শুক্রবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর সীমান্তে এক চাঁদাবাজ গণধোলাইয়ের শিকার



সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি::সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এক চাঁদাবাজ কে গণধোলাই দিয়েছে পাথর ও কয়লা শ্রমিকরা। গণধোলাই খাওয়া চাঁদাবাজের নাম আবুবক্কর সিদ্দিক ওরফে দিপক তাহিরপুর উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী চাড়াগাঁও গ্রামের মৃত কৃষ্ণর ছেলে। গতকাল শুক্রবার গণ ধোলাইয়ের ঘটনাটি ঘটেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিপাত আর উজান থেকে পানি এসে বোরো ও আমন ফসল ডুবে এলাকায় অভাব দিলে হাওর এলাকাসহ সীমান্তবর্তী খেটে খাওয়া ৪ থেকে ৫শ মানুষ তাহিরপুর সীমান্তের চাড়াগাঁও পাহাড়ী চড়া দিয়ে ভেসে আসা মরা পাথর ও কয়লা উত্তোলন করে জিবিকা নির্বাহ করে আসছে। প্রতিনিয়ত বিজিবি, পুলিশ ও সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে দিপকের নেতৃত্বে একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট এসব খেটে খাওয়া শ্রমিকদের নিকট চাঁদাবাজী দাবী করে। না হয় বিজিবির সিও কে দিয়ে এসব পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি দেয়।
শুক্রবার চাড়াগাঁও পাহাড়ী চড়াতে গিয়ে আবার চাঁদা চাইলে শতাধিক নারী পুরুষ শ্রমিকরা প্তি হয়ে চাঁদাবাজ দিপককে গণধোলাই দেয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ৪/৫ জন চাঁদাবাজরা দৌড়ে পালিয়ে যায়। চারাগাঁও গ্রামের শ্রমিক নূরুল ইসলাম, সুলতান, নাজিম উদ্দিন, মিনারা বেগম, রুজিনা ও সুহেল জানায়, বিজিবি, পুলিশ ও সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজ দিপক চাদার পরিমাণ বাড়িয়ে দিতে হবে, না দিলে বিজিবি সিও কে দিয়ে পাথর তোলা বন্ধ করে দিবে বলে হুমকি দিলে এখানে থাকা শ্রমিকরা তাকে গণধোলাই দেয়। এ ব্যাপারে আবু ব্ক্কর সিদ্দিক দিপক চাঁদাবাজির বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, পাথর কিনতে গেলে তাদের সঙ্গে আমার কথাকাঠাকাটি হয় এর ছেয়ে বেশী কিছু নয়।
উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড সদস্য হাসান মিয়া জানান,“ প্রায় সময় সে বিভিন্ন বাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে শ্রমিকদের নিকট থেকে চাঁদাবাজী করতো বলে শ্রমিকাররা আমাকে জানিয়েছে। দুপুরে পাহাড়ী চড়াতে চাঁদাবাজী করতে গেলে এখানে কমর্রত শ্রমিকরা তাকে গণধোলাই দিয়েছে বলে শুনেছি। ”
চারাগাঁও বিজিবি ক্যাম্প কমান্ডার হাবিলদার রফিক জানান, ১২টার দিকে টহলে গিয়ে দেখি ২ থেকে ৩শ মানুষ উত্তেজিত হয়ে দিপক নামে এক ছেলেকে আটক করে গণধোলাই দিচ্ছে। পরে কাছে গিয়ে উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করি।
তাহিরপুর থানার ওসি নন্দন কান্তি ধর জানান, এ বিষয়ে কেউ আমাকে এখনও কিছু বলেনি। তবে শুনেছি এখানে প্রায় সময় একটি চক্র বিভিন্ন বাহিনীর নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি করে থাকে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত