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত