মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘আমার চোখে ভেসে উঠছে ক্ষুধার্ত, নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখচ্ছবি’



নিউজ ডেস্ক::প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিয়ানমারের রাখাইনে জাতি ও ধর্ম নির্বিশেষে সকল নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহনের জন্য জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রদত্ত ভাষণে এই আহ্বান জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘তবে আমার হৃদয় আজ দুঃখে ভারাক্রান্ত। কেননা, আমার চোখে বারবার ভেসে উঠছে ক্ষুধার্ত, ভীত-সন্ত্রস্ত এবং নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের মুখচ্ছবি। আমি মাত্র কয়েকদিন আগেই আমার দেশের কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া কয়েক লাখ রোহিঙ্গার সঙ্গে দেখা করে এসেছি যারা ‘জাতিগত নিধন’-এর শিকার হয়ে আজ নিজ দেশ থেকে জোরপূর্বক বিতাড়িত। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, গত তিন সপ্তাহে বাংলাদেশে ৪ লাখ ৩০ হাজার শরণার্থী এসেছে। অথচ জাতিগত নিধনের শিকার এসব রোহিঙ্গারা হাজার বছরেরও অধিক সময় যাবত মিয়ানমারে বসবাস করে আসছেন।’

শেখ হাসিনা বলেন, আমরা এই মুহূর্তে নিজ ভূখন্ড হতে জোরপূর্বক বিতাড়িত ৮ লাখেরও অধিক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় ও সুরক্ষা দিয়ে যাচ্ছি। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান নৃশংসতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের ফলে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থার ভয়াবহ অবনতি ঘটেছে।

তিনি বলেন, এতে আমরা ভীষণভাবে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত, যখন দেখি এই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া ঠেকানোর জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সীমানা বরাবর স্থলমাইন পুঁতে রাখছে।

সব ধরনের সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলে। আমরা যুদ্ধ চাই না, শান্তি চাই। আমরা অর্থনৈতিক উন্নতি চাই, মানব ধ্বংস নয় মানবকল্যাণ চাই। এটাই হোক আমাদের সকলের লক্ষ্য ।

একজন সন্ত্রাসীর কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোত্র নেই উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি নিজে বেশ কয়েকবার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছি। সে হিসেবে আমি সন্ত্রাসের শিকার মানুষের প্রতি আমার সহানুভূতি প্রকাশ করছি। আমি মনে করি তাঁদের সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৭ দশমিক দুই চার শতাংশ। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে ৩২.১ বিলিয়ন ডলার। দারিদ্র্যের হার ১৯৯১ সালের ৫৬.৭ শতাংশ হতে কমে বর্তমানে ২৩.২ শতাংশ হয়েছে। মাথাপিছু আয় ২০০৫-০৬ অর্থবছরের ৫৪৩ মার্কিন ডলার থেকে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে ১ হাজার ৬০২ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। মানুষের গড় আয়ু ৭২ বছরে উন্নীত হয়েছে। এ-সকল সূচক মূলত আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নকেই নির্দেশ করে ।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ বিনির্মাণের মাধ্যমে জ্ঞান-ভিত্তিক সমাজ গঠনে আমাদের যুবসমাজ মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এমন একটি পরিবেশ তৈরির জন্য কাজ করছি যেখানে তারা যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে এবং প্রকৃত অর্থেই বিশ্ব নাগরিকে পরিণত হবে।’

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত