বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা আজ



নিউজ ডেস্ক ::
শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী আজ। দুর্গোৎসবের সবচে আকর্ষণীয় এবং জাঁকজমকপূর্ণ দিনে আজ কুমারী পূজা ও সন্ধি পূজা পালিত হবে। গতকাল ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ উদ্দীপনা ও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমী। ভোরে নবপত্রিকা স্নান দিয়ে মহাসপ্তমীর সূচনা হয়। এরপর ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হয়। দেবীর পায়ে চণ্ডী ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, স্নানীয়, পুষ্পমাল্য,  চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করেন তার ভক্তরা। পূজা শেষে মায়ের চরণে পুষ্পাঞ্জলী দেন ভক্তরা। গতকাল সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি মানুষের পদচারণা এবং আনন্দ উল্লাসে মুখর ছিল সারা দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ। পূজার্চনার পাশাপাশি আরতি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভক্তিমূলক সংগীত, দুস্থদের মধ্যে বস্ত্র বিতরণসহ ছিল নানা আয়োজন।
আজ মহাষ্টমীর সকালে দুর্গাদেবীর মহাষ্টমী বিহীত পূজা প্রশস্তা ও  ব্রতোপবাস অনুষ্ঠিত হবে। ভক্তরা মায়ের চরণে দেবেন পুষ্পাঞ্জলী।  মহাষ্টমীতে কুমারী বালিকার মধ্যে শুদ্ধ নারীর রূপ চিন্তা করে তাকে দেবী জ্ঞানে পূজা করবেন ভক্তরা। রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দির, গোপিবাগের রামকৃষ্ণ  মিশন ও মঠসহ দেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে আজ মহাসমারোহে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হবে। হিন্দুশাস্ত্র অনুসারে, সাধারণত ১ থেকে ১৬ বছরের অজাতপুষ্প সুলক্ষণা কুমারীকে দেবী জ্ঞানে পূজার কথা উল্লেখ রয়েছে। ব্রাহ্মণ অবিবাহিত কন্যা অথবা অন্য গোত্রের অবিবাহিত  কন্যাকেও দেবী জ্ঞানে পূজা করার বিধান রয়েছে। কুমারী পূজার বিষয়ে শ্রীরামকৃষ্ণের কথামৃতে বলা হয়েছে, সব স্ত্রীলোক ভগবতীর এক স্বরূপ। শুদ্ধাত্মা কুমারীতে ভগবতীর রূপ প্রকাশ পায় বেশি। সব নারীতে মাতৃরূপ উপলব্ধি করাই কুমারী পূজার প্রধান লক্ষ্য। বয়সভেদে কুমারীর নাম হয় ভিন্ন। শাস্ত্র মতে, একবছর বয়সে তাকে সন্ধ্যা, দুইয়ে সরস্বতী, তিনে ত্রিধামূর্তি, চারে কালিকা, পাঁচে সুভগা, ছয়ে উমা, সাতে মালিনী, আটে  কুব্জিকা, নয়ে অপরাজিতা, দশে কালসন্ধর্ভা, একাদশে রুদ্রাণী, দ্বাদশে ভৈরবী, ত্রয়োদশে মহালক্ষ্মী, চতুর্দশে পীঠনায়িকা, পঞ্চদশে ক্ষেত্রজ্ঞা এবং ষোড়শ বছরে অম্বিকা বলা হয়ে থাকে। শাস্ত্রমতে নির্বাচিত কুমারীকে পূজার দিন স্নান করিয়ে নতুন কাপড় পরানো হয়। কপালে সিঁদুরের তিলক ও পায়ে আলতা দেয়া হয়। হাতে দেয়া হয় ফুল। কুমারীকে সুসজ্জিত আসনে বসিয়ে ষোড়শোপচারে পূজা করা হয়। চারদিকে তখন মুখরিত হয় শঙ্খ, ঢাকের আওয়াজ, উলুধ্বনি আর মায়ের স্তুতিতে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের হিসেবে এবার সারা দেশে ৩০ হাজার ৭৭টি স্থায়ী, অস্থায়ী মণ্ডপে সম্মিলিত ও ব্যক্তিগত উদ্যোগে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গতবারের চাইতে এবারের পূজামণ্ডপ বেড়েছে ৬৮২টি। জেলাওয়ারী সবচে বেশি পূজা হচ্ছে চট্টগ্রামে। বন্দরনগরীতে এবার ১ হাজার ৭৬৭টি মণ্ডপে সার্বজনীন ও ব্যক্তিগতভাবে পূজা হচ্ছে। রাজধানীতে এবার পূজা হচ্ছে ২৩১টি মণ্ডপে যা গেলবারের চেয়ে দুটি বেশি। দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে সারা দেশের পূজামণ্ডপগুলোতে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত