বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

শিশু ধর্ষণের পর সপরিবারকে ৭ দিন নজরবন্দী



নিউজ ডেস্ক::গাজীপুরের শ্রীপুরে শিশু ধর্ষণের পর সাতদিন ধর্ষিতাসহ পরিবারকে নজরবন্দী করে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার চিনাশুখানিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নজরবন্দী অবস্থা থেকে শিশুর বাড়ি থেকে মাসহ শিশুটিকে উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শিশুর মা অভিযোগ করেছেন, ঘটনা ধামাপাচাপা দিতে স্থানীয় রাজাবাড়ী ইউপির মহিলা সদস্য সুফিয়া বেগম হুমকি দিয়েছেন। শিশুটি স্থানীয় চিনাশুখানিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী। অভিযুক্তের ভাই দুলালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত ধর্ষক একই গ্রামের মৃত রহম উদ্দিনের ছেলে বিল্লাল হোসেন (৪৫) পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তের ভাই দুলাল (৪৮), তার ছেলে রুবেল (২২), স্থানীয় মৃত তাজ উদ্দিনের ছেলে হেলাল উদ্দিন ভূঁইয়াকে (৪৫) অভিযুক্ত করে মামলা রুজু হয়েছে।

শিশুর মা বলেন, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে প্রতিবেশী বিল্লাল হোসেন ঘর ঝাড় দেয়ার কথা বলে তার মেয়েকে ডেকে নেয়। ঝাড়– দিয়ে ফেরার সময় হাত টেনে মুখ চেপে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে এ ঘটনা কাউকে না বলার হুমকি দিয়ে শিশুটিকে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। পরে যৌনাঙ্গে ব্যাথা অনুভূত হলে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শিশুটি তার মাকে ঘটনা খুলে বলে।

রাজাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য সুফিয়া খাতুনের কাছে এ ব্যাপারে বিচার প্রার্থনা করেন। আজ নয় কাল, কাল নয় পরশু বলে ইউপি সদস্য কালক্ষেপন করতে থাকে এবং বাড়ির বাইরে কোথাও যেতে মা মেয়েকে নিষেধ করে। মঙ্গলবার সকালে ইউপি সদস্য, সদস্যের স্বামী, শিশুটির বাড়ির লোকজনকে ডেকে শাসিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে কাউকে কিছু না বলতে এবং কোথাও না যেতে কঠোরভাবে নিষেধ করে। গত বছর সে (শিশুর মা) পূজা উৎসবে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে। এবারও তার নাম দেয়া হয়েছিল।

এ ঘটনার পর মহিলা ইউপি সদস্য অভিযুক্ত ধর্ষক বিল্লালের সাথে যোগ সাজশ করে তাকে বাড়ি থেকে বাইরে যেতে দেয়নি। বাইরে কাজ করলে খাওয়া জুটে, না হয় না খেয়ে থাকতে হয়। কোথাও কাজেও যেতে দেয়নি তাকে। এমনকি চরিত্রহীন মহিলা হিসেবেও গালিগালাজ এবং মানুষের কাছে প্রচার করছে। সে গ্রামের ডেকোরেটরের দোকানে ধোয়া মুছার কাজ করে থাকে।

রাজাবাড়ী ইউনিয়নের মহিলা সদস্য সুফিয়া বেগম বলেন, শিশুর মা ভাল না। তার তিন মেয়েকে আমিই কোলে পিঠে করে মানুষ করেছি। তাই একটু শাসন করেছি।

শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) হেলাল উদ্দিন জানান, গোপনে খবর পেয়ে পুলিশ বৃহষ্পতিবার বিকেলে ভিকটিম ও তার মাকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে শিশুর মা বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছে। ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার অভিযোগে আরও তিন জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তের ভাতিজা রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত