বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চালের দাম বেশি চাইছে ভিয়েতনাম



নিউজ ডেস্ক ::

প্রথম দফার চেয়ে টনপ্রতি ৪০ মার্কিন ডলার বেশি মূল্য দাবি করেছে ভিয়েতনাম। এর আগে টনপ্রতি ৪৭০ ডলারে বাংলাদেশকে আড়াই লাখ টন চাল দিলেও এবার দাম হাঁকছে ৫১০ ডলার। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ৪৬০ ডলার বলা হলেও তাতে সায় দেয়নি ভিয়েতনাম। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে বাংলাদেশ-ভিয়েতনামের চালের দরদাম ঠিক করা সংক্রান্ত বৈঠক। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে উভয় দেশই ১০ দিন সময় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। তবে বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশ করে কোনো কথা বলতে রাজি হননি সরকারসংশ্লিষ্টদের কেউই।

সোমবার ভিয়েতনামের সাউদান ফুড কর্পোরেশনের উপপরিচালক নাগুয়েন ফ’থাইএর নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল খাদ্য মন্ত্রণালয়ে খাদ্য সচিবের নেতৃত্বে জিটুজি (সরকার টু সরকার) পদ্ধতিতে ক্রয় সংক্রান্ত কমিটির সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে চালের দাম বনিবনা না হওয়ায় বৈঠক স্থগিত করে ১০ দিনের সময় নেয় উভয় দেশ।

এর আগে রোববারও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করে বাংলাদেশের জিটুজি কমিটি। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, প্রথমদিন ভিয়েতনামের পক্ষ থেকে প্রতি টন সিদ্ধ চাল ৫২০ ডলার দাবি করা হয়। আতপ ৪৬০ ডলার দাবি করা হয়। এর তিন মাস আগে সিদ্ধ ৪৭০ এবং আতপ ৪৩৫ ডলারে আড়াই লাখ টন চাল দিয়েছে ভিয়েতনাম। এবার ৪০ ডলার বেশি দাম চাওয়ায় সম্মত হয়নি বাংলাদেশ। ওদিকে চালের দরদাম ঠিক করতে আজ (মঙ্গলবার) থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দল আসার কথা থাকলেও তারা আসছে না। থাইল্যান্ড তাদের চালের শর্ত ও মূল্য বাংলাদেশকে জানিয়েছে। বাংলাদেশ রাজি থাকলে অক্টোবরে এ বিষয়ে চুক্তি হতে পারে।

সূত্র জানায়, থাইল্যান্ড ৫ শতাংশ ভাঙা সিদ্ধ চাল ৪৮৫ ডলার, আতপ ৪৬০ ডলার এবং ১৫ শতাংশ ভাঙা আতপ ৪৫০ ডলার দাম চেয়েছে। এ মূল্য ঠিক থাকলে বাংলাদেশ আগামী মাসে থাইল্যান্ড থেকে প্রয়োজনীয় চাল আমদানি করবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র আভাস দিয়েছে। এর আগে গত জুনে থাইল্যান্ড বাংলাদেশের কাছে টনপ্রতি ৫০৮ ডলার দাবি করেছিল। বাংলাদেশ এতে সম্মত না হওয়ায় ওই যাত্রায় চাল আমদানির চুক্তি হয়নি।

খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, থাইল্যান্ড সম্প্রতি ব্যাংককে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের অ্যামবাসেডরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করছে। অথচ থাইল্যান্ড চাল রফতানিকারক দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম এবং তাদের চালের মানও ভালো। অনেক সময় তৃতীয়পক্ষ থাইল্যান্ডের চাল নিয়ে বাংলাদেশের কাছে বিক্রি করছে। এতে চালের দাম বেশি পড়ছে। বাংলাদেশ রাজি থাকলে থাইল্যান্ড সরাসরি চাল রফতানি করবে বলে চিঠিতে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে চাল আমদানির বিষয়ে থাইল্যান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে সরকার। পাশাপাশি ভিয়েতনাম থেকে আরও আড়াই লাখ টন চাল আমদানি করতে উদ্যোগ নেয়া হয়। এর অংশ হিসেবে ২৪ সেপ্টেম্বর ভিয়েতনাম ও ২৬ সেপ্টেম্বর থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার কথা ছিল। সে হিসেবে ভিয়েতনামের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফরে আসে।

বিষয়টি নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যে কথা বলতে রাজি হয়নি।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, জুনে থাইল্যান্ড ও ভারত চাল দিতে চাইলেও মূল্য বনিবনা না হওয়ায় তারা ফিরে যায়। মিয়ানমার থেকে তিন লাখ টন চাল আমদানি প্রক্রিয়া শুরু হলে থাইল্যান্ড বাংলাদেশকে চাল দেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে। পাশাপাশি ভারতও চাল দেয়ার বিষয়ে আগ্রহ জানিয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ‘পিইসি’ বাংলাদেশকে চাল দেয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। শিগগিরই ভারতকেও এ বিষয়ে চিঠি লেখা হতে পারে বলে ওই কর্মকর্তা আভাস দেন।

জানা গেছে, হাওর অঞ্চলে অকাল বন্যা, ব্লাস্টরোগের কারণে সারা দেশে বোরোর ফলন কম হওয়া এবং ১০ টাকা কেজি দরের সাড়ে ৭ লাখ টন চাল বিতরণের ফলে এবার চালের মজুদ তলানিতে ঠেকে। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো চালের মজুদ দেড় লাখ টনে নেমে আসে। আর এর সুযোগ নেয় অসাধু ব্যবসায়ীরা। তাদের কারসাজিতে মোটা চালের দাম প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫৪ টাকায় ওঠে। দাম বেশি হওয়ায় বোরো সংগ্রহ কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছেনি। ৮ লাখ টন কেনার টার্গেট থাকলেও মিলারদের সঙ্গে সরকারের চুক্তি হয়েছে আড়াই লাখ টনের। চালের এ ঘাটতি পূরণ ও দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনতে আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে চলতি অর্থবছরে মোট ১৫ লাখ টন চাল আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। চাল রফতানিকারক দেশগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। গত জুনে ভারত ও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি দল এলেও তারা সুযোগ বুঝে বাজার দরের চেয়ে টনপ্রতি ১০০ ডলার বেশি দাম হাঁকে। বাংলাদেশ রাজি না হওয়ায় তারা ফিরে যায়। এরপরই সরকার মিয়ানমার থেকে চাল আমদানি করার উদ্যোগ নেয় এবং এক লাখ টন চাল আমদানির বিষয়ে চুক্তি হয়। এর আগে ভিয়েতনাম থেকে আড়াই লাখ এবং কম্বোডিয়া থেকে আড়াই লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত