বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অন্যের খুশির জন্য যে ১০ টি কাজ করলে কখনো উন্নতি হবে না আপনার !



লাইফস্টাইল ডেস্ক:: জীবনে চলার পথে অনেক রকম মানুষের সাথে একজন মানুষকে মিশতে হয়, চলতে হয়। প্রতিটি মানুষই তার স্বভাব এবং চারিত্রিক দিকে সম্পূর্ণ আলাদা এবং স্বকীয়। সকলের নিজস্ব চিন্তাধারা, বিশ্বাস, মতামত রয়েছে। কিন্তু, আপনি সকলের মাঝেই এমন এক বিশেষ স্বভাবের মানুষদের লক্ষ্য করবেন, যাদের মূল লক্ষ্য এবং কাজ হলো সবসময় অন্যের খুশি বা অন্যের মতামত ও চিন্তাকে প্রাধান্য দেওয়া! হ্যাঁ, অবশ্যই অন্যের খুশিকে প্রাধান্য দেওয়া অথবা অন্যের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া খুবই ভালো একটি চারিত্রিক গুণ। কিন্তু, সেটাও একটি নির্দিষ্ট সীমারেখা পর্যন্ত।
এই ধরণের মানুষগুলো সবসময় চান এবং চেষ্টা করেন যেন তার আশেপাশের সকলেই যেন সবসময় খুশি থাকে। যা অনেক সময় এতোটাই বাড়াবাড়ি আকার ধারণ করে যে, তারা অন্যের খুশির খেয়াল রাখতে গিয়ে নিজেদের অবমূল্যায়ন করে ফেলেন বা নিজেদেরকেই ছোট করে ফেলেন! তারা বুঝতে পারেন না কেউ নিজের ক্ষমতার বাইরে, নিজের সাধ্যের বাইরে, নিজেকে ছোট করে অন্যের জন্যে কিছু করার মাধ্যমেই কেউ ভালো মানুষ হয়ে যায় না!
সকলের কথাতে সায় দেওয়া, সকলের খুশির দিকে সবার আগে খেয়াল রাখা- এই অভ্যাসটি একটা সময়ে চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়ে পড়ে। যা কিনা একজনের ব্যক্তিজীবনের উপর মারাত্মক বাজে প্রভাব ফেলে। আপনিও কি তাদের একজন? তাহলে জেনে নিন, সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে কোন কাজগুলো করলে কখনোই উন্নতি আসবে না আপনার জীবনে।
১/ সকলের সাথে সকল বিষয়েই একমত হবার ভান করা
কারোর কোন মতামতের সাথে একমত হতে না পারলেও ধৈর্য ধরে বিনয়ের সাথে শোনা দারুণ একটি সামাজিক দক্ষতা। কিন্তু, নিজের মতের বিরুদ্ধে গিয়েও সকলের মতামতের সাথে একমত হওয়াটা দারুণ বাজে ব্যাপার। শুধুমাত্র সবার কাছে ভালো হতে চান বলে আপনি হয়তো এমন কোন বিষয়ের সাথে একমত পোষণ করছেন যা আপনার দর্শন, বিশ্বাস কিংবা আপনার চরিত্রের সাথে একেবারেই মেলে না।
২/ অন্য মানুষের সুখী এবং দুঃখী হবার জন্যে নিজেকে দায়ী ভাবেন আপনি
এটা খুবই ভালো অভ্যাস যদি আপনি নিজের মধ্যে এই বোধটা কাজ করাতে পারেন যে, আপনার আচরণের উপরে অন্যের আবেগ অনুভূতি নির্ভর করছে। কিন্তু, আপনি যদি এটা ভেবে থাকেন যে, সকলকে খুশি করার এবং রাখার দায়িত্ব শুধুমাত্র আপনার উপরেও বর্তে আছে, এবং এই দায়িত্ব শুধুমাত্র আপনাকেই পালন করতে হবে- তবে আপনি খুবই ভুল কথা ভাবছেন!
৩/ আপনি খুব ঘন ঘন ‘স্যরি’ বলেন
এর পেছনের একমাত্র কারণ হলো, আপনি সবকিছুতেই নিজেকে দোষারোপ করতে থাকেন। আপনি সবসময় ভয় পান যে, যে কোন কিছুর জন্যে অথবা যে কোন ঘটনার জন্যে আপনার আশেপাশের মানুষজন শুধুমাত্র আপনাকেই দায়ী করবে। যার ফলে, কারণে অথবা অকারণেই প্রতি মুহূর্তেই আপনি শুধু স্যরি বলতে থাকেন যা অনেক বড় একটি চারিত্রিক ত্রুটি।
৪/ আপনার মাথার উপরে সবসময় অনেক বেশী কাজের বোঝা থাকে
আপনি আপনার জীবনে তো বটেই, আপনার প্রতিটি দিনে কী কী কাজ করবেন এবং করবেন না, সেটা একান্তই আপনার একক সিদ্ধান্ত। তবে, আপনি যদি সবসময় নিজের খুশির বাইরে গিয়েও অন্যের খুশিকে প্রাধান্য দিতে থাকেন, তাহলে সবসময় আপনার মাথার উপরে অনেক বেশী পরিমাণে কাজের বোঝা থাকবে। কারণ আপনি সবসময় মনে করেন যে, আপনার আশেপাশের মানুষকে খুশি রাখার জন্যে তাদের কাজগুলো নিজের কাছে নিয়ে নেওয়া উচিৎ!
৫/ আপনি কখনোই ‘না’ বলতে পারেন না
কেউ যেন মনে কষ্ট না পায় সেজন্যে আপনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের কে হ্যাঁ বলে দেন, কারণ আপনি কাউকে না বলতে পারেন না। যদিও, আপনি হ্যাঁ বলেছেন কিন্তু মনে মনে আপনি ঠিকই আপনার মতের বিরুদ্ধে গিয়েই হ্যাঁ বলছেন, যেখানে আপনি ‘না’ বলার জন্যে উদগ্রীব হয়ে আছেন। নিজের মনের বিরুদ্ধে গিয়ে হ্যাঁ বলার পরেও, আপনি একদম শেষ সময়ে গিয়ে কোন মিথ্যে অজুহাত দেখিয়ে পাশ কাটিয়ে ফেলেন। এমন ধরণের আচরণ আপনার ক্যারিয়ার কিংবা ব্যাক্তিগত জীবনের জন্যে মারাত্মক ক্ষতিকর বলেই আপনি কখনোই উন্নতি করতে পারবেন না।
৬/ কেউ যদি আপনার উপর রেগে থাকে তবে আপনি খুব অস্বস্তিতে ভোগেন
আপনার উপরে কেউ রাগ করে আছে, তার মানে এই নয় যে আপনি কোনকিছু ভুল করেছেন। মানুষের আবেগ সবসময় কারণ মেনে এবং সঠিক নিয়মে চলে না। কিন্তু আপনি যদি নিজের শক্ত অবস্থান ধরে না রাখেন এবং সবসময় খুঁত খুঁত করতে থাকেন- কেনো সে রেগে আছে এই ধারণা মনের মধ্যে রেখে দিয়ে, তবে জীবনে সামনে এগিয়ে যাওয়াটা আপনার জন্য খুবই কষ্টকর হয়ে যাবে।
৭/ আপনি যখন যার সাথে থাকেন, তার মতোই আচরণ করেন
ভিন্ন ভিন্ন মানুষের সাথে চলার সময়, মেশার সময় আপনার আচরণে ভিন্নতা আসবে এবং এটা খুবই স্বাভাবিক একটি ঘটনা। তবে কেন এই পয়েন্ট এইখানে উল্লেখ করা হচ্ছে? কারণ, যারা সবসময় অন্যকে খুশি রাখতে চান, তারা আচরণের এই ভিন্নতার মাত্রাকে অতিক্রম করে ফেলেন। অনেক সময় তারা এমন আচরণ করেন, যা তাদের নিজেদের স্বভাব, চরিত্রের সাথে খাপ খায় না একেবারেই।
৮/ আপনি সবসময় নিজের প্রশংসা শুনতে চান
যে কোন ক্ষেত্রেই, যে কেউ নিজের প্রশংসা শুনতে ভালবাসেন। কিন্তু, আপনি যখন সবসময় অন্যকে খুশি রাখার প্রচেষ্টায় মগ্ন থাকেন, তাদের ক্ষেত্রেও এই ব্যপারটি হয়ে থাকে একেবারেই ভিন্ন। আপনি শুধুমাত্র প্রশংসা শুনেই খুশি থাকেন না, সবসময় সকল ক্ষেত্রে, সকলের কাছ থেকেই এটি খুঁজে বেড়ান এবং এর স্থায়িত্ব চান। নিজের প্রতি আপনার বিশ্বাস এবং আস্থা এতোই কম থাকে যে, প্রতিটি পদক্ষেপেই আপনার অন্যের মতামতের উপর নির্ভর করতে হয়।
৯/ ঝামেলা এড়ানোর জন্যে আপনি নিজের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করেন
যেকোন ক্ষেত্রেই, হোক সেটা ব্যক্তিগত জীবনে কিংবা চাকরী ক্ষেত্রে- কোন ঝামেলা যেন শুরু না হয় সেজন্যে আগে থেকে বুদ্ধিমানের মতো আচরণ করা, সেভাবে চলাটা দারুণ একটি চারিত্রিক গুণ। তবে আপনি যদি কোন ঝামেলা এড়ানোর জন্যে নিজের মতের বিরুদ্ধে গিয়ে, নিজের বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গিয়ে, নিজের স্ট্যান্ডার্ড কিংবা নিজের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করেন, তবে সেক্ষেত্রে আপনি শুধুমাত্র যে নিজের কথা ভাবার আগে অন্যের খুশির কথাই ভাবছেন তাই কিন্তু নয়, আপনি নিজেকেও ছোট করে ফেলছেন এবং নিজের উন্নতির পথগুলোও রোধ করে ফেলছেন একই সাথে।
১০/ আপনি কষ্ট পেলেও সেটা স্বীকার করতে চাননা
আপনি কখনোই সুস্থ সুন্দর এবংপরিচ্ছন্ন কোন সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারবেন না, যদি না আপনি আপনার সত্যিকারের আবেগ এবং অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করতে শেখেন, নিজের মনঃকষ্ট নিয়ে সরাসরি কথা বলতে শেখেন। এটা খুব স্বাভাবিক একটি ব্যাপার যে, আপনি কখনো কখনো আপনার চারপাশের মানুষের কোন না কোন আচরণে কষ্ট পাবেন। এটাকে স্বীকার করে, তাদেরকে সরাসরি জানানোর মাধ্যমে আপনি কোন ভুল কাজ করছেন না, বরং সম্পর্কটা মজবুত করছেন। কিন্তু, অন্যের খুশি এবং অখুশির ব্যাপারগুলো যদি আপনার মনের মধ্যে খুব বেশী কাজ করতে থাকে, তবে আপনি এই কাজটি কখনোই করতে পারবেন না। আপনার রাগ, জেদ, মনঃকষ্ট, হতাশা আপনি নিজের মধ্যে চেপে রেখে দিবেন। যা আপনার জীবনে উন্নতির ক্ষেত্রে জন্যে অনেক বড় একটি প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।
অন্যকে খুশি রাখা এবং করার মধ্যে অবশ্যই মানসিক প্রশান্তি কাজ করে এবং এই অভ্যাসটি খুবই চমৎকার। তবে সকল কিছুর ক্ষেত্রেই একটা নির্দিষ্ট সীমারেখা থাকে, যেটা অতিক্রম করলে ক্ষতিটা হয় নিজের। নিজের মূল্যবোধ, নিজের ব্যক্তিত্ব, বিশ্বাস, মতামতকে সবার আগে গুরুত্ব দিতে শিখুন, নিজেকে মূল্যায়ন করতে শিখুন। অন্যের কাছে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করুন। নিজেকে সঠিকভাবে গড়ে তোলার জন্যে, নিজের উন্নতির জন্যে এবং একটি ভালো ভবিষ্যৎ এর জন্যে এই সকল নিয়ম মেনে চলাটা খুবই প্রয়োজন।
সূত্র: Psychology Today.

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত