রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ছাতকে গায়ে আগুন লাগিয়ে আত্মহনের চেষ্টাকারী গৃহবধূর মৃত্যু



ছাতক প্রতিনিধি ::ছাতকে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে লাগিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী গৃহবধূ মনি বেগম (৩০)-এর মৃত্যু ঘটেছে। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। গৃহবধূ মনি বেগম গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের খুজাখাই গ্রামের আব্দুর রহিমের স্ত্রী ও দু’সন্তানের জননী। শ্বশুর বাড়ির লোকজনের অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে গৃহবধূ মনি বেগম নিজ শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুনে লাগিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে জানা গেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের খুজাখাই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে মনি বেগমকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন অত্যাচার-নির্যাতন করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের নির্যাতনের বিষয়টি মনি বেগম স্থানীয় ইউপি সদস্য সুরেতাজ মিয়াকে অবহিত করে বিচার প্রার্থী হয়। পরে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমানের সমন্বয়ে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দেয়া হয়। বিচার প্রার্থনা করার অপরাধে ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে বেধড়ক মারপিট করেন। শ্বশুর-শাশুড়ির নির্যাতন থেকে মুক্তি পেতে মনি বেগম আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। ওই রাতে আত্মহত্যার উদ্দেশ্যে নিজ শরীরে মনি বেগম কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। এসময় প্রতিবেশী লোকজন ঘটনাস্থলে এসে পানি ঢেলে আগুন নেভান। কিন্তু এর আগেই আগুনে গৃহবধূর শরীরের শতকরা ৫০ভাগ ঝলসে যায়।
পরে মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৪ দিন পর তার মৃত্যু ঘটে। গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাও ইউপি চেয়ারম্যান আখলাকুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত