শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ঢামেক হাসপাতাল‘মর্গের ভিতরে যেতে পারি না’



নিউজ ডেস্ক::ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগটি প্রায় অচল। পাচঁটি ফ্রিজের মধ্যে চারটি নষ্ট হয়ে আছে। নেই এক্সেল মেশিনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি। কোনো রকম ভাবে খুঁড়িয়ে চলছে মর্গটি। বৃষ্টি হলেই হাসপাতালের মর্গের সামনে পানি জমে। ফ্রিজের অভাবে লাশের আলামত নষ্ট হয় বলে জানিয়েছন বিভাগীয় প্রধান।

হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের লাশ ঘরটি (মর্গ) এখনো সনাতন পদ্ধতিতে পড়ে আছে। আধুনিকায়ন করা হয়নি। হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগ উন্নত হলেও মর্গটি উন্নত হচ্ছে না। হাসপাতালের জন্য নতুন ভবন করা হয়েছে কিন্তু মর্গের জন্য এখনো কোনো ভবন করা হয়নি। পুরাতন ভবনেই লাশ কাটার কাজ চালাতে হয়।পুরাতন ভবনটি ঢাকা মেডিকেল কলেজের পাশে অবস্থিত। সেখানে অনেক শিক্ষার্থীরা আনাগোনা দেখা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের সব সময় লাশ ঘরের পাশ দিয়ে চলাচল করতে হয়। কারণ আমাদের মেডিকেল কলেজের পাশে মর্গটি। একটু বৃষ্টি হলেই হাটু পানি জমে যায়।আমাদের যেমন সমস্যা হয় তেমনি লাশ আনা নেওয়ার সময়ও সমস্যা হয়। মর্গের পাচঁটি ফ্রিজের মধ্যে চারটি নষ্ট হয়ে আছে। একটি ফ্রিজে মাত্র চারটি লাশ রাখার ধারণ ক্ষমতা থাকলেও তার চেয়ে বেশি লাশ রাখা হয়। পাঁচটি ফ্রিজে বিশটি লাশ রাখা যেত।

বর্তমানে লাশ রাখতে ফ্রিজের সমস্যা পড়তে হয়। ফ্রিজের কারণে লাশ পচে যায়। আর লাশ পচে গেলে আলামত নষ্ট হয়।তাছাড়া মর্গের অধিকাংশ এসি নষ্ট রয়েছে। নেই এক্সেল মেশিনসহ আধুনিক যন্ত্রপাতি। কোনো রকম ভাবে খুঁড়িয়ে চলছে মর্গটি। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের লাশ ঘরে এখনো দুইটি জঙ্গির লাশ আছে। তার সাথে প্রতিনিয়ত অজ্ঞাত লাশ তো আছেই। অজ্ঞাত লাশগুলো রাখতে হিমশিম খেতে হয় মর্গের দায়িত্বপ্রাপ্তদের।

মর্গের ইনচার্জ সিকান্দার বলেন, আমি এখানে অনেক বছর ধরে কাজ করছি। এখানে সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফ্রিজ এবং এসি গুলো নষ্ট। আর জনবল সংকট রয়েছে। মাত্র দুইজন সহযোগি রয়েছে। তার সংখ্যা আরও বাড়াতে হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘আধুনিক যন্ত্রপাতির অনেকটাই অভাব রয়েছে। ফ্রিজের সমস্যার কারণে লাশ পচে গন্ধ বের হয়। মর্গের ভিতরে যেতে পারি না। লাশ পচে গেলে আলামত নষ্ট হয়ে যায়। মৃত্যুর কারণ নির্ণয় করতে পারি না। অনেক সমস্যায় পড়তে হয়। কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হই আমরা। তাছাড়া ফরেনসিক মেডিসিনে কাজ করায় আমাদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস করার সুযোগ নেই।’

তিনি আরও বলেন, এখানে দুইটি জঙ্গির লাশ আছে।প্রতিদিন দুই থেকে তিনটি লাশ আসে। তা ফ্রিজের অভাবে খোলা জায়গায় রাখতে হয়।ফ্রিজগুলো ঠিক করলে এই সমস্যাটা সমাধান হয়ে যেত।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত