রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মনু, কুশিয়ারা ও হাওরে পানি বৃদ্ধি : আমন চাষ ব্যাহত



রাজনগর সংবাদদাতা ::দুদিনের টানা বর্ষণ ও ঢলে মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কাউয়াদিঘি হাওরসহ মনু ও কুশিয়ারা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়াও কাউয়াদিঘি হাওরের পানি বৃদ্ধির কারণে আমন চাষ ব্যাহত হচ্ছে। বোরোর পর আমন চাষ করা না গেলে অনাহারে দিন কাটাতে হবে কৃষকেদের। এদিকে ধলাই নদীর পনি উপছে কড়াইয়া হাওরের ১ হাজার একরেরও বেশি রোপা আমন তলিয়ে গেছে। উপজেলার ১৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এতে বিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রছাত্রীর উপস্থিতি একে বারেই কমে গেছে। গত ৩ মাসধরে মৌলভীবাজার-রাজনগর-বালাগঞ্জ সড়কে যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তিন মাসের অধিক সময় ধরে জেলার কাওয়াদিঘি হাওরে পূর্বের কয়েক দফা বন্যার পানিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় জীবনযাপন করছে। এতে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত মানুষের দুর্ভোগ ও ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। এদিকে ধলাই নদীর পানি উপচে কামারচাক ইউনিয়নের কড়াইয়া হাওরের ১ হাজার একর রোপা আমন তলিয়ে গেছে। কাউয়াদিঘি হাওরের পানি বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমন চাষের মৌসুম শেষ হয়ে এলেও আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে এখনো আমন চারা রোপণ করতে পারেননি কৃষকরা। বোরো মৌসুমের পর এবার আমন চাষ ক্ষতিগ্রস্ত হলে না খেয়ে মরতে হবে কৃষকদের। উপজেলার কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবছর উপজেলায় ১১ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে রোপা আমন চাষ হয়।
কাওয়াদিঘি হাওরপারের রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের কেওলাগ্রামের সিরাজুল ইসলাম জানান, কাওয়াদিঘি হাওরে ইতোমধ্যে এক ফুটের অধিক পানির উচ্চতা বেড়ে গেছে। এতে পূর্বের সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় পানিবন্দি মানুষের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা আরও বেড়ে গেছে। তিনি আরো বলেন, হাওরের বোরো ধান ঘরে তোলা যায়নি। এখন যদি আমনও চলে যায় তাহলে কৃষকদের না খেয়ে মরতে হবে।
রাজনগরের মোকামবাজার এলাকার ফারুক আহমদ জানান, ধীরগতিতে কিছু কিছু এলাকায় পানি কমলেও গত দিনের বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা যেই সেই হয়ে গেছে। মনু প্রকল্পের পাম্প হাউসের ৮টি পাম্প কাউয়াদিঘি হাওরের পানি নিস্কাষণে তেমন প্রভাব ফেলতে না পারায় মানুষের দুর্দশা লাঘবে কোনো ভূমিকা রাখতে পারছে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শেখ আজিজুর রহমান বলেন, ধলাই নদীর ভাঙন দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করায় প্রায় হাজার একর জমি তলিয়ে গেছে। এছাড়াও কাউয়াদিঘি হাওরের জলাবদ্ধতার কারণে আড়াই হাজার হেক্টর জমিতে এখনো রোপা আমন চাষ করা যায়নি। কয়েকদিন মধ্যে রোপণ করা সম্ভব হলে ফলন পাওয়া যেতে পারে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত