সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জামালগঞ্জে ব্রাক মাইক্রোক্রেডিটের মাঠকর্মী ও ব্রাঞ্চ ম্যানেজারের দূর্নীতির অভিযোগ



জামালগঞ্জ (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:: সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলায় স্বনাম ধন্যকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক মাইক্রোক্রেডিট সাচনা বাজার ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আশরাফুল আলম ও মাঠকর্মী জুবেদা বেগমের নামে হয়রানী ও ঋন বিতরণের অনিয়মের একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের সাচনা(চৌধুরী পাড়া) গ্রামের স্থানীয় বাসিন্ধা ও সাচনা রামপুর ব্র্যাক কেন্দ্রের সদস্যা বিধান দাসের স্ত্রী বিউটি রানী স্থানীয় ধন্যদশায় ব্যবসা,কাজ কর্ম অর্থ দিয়ে দিন যাপন করে। এসবের উপর ভিত্তি করে রামপুর শাখার ব্র্যাকের মাঠ কর্মী জুবেদা বেগম বিধান দাসের স্ত্রী বিউটি রানীকে ঋন গ্রহনে ব্যবসার প্রসার ঘটানোর মাধ্যমে উদ্বোদ্ধ করে, এভাবে পাঁচটি বছর নিয়মিত ঋণ(১ম ৩হাজার এবং পরে ১০হাজার টাকা) নিয়ে নিয়মিত ভাবে বিউটি রানী যথা সময়ে ঋণ পরিশোধ করে। জুবেদা বেগম নতুন করে রামপুর কেন্দ্রে দায়িত্ব গ্রহনের পর তার মাধ্যমে কিস্তির টাকা পরিশোধ করে বিউটি রানী। নতুন ঋণ ৩৫হাজার টাকা পাওয়ার আশায় একালীন (৩কিস্তি)৬৭০০/(ছয় হাজার সাত শত টাকা) মাসিক সুদে এনে এক কালিন পরিশোধ করলে নতুন কোন ঋণ পায় নি। ১৮/০৬/২০১৭ইং তারিখে ঐ শাখার অন্য সদস্য ঋণ পেলেও বিউটি রানীকে প্রধান করা হয় নি। বরং ২০/০৬/২০১৭ইং তারিখে পূনরায় আবার আসার তারিখ করা হয়। তারিখ অনুযায়ী আবার অফিসে আসলে চত্রুান্তমুলক ভাবে মাঠকর্মী জুবেদা বেগম বিউটি রানীর স্বামী বিধান দাসকে বাহিরে ঘুরে আসতে বলে বাহিরে পাঠিয়ে কৌশলে বিউটি রানীর কাছ থেকে মাঠ কর্মী জুবেদা বিউটি রানীর স্বাক্ষর নিয়ে নেয়। এর ফাঁকে বাহির থেকে ঘুরে এসে টাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে মাঠকর্মী জুবেদা বেগম ৩৯০০/(তিন হাজার নয়শ টাকা) নিতে বলে। ৩৯০০শ টাকা পেয়ে সাথে সাথে মাঠ কর্মীকে ৩৫০০০/(পয়ত্রিশ হাজার টাকার) ঋনের কথা জিজ্ঞাসা করলে এতে রাগ¦ানিত হয়ে জুবেদা বেগম বলে তুমি ঋণ পাবে না তোমার বোনের নিকট অফিস টাকা পাবে। তোমার বোনের টাকা তোমার টাকা থেকে কর্তন করে রেখেছি যদি টাকা ৩৯শত না নিয়ে যাও তবে আমরা ৩৫হাজার টাকা ঋন নিয়েছ বলব। জুবেদা বেগমের এমন কথা শুনে কেন্দ্রর সদস্যদের নিয়ে বিষয়টি অবহিত করলে ব্রাকের ম্যানেজার আশরাফুল আলম মাঠ কর্মী জুবেদা বেগমের সাথে এক মত হয়ে বিধান দাসকে থানা পুলিশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৩৯শত টাকা দিয়ে বের করে দেয়। বিধান দাস নিরীহ প্রকৃতির লোক হওয়ায় বাড়িতে ফিরে গ্রামের গন্যমাণ্য ব্যাক্তিবর্গের সাথে বিধান দাস কথা বললে তারা শান্তনাদেন এবং ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ব্যপারে আসস্ত করে। পরে মাঠকর্মী জুবেদার অনুপস্তিতে কেন্দ্রের সকল সদস্য অফিসে গিয়ে আলোচনা করলে বিধান দাসের স্ত্রী বিউটি রানী ১০হাজার টাকার অতিরিক্ত উক্তোলন করছে বলে ম্যানেজার আশরাফুল আলম ভাউচার দেখায়। উক্ত বিষয়টি ম্যানেজার সুবিচার না করায় বিধান দাস সমিতির সকল সদস্যর নিকট সঞ্চয়ের ১০হাজার টাকা অতিরিক্ত উক্তোলণ দেখিয়ে ৩৯শত টাকা প্রধান করায় বাকী অতিরিক্ত টাকা ১৫/০৮/১৭ইং তারিখে সমিতির সকল সদস্যদের উপস্থিতিতে ও গ্রামের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের সামনে মাঠকর্মী জুবেদাকে সঞ্চয় উক্তোলনের অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার জন্য বললে জুবেদা বেগম আবার রাগান্বিত হয়ে বলে অফিসে স্বাক্ষর দিয়ে সব টাকা নিয়ে আইছ। আমাদের কাছে কোন টাকা তোমার পাওনা নাই। শিপ্রার ঋণের কিস্তির টাকা তোমার কাছ থেকে কর্তন করি নাই। বর্তমানে ১০হাজার টাকা সঞ্চয়ের মধ্যে জুবেদা বেগম ৩৯শত টাকা দিয়ে বাকি ৬হাজার ১শত টাকা আতœসাত করছে বলে অভিযোগে যানা যায়। উক্ত বিষয় বিয়ষ আলোকে ঋণ না পেয়ে ন্যায় বিচারের আশায় জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
সাচনা গ্রামের স্থানীয় বাসিন্ধা বিমল দাস এ প্রতিনিধিকে বলেন,আমি নিজে ঐ বিচারে উপস্থিত ছিলাম,মাঠকর্মী জুবেদা বেগম যে অশালীন আচরন করছে তা বলার মত ভাষা নাই। সে বলে এমন সদস্য আমাদের কেন্দ্রে না থাকলেও চলবে এমন সদস্য আমাদের দরকার নেই।
অভিযোগের অনুলিপিটি,জেলা প্রশাসক,সুনামগঞ্জ, চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ জামালগঞ্জ,চেযারম্যান জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ ও জামালগঞ্জ প্রেস-ক্লাবকে দেওয়া হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাচনা বাজার ব্র্যাক মাইক্রোকেডিট ব্রাঞ্চ ম্যানেজার আশরাফুল আলমের এই নাম্বারে ০১৭২৩Ñ৪৮৬১৬১ যোগাযোগ করলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ:দা:) মনিরুল হাসান বলেন,অভিযোগ পেয়েছি ,তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত