রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জুড়ীতে গ্রীষ্মকালিন টমেটোর বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে আনন্দের হাসি



আবদুর রব, বড়লেখা:: বিদেশে অনেক টাকা উপার্জন করেছি, কিন্তু এতো আনন্দ কোনদিন পাইনি। কোনদিনও এমনভাবে কাজের মূল্যায়ন কেউ করেনি। আজ আমার ব্যতিক্রমী ওই চাষাবাদ দেখতে অনেক বিশিষ্ট ব্যক্তি আসছেন। সত্যি কৃষি কাজ লাভজনক একটি পেশা। আজ আমি খুব আনন্দিত। আমার কতটা আনন্দ লাগছে তা আপনাদের বোঝাতে পারবো না। এ কথাগুলো বলছিলেন মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের সৌখিন কৃষক সেবুল মিয়া।
তিনি গ্রীষ্মাকালিন টমেটো ও লাউয়ের বাম্পার ফলন এবং অধিক লাভের প্রত্যাশায় চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলক ভাবে ১ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালিন টমেটো এবং ৩ শতক জমিতে গ্রীষ্মকালীন লাউ চাষাবাদ করেছেন। এতে টমেটো চাষে ১ শতক জমিতে তার খরচ হয় ২ হাজার টাকা এবং ৩ শতক লাউয়ে খরচ হয় ১ হাজার ২শ টাকা। বর্তমানে তিনি ৫ হাজার টাকার অধিক গ্রীষ্মকালীন টমেটো এবং গ্রীষ্মকালীন লাউ প্রায় ৩ হাজার টাকার বিক্রি করেছেন। সেবুল মিয়া জানান, দীর্ঘ ১৩ বছর প্রবাসে (দুবাই) ছিলেন। একটি কোম্পানীতে ভালো বেতনে চাকরি করতেন। কোম্পানীর সমস্যার কারণে দেশে চলে আসতে হয়। দেশে আসার পর অবসর সময় কিছুতেই কাটছিলনা। তাই পার্শ্ববর্তী কৃষক মাঠ স্কুল প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দীপক নাথ ও অভিন্দ্র নাথের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আমি কৃষি কাজের প্রতি আগ্রহী হই। তাই আমি নিজে সমন্বিত খামার ব্যবস্থা (এফআইএমসি) থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েই চলতি বছরের জুনের ২১ তারিখে গ্রীষ্মকালীণ টমেটোর ১২০টি চারা ও একই দিনে গ্রীষ্মকালীণ লাউয়ের বীজ রোপন করি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আন্তরিক সহযোগিতা, পরামর্শ ও তদারকিতে বাম্পার ফলন হয়েছে। ভালভাবে পরিচর্যা করলে টমেটো আরো ৫-৮ হাজার এবং লাউ ২-৩ হাজার টাকার বিক্রি করা যাবে। ফলে সব মিলিয়ে লাভ হতে পারে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।
এ ব্যাপারে জুড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবল সরকার জানান, চলতি মৌসুমে পরীক্ষামূলভাবে আমরা নিত্য নতুন এধরণের চাষাবাদ শুরু করতে সেবুল মিয়াকে পরামর্শ ও উৎসাহ দেই। তার মতো যদি কোন যুবক কৃষি কাজে আগ্রহী হয়, তাহলে কৃষি অফিস তাদেরকে সবধরণের সহযোগিতা প্রদান করবে। আগামীতে ব্যাপকভাবে গ্রীষ্মকালীণ সবজিসহ ভাসমান সবজি চাষে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

1

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত