মঙ্গলবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

এক যুগেও শেষ হয়নি ছাতকে সুরমা সেতুর নির্মাণ কাজ



ছাতক সংবাদদাতা ::ছাতক ও দোয়ারা উপজেলার প্রায় ৯ লক্ষ মানুষের স্বপ্নের সুরমা সেতুর নির্মাণ কাজ এক যুগ ধরে ঝুলে আছে। বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভার একনেকের বৈঠকে সুরমা সেতু নির্মান প্রকল্প নতুনভাবে অনুমোদন দেয়া হয় প্রায় ১০ মাস পূর্বে। কিন্তু ছাতকে সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণ কাজ এখনও শুরু হয়নি। আদৌ সুরমা সেতু নির্মাণ হবে নাকি এভাবেই ঝুলে থাকরে এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে দু’ উপজেলার মানুষের মধ্যে। কাজ শুরু হওয়ার স্পষ্ট ধারনাও দিতে পারছেন না সংশ্লি¬ষ্টরা। এর ফলে সুরমা সেতু নির্মাণ নিয়ে অন্ধকারেই রয়ে গেল দু’ উপজেলার সুবিধা প্রত্যাশী মানুষ। সেতুর সংযোগ সড়ক নিয়ে দেখা দিয়েছে বহুবিধ জটিলতা। তাই এ অঞ্চলের মানুষ স্বপ্নের সেতু নিয়ে আশ-নিরাশার দোলাচলে ভুগছেন।
বিভাগীয় শহর সিলেটের সাথে যোগাযোগের জন্য ২০০৪ সালে ছাতক পৌরসভার ভাজনামহল ও নোয়ারাই ইউনিয়নের বারকাপন এলাকায় সুরমা নদীর উপর সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকার। সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনের নির্বাচনি প্রতিশ্র“তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ওই বছরের ২৩ আগস্ট সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছাতকে এসে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের একটি বিশেষ প্রকল্পের আওতায় ২০০৬ সালে জানুয়ারিতে ১৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরে সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। সেতুটি নির্মাণে সময় বেঁধে দেয়া হয়েছিল তিন বছর। শুরু হওয়ার এক বছরের মধ্যে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নদীর উভয় তীরে সেতুটির চারটি পিলার (স্তম্ভ) নির্মাণ করাই ছিল সেতুর সর্বশেষ কাজ। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেতুর নির্মাণ কাজ অনাকাক্সিক্ষতভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
পরবর্তীকালে প্রকল্পটি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপি থেকে বাতিল করা হয়। তখনই সুরমা সেতুর ভবিষৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১০ সালে এ সেতুটির অসমাপ্ত কাজ শেষ করার জন্য ৫১ কোটি টাকার একটি সংশোধিত নতুন প্রকল্প যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। এ আবেদনটি বিশেষ বিবেচনায় এনে ১শ’১২ কোটি ৯৯ লাখ ৪৯ টাকার পুনঃসংশোধিত প্রকল্প অনুমোদনের জন্য সড়ক ও জনপদ বিভাগের প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ২০১৬ সালের জুন মাসে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে পরিকল্পনা অনুযায়ী সুরমা সেতুর নির্মাণ কাজ বাস্তায়নে অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে প্রায় ২০ মিনিটের বক্তব্যে ছাতক-দোয়রা আসনের সংসদ সদস্য মুহিবুর রহমান মানিক সুরমা সেতু নির্মাণের জোর দাবি জানান। বক্তব্যে তিনি বলেছিলেন, ছাতক সুরমা নদীর উপর ব্রিজ নির্মানের লক্ষ্যে গৃহীত প্রকল্পের অনেক পরে সিলেট ও সুনামগঞ্জের ব্রিজের জন্য প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। কিন্ত দুঃখজনকভাবে সুরমা নদীর উপর কাজিরবাজার সেতু ও সুনামগঞ্জের মলি¬কপুর নির্মাণ কাজ শেষ হয়ে এর সুবিধা মানুষ ভোগ করছেন। এমপি মানিকের দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই অক্টোবর মাসে পরিকল্পিত অ্যাপ্রোচ ও নেভিগেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে সেতু নির্মাণে ১শ’১৩ কোটি টাকার প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। এ খবরে ছাতক-দোয়ারার বিভিন্ন এলাকায় লোকজন মিষ্টি বিতরণ করতে দেখা গেছে। কিন্তু অনুমোদনের ১০ মাস অতিবাহিত হলেও সুরমা সেতুর নির্মাণ কাজ এখনও শুরু করা হয়নি।
জানায় গেছে, সেতু নির্মানে ভূমি অধিগ্রহণের বিষয়ে প্রায় দুমাস পূর্বে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে। সুরমা নদীর দু’ তীরে প্রায় ২০ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি প্রস্তাব আকারে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হলেই এপ্রোচ সড়কের কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে। ইতোমধ্যেই সেতুর দু’পারের সংযোগ অংশের কিছু পাকা কাজও করা হয়েছে। নদীর দক্ষিণ পাড়ে ছাতক-সুনামগঞ্জ সড়কের পাশে সেতুর ঠিক মুখে গড়ে উঠেছে আকিজ গ্র“পের একটি প্রতিষ্ঠান আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানাসহ আরো বেশ কয়েকটি ক্রাশার মিল। রয়েছে রেলওয়েসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেতু নির্মাণে জমি অধিগ্রহণের ব্যাপারে ইতোমধ্যে এডিসি (রেভিনিউ) সেতু এলাকা পরিদর্শন শেষে একটি প্রতিবেদন দাখিল করার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে সেতুর প্রায় ৩০ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে দাবি করছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ।
সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী সজিব আহমদ জানান, মূল সেতুর দরপত্র মুল্যায়ন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এটি অনুমোদনের জন্য সংশি¬ষ্ট মন্ত্রনালয়ে পাঠানো হয়েছে। পূর্বের ৪টি পিলারের সাথে নতুন ৩টি পিলার সংযোজন করেই সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত