সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯ খ্রীষ্টাব্দ | ২৯ আশ্বিন ১৪২৬ বঙ্গাব্দ

প্রেসক্লাবে সৈয়দ আলাল‘রোহিঙ্গা নয়, নোবেল নিয়ে ব্যস্ত আ’লীগ’



নিউজ ডেস্ক::রোহিঙ্গা সমস্যা নয় নোবেলের পিছনে বেশি ব্যস্ত রয়েছে আওয়ামী লীগ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

সোমবার (২ অক্টোবর) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সারা দেশে শিশু হত্যার প্রতিবাদে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন ঢাকা মহারগর দক্ষিণ।

আলাল বলেন, ‘নোবেলের পিছে দৌড়া দৌড়ি করে কোন লাভ নেই কাল্পনিক প্রত্যাশা করে কোন লাভ নেই। প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের অধিবেশনে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এমন বিশাল কোন বিজয় অর্জন করেনি যে এয়ারপোর্ট থেকে গণভবন পর্যন্ত ঢাকার সমস্ত রাস্তা আটকিয়ে যানজট সৃষ্টি করে মানুষকে ভোগান্তির মধ্যে রেখে তাকে সম্মান না দিতে হবে আওয়ামী লীগের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ গণবিরোধী। এখন তারা রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানের চেয়ে নোবেল পাওয়ার জন্য বেশি ব্যস্ত রয়েছে। যদি নোবেল তিনি পান আমরা তো খুশি ড.ইউনুস অতীতে পাইছে তিনি বাংলাদেশের নাগরিক আমরা খুশি হয়ে ছিলাম। যদি প্রধানমন্ত্রী পান তাতেও খুশি হবো। কিন্তু একটা জায়গায় খটকা লাগে আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতা সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফ এক সময় বলেছিলেন স্যান্ডউইচ খাওয়ালে আর কিছু নগদ অর্থ দিলে না নাকি নোবেল পাওয়া যায়। এখন তার কাছে আমার প্রশ্ন আপনাদের নোবেল কোন পথে?

তিনি বলেন, সারা পৃথিবীতে হত্যা হয় সুইজারল্যান্ডের মত সভ্য দেশে হয় জার্মানির মত সভ্য দেশে হয়, সুইডেন বিশ্ব শান্তির দেশ সেখানে পর্যন্ত হয় কিন্তু বাংলাদেশে যে কায়দায় হয় শিশু নির্যাতন, হত্যা এটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল অন্যসব দেশে হত্যা হয় ছোট আকারে বাংলাদেশ শিশু হত্যাকে একটি উৎসবে পরিণত করেছে। রুচি বিকৃত মানবিকতার পরিচয় দিয়ে একজন শিশুকে পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা করার মত ঘটনা ঘটেছে এই অবৈধ সরকারের আমলে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে মানুষের মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে গেছে। আজকে বিশ্ব শিশু দিবস এই শিশু দিবসে প্রধানমন্ত্রী যদি দেশে থাকতেন তিনি একটা জায়গায় আলোচনা সভা করতেন সভায় দাড়িয়ে শুধু শেখ রাসেলের কথা বলে কান্নাকাটি করতেন। অর্থাৎ তার ভাই শিশু রাসেল তাকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল যে হত্যার আমরা তীব্র বিরোধিতা করি প্রতিবাদ করি সমাবেদনা জানাই দোষীদের বিচার ও হয়েছে। এই শিশু রাসেল বাদে বাংলাদেশের আর কোন শিশু ওনার চোখে পড়ে না, আওয়ামী লীগের নেতাদের চোখে পড়ে না। যে কারণে রাসেলের সৃষ্টি হয়, রাজনের সৃষ্টি হয়, সেই কারণে সাম্প্রতিক কালে দুটো শিশু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। এসব বিকৃত অপরাধগুলো তখনি হয় যখন দেশে কোন আইনের শাসন থাকে না। এটা তখনি হয় যখন সরকারি দলের নেতাকর্মীরা অপরাধ করেও আইনের ফাঁক ফোকর দিয়ে বের হয়ে যায়।

বিএনপির এই নেতা বলেন, আজকের এই শিশু দিবসে দাঁড়িয়ে বলতে হয়, গুম, খুন হত্যা সর্বকালের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে এই সরকার সে দিকে এই সরকার দৃষ্টি দিক। এই সরকারের বোঝা উচিত তারা জনগণের হৃদয়ে থেকে হাজার হাজার মাইল দূরে সড়ে গেছে। এ দূরত্ব কমানোর পথ একটাই এই সকল অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে বলা উচিত ভোট ছাড়া নির্বাচিত হলেও আমাদের কিছু দায়িত্ব আছে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি মো: শেখ সাদির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য কামরুদ্দিন এহিয়া খান মজলিস সারোয়ার, ন্যাপের মহাসচিব এম গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন, এনডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মঞ্জুর হোসেন ঈশা, জিনাফের সভাপতি মিয়া মো: আনোয়ার, গণসংস্কৃতি দলের সভাপতি এস আল মামুন, সংগঠনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি নাজমুল প্রমুখ।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত