রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বড়লেখায় লেট্রিনে পড়ে ২ ভাইয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু : এলাকায় শোকের ছায়া



আবদুর রব, বড়লেখা থেকে :মৌলভীবাজারের বড়লেখায় মেজো ভাইয়ের পড়ে যাওয়া মোবাইল ফোন খুজতে গিয়ে ছোটভাই ভাই লেট্রিনে পড়ে গেলে তাকে বাচাতে গিয়ে একসাথে দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার বিকেল তিনটায় উপজেলার দক্ষিণভাগ দক্ষিণ ইউপির ১০ নং কাশেমনগর গ্রামে। স্থানীয় দমকল বাহিনী প্রায় এক ঘন্টা খানেক চেষ্টা চালিয়ে নিহত ২ ভাই নাবিল মিয়া (২২) ও বাদল মিয়ার (১৭) লাশ উদ্ধার করেছে। তাদের বাবার নাম বাচচু মিয়া। তিনি পেশায় রিকশা চালক। ছোট ভাইকে বাচাতে গিয়ে একসাথে দুই ভাইর মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতদের পরিবার, এলাকাবাসি, ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশ সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বেলা দুইটায় বাচচু মিয়ার মেজো ছেলে অটোরিকশা চালক (সিএনজি) আকিব উদ্দিনের (২০) একটি মোবাইল ফোন বাড়ির কাচা লেট্্িরনে পড়ে যায়। তা উদ্ধারে সে ব্যর্থ হয়ে ছোটভাই বাদল মিয়াকে (১৭) তা খুজতে বলে। বিকেল তিটার দিকে মোবাইল ফোনটি খুজতে গিয়ে বাদল লেট্রিনের গর্তে পড়ে গেলে বড়ভাই নাবিল আহমদ (২২) থাকে বাচাতে এগিয়ে যায়। অসাবধাণতা বশত সেও টয়লেটের গভীর গর্তে পড়ে নিখোঁজ হয়। বাবা-মায়ের চিৎকারে স্থানীয়রা চেষ্টা চালিয়ে তাদেরকে উদ্ধারে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের বড়লেখা স্টেশন অফিসার মো. মুনিম সারোয়ার দমকল বাহিনী নিয়ে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে বিকেল সাড়ে ৪টায় লেট্রিন থেকে দুই ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার করেন। খবর পেয়ে ইউএনও মোহাম্মদ সোহেল মাহমুদ, থানার ওসি মোহাম্মদ সহিদুর রহমানসহ জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
বড়লেখা থানার ওসি (তদন্ত) দেবদুলাল ধর জানান, পুলিশ নিহতদের সুরত হাল রিপোর্ট তৈরী করেছে। নিহতদের বাবা-মা ময়না তদন্ত ছাড়া লাশ দাফনের জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বরাবরে আবেদন করেছেন। অনুমতি পাওয়া গেলে ময়না তদন্ত ছাড়াই নিহতদের লাশ তাদের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সোয়া ছ’টায় নিহত দুই ভাইয়ের লাশ দাফনের প্রক্রিয়া চলছিল।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত