বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

তিন তালাক নিষিদ্ধ করল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট



আন্তর্জাতিক ডেস্ক:: ভারতে ‘তিন তালাক’ প্রদানের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক বিবাহ বিচ্ছেদের প্রথা অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। এটাকে নারী অধিকার কর্মীদের জন্য বড় ধরনের বিজয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রায়ে তাৎক্ষণিক তিন তালাক প্রদানকে ‘অনৈসলামিক’ হিসেবে অভিহিত করে তিনজন বিচারক এ প্রথার বিপক্ষে মত দেন। আর দুইজন মত দেন তিন তালাকের পক্ষে।
বিশ্বে মুষ্টিমেয় কয়েকটি দেশের মধ্যে ভারত একটি যেখানে একজন মুসলিম পুরুষ চাইলেই মিনিটের মধ্যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক বলার মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে। ঐতিহাসিক রায়টি এসেছে ‘তিন তালাক’ প্রথাটিকে চ্যালেঞ্জ করে করা একটি রিট আবেদনের বদৌলতে। রিটটি করেছেন এ পদ্ধতিতে তালাকপ্রাপ্ত পাঁচ নারী এবং অধিকার আদায়ে আন্দোলন করে এমন দুটি সংগঠন।
‘মুসলিম নারীরা ভারতে প্রায় ৭০ বছর ধরে এ ধরনের অত্যচার সহ্য করে আসছে। রায়ের প্রেক্ষিতে বলতে পারি ভারতীয় নারীদের জন্য আজ ঐতিহাসিক একটি দিন, তবে যুদ্ধ এখানেই শেষ নয়। ধর্মীয় গণ্ডি অতিক্রম করে কি পরিমাণ ভারতীয় মুসলিম নারীরা আমাদের সমর্থন জানাচ্ছেন তা আমি বলে বুঝাতে পারব না।’ বললেন- ভারতীয় মুসলিম মহিলা আন্দোলনের কর্মী জাকিয়া সুমন। যারা এ প্রথাটির বিরুদ্ধে আন্দোলন করে আসছে বহুদিন ধরে।
তাৎক্ষণিক বিবাহ বিচ্ছেদ আসলে কি?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় পুরুষদের ‘তিন তালাক‘ প্রদানের মাধ্যমে তাতক্ষণিক বিবাহ বিচ্ছেদের প্রবণতা বেড়েছে। চিঠি, টেলিফোন, খুদে বার্তা, হোয়াটসএপ এবং স্কাইপির মাধ্যমে খুব সহজে বিবাহ বিচ্ছেদগুলো ঘটছে। এটা দশকের পর দশক থেকে চালু হয়ে আসা একটি প্রথা। শরীয়া এবং কোরআন শরীফে যার কোনো উল্লেখ নেই।
ইসলামিক স্কলাররা বলছেন, কোরআন শরীফে স্পষ্ট করে বিবাহ বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ার কথা বিবৃত রয়েছে। এটা একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করে।
আর আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্তরা বলছেন, প্রতিবেশী দেশ ভারত, পাকিস্তানেও মৌখিকভাবে বিবাহবিচ্ছেদ প্রথা নিষিদ্ধ। এখন পর্যন্ত ভারতে সার্বজনীন কোনো বিবাহ ও বিবাহ বিচ্ছেদ আইন নেই।
সুপ্রিম কোর্টের বক্তব্য
বিচারকদের মধ্যে তিনজন ‘তিন তালাকে’র মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদকে ‘অনৈসলামিক, খামখেয়ালীপূর্ণ এবং অসাংবিধানিক’ হিসেবে অভিহিত করেন। তাদের মধ্যে একজন জোসেফ কুরিয়ান বলেন, এটা ইসলামের খুব জরুরি প্রথাগুলোর মধ্যে নয় এবং এতে সুরক্ষার বিষয়টি উপেক্ষিত।
ভিন্ন মতাদর্শের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চে ছিলেন প্রধান বিচারপতি জগদিশ সিং খেহার, জোসেফ কুরিয়ান, রহিন্তন ফালি নরিম্যান, উমেশ ললিত ও আবদুল নাজির।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত