রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সন্তানরা থেকেও নেই, কমলগঞ্জে অনাহারে কাটছে পঞ্চশোর্ধ সাইদুলের



মো.মোস্তাফিজুর রহমান,কমলগঞ্জ:: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুরের কোনাগাঁও শ্রীপুরের বাসিন্ধা সহিদুল হক বাবরু(৬৫) মাটির সঙ্গে যার বসবাস। দু’বছরের উপর ধরে পড়ে আছেন রাস্তাার পাশে একটি জীর্ণ একচালা ঘরে। সন্তানরা থেকেও নেই। বাবাকে রেখে অন্যত্র বসাবাস করছেন। যার ফলে অসহায় অবস্থায় অনাহারে- অর্ধাহারে দিন কাটছে পঞ্চশোর্ধ বয়সের বৃদ্ধ সাইদুলের। অনাহারে জীবন যাপনের কারনে দেহটি কঙ্কালসার হয়ে উঠছে। উপজেলার কোনাগাঁও শ্রীপুরের মৃত মৌলভী আব্দুল করিম এর ছেলে সহিদুল হক বাবরু মিয়া। তার একটি সুখের সংসার ছিল। স্ত্রী ১ ছেলে ২ মেয়ে রয়েছেন। তারা বসবাস করেন শ্রীমঙ্গলের আউটার সিগন্যালের পাশে পূর্ব বিরাহিমপুরে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে চারফুট ভাই পাঁচফুট একটি একচালা ঘরের মধ্যে থাকেন তিনি। বেড়াও ভাঙ্গা। অনেকদিন নাকি বেড়াও ছিলনা। তিনি মাটিতে শুয়ে বা বসে দিন কাটান। আছে একটি নোংরা চট, মাটি দিয়ে ভরা একটি থালা ও কয়েকটি ময়লা প্লাস্টিকের বোতল। তার গায়ে একটি ছেঁড়া শার্ট ছাড়া আর কিছুই নেই। উলঙ্গ অবস্থায় আছেন তিনি। মুখে অগোছালো দাঁড়ি ভর্তি। অনেকটা ময়লা নর্দমার মতো ঘরের অবস্থা। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেন ঘরের মধ্যে। লোকজন রাস্তা দিয়ে যাবার সময় হাত পেতে ভিক্ষা খোঁজেন। কখনো কেহ দেয় আবার কখনো গালি দেয়। পাগল মনে করে ছেলেরা তাকে উত্যক্ত করে। তার সাথে কথা বলতেই তিনি বললেন তার জায়গা জমি ছিল, এখন নেই। সহায়- সম্বল হারিয়ে ফেলেছেন। স্ত্রী,ছেলে-মেয়েরাও তার খোঁজ নেয় না। কখনো খেয়ে আবার কখনো না খেয়ে এখানে পড়ে থাকেন। অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করেছন। সাইদুল হক জানালেন, তার বোন আছে সেও তার স্বামীর বাড়িতে ভাল অবস্থায় আছে। কিন্তু সবাই থেকেও তার কাছে সবাই মৃত মনে হচ্ছে। কেউ তাকে এ অবস্তা হতে মুক্তি দিতে ছুটে আসে না। পাগল মনে করে সন্তানরাই দুরে বসবাস করে। মানুষের দিকে অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে তাকেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এলাকার মানুষজন জানালেন, বাবরু মিয়ার ভাই ফজলুল হক ,ভাত দিতে এসে তার দু’ গালে চড়ায় এবং বলে সে কেনও মরেনা বলে অভিশাপ দেন। আবার কেউ কউে বলেন, সাইদুল পূর্বে জুয়া খেলে ও খারাপ পথে চলে টাকা নষ্ট করেছে,তাই আজ তার এ অবস্থা।
এ ব্যাপারে তার বড় ভাই ফজলুল হক বলেন, আমি যখন ব্রাক্ষণবাজার নামক স্থানে পোষ্ট মাষ্টারের চাকুরিতে কর্মরত ছিলাম তখন ভাইকে দোকান করে দিয়েছিলেন সেটা সে বিক্রী করে দেয়। তিনি বলেন প্রতিদিন তার ভাইকে তিনি ভাত এনে খাওয়ান।
ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আব্দুল হান্নান জানান, তিনি একবার এলাকা থেকে চাঁদা তুলে হাসপাতালে প্রেরন করেছিলেন,সেখানে সে থাকতে চায়না। তিনি বলেন হাসপাতালে নাকি টিস্যু পেপার খেয়ে ফেলতো। তিনি বলেন তার জানামতে সে শ্রীমঙ্গলে থাকতো এবং জায়গা জমি সব বিক্রী করে দিয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত