শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যেভাবে পালাতে চেয়েছিলেন রাম রহিম!



আন্তর্জাতিক ডেস্ক::ভারতের ধর্মগুরুদের নিয়ে আগেও বহু বিতর্ক উঠেছে, এখনও আছে। ৫০ বছর বয়সেই কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন এই রাম রহিম। তারই দুই অনুগামী শিষ্যাকে ধর্ষণ করার অভিযোগ যেমন রয়েছে রাম রহিমের বিরুদ্ধে, তেমনই ধর্ষণ নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ‘অপরাধে’ একজন সাংবাদিক এমনকি ডেরা সাচ্চা সৌদার প্রধান ম্যানেজারকে খুনেরও অভিযোগ রয়েছে স্বঘোষিত এই ধর্মগুরুর বিরুদ্ধে।

আর এরই অভিযোগে তাকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয় আদালত। আর এরপরই পালিয়ে হিমাচল প্রদেশে গিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত ভারতের ভণ্ড ধর্মগুরু গুরমিত রাম রহিম সিং। ধর্ষণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলেই আসামি রাম রহিমকে ছিনতাই করে তুলে নিয়ে যাবে তার ভক্তরা। তারপর সোজা হিমাচল প্রদেশ, সেখানেই লুকিয়ে রাখা হবে ‘বাবা’কে। আদালতে পৌঁছনোর আগে এমন ষড়যন্ত্রই কষেছিল রাম রহিম, দাবি হরিয়ানা পুলিশের। রাম রহিম, তার পালিত কন্যা হানিপ্রীত এবং গোটা পরিকল্পনার অংশীদার ছিল ‘বাবা’কে জেড ক্যাটাগরি নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা হরিয়ানা পুলিশের কমান্ডো দল।

পঞ্চকুলা আদালত থেকেই তাকে নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সব বন্দোবস্ত করে ফেলেছিল রাম রহিমের ভক্তরা। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল আদালত চত্বর থেকে ‘বাবা’কে নিয়ে পালিয়ে পাঞ্জাব হয়ে একটা সুরক্ষিত জায়গায় আশ্রয় নেওয়া। আর সেই সুরক্ষিত জায়গাই হিমাচল প্রদেশ। হিমাচল প্রদেশকে কেন সুরক্ষিত জায়গা হিসাবে বেছে নিয়েছিল রাম রহিম? এ প্রসঙ্গে হরিয়ানা পুলিশের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ওই রাজ্যে রাম রহিমের প্রচুর ভক্ত আছেন। ফলে গা ঢাকা দেওয়ার মতো জায়গার কোন অসুবিধা হত না।

পালানোর জন্য সংকেত হিসেবে একটি লাল ব্যাগ ব্যবহার করেছিলেন রাম রহিম। ওই ব্যাগের মাধ্যমে সংকেত দিয়ে গণ্ডগোল পাকিয়ে কোর্ট থেকে জেলে যাওয়ার পথে পালাতে চেয়েছিলেন রাম রহিম।

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহকে দেয়া হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টরের রিপোর্টে বলা হয়েছে- গুরমিত রাম রহিম বুঝেছিলেন, ধর্ষণ মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হবেন। তাই একটি লাল ব্যাগে জামাকাপড় এনেছিলেন। রায় ঘোষণার পরে আদালত কক্ষে ব্যাগটি চেয়ে পাঠান ডেরা প্রধান। সঙ্গে সঙ্গেই কোর্ট থেকে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে। পঞ্চকুলা ও সিরসায় শুরু হয় পরিকল্পিত তাণ্ডব।

আসলে ব্যাগ চেয়ে পাঠানোটাই ছিল সংকেত খারাপ খবর। হাঙ্গামা শুরু করো। প্রায় একই সময়ে ডেরার বাছাই করা গুন্ডাদের মোবাইলে এসএমএসে পৌঁছায় সাংকেতিক বার্তা— ‘টোম্যাটো ফোড়ো’। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের সন্দেহ, সম্ভবত সিরসায় ডেরার সদর দফতর থেকেই পাঠানো হয়েছিল সেই এসএমএস। মর্মার্থ একই, ‘ভাঙচুরে নেমে পড়ো।’ পার্থক্য শুধু একটাই। ‘লাল ব্যাগ’ ছিল সরাসরি গুরমিতের সংকেত।

আদালতে আসার দিন গুরমিতের বহরে ছিল ৮০টিরও বেশি গাড়ি। যা ঠাসা ছিল অস্ত্র, আগুন জ্বালানোর সরঞ্জামে। গাড়িগুলো অপেক্ষা করছিল আদালত থেকে জেলে যাওয়ার রাস্তায়। রিপোর্টের দাবি, গুরমিতকে নিয়ে পুলিশের কনভয় আসা মাত্রই ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেয়া ছিল গাড়ির লোকেদের। ঠিক ছিল, সেই হুলস্থুলের মধ্যেই পালাবেন তিনি।

ছক ছিল আরও একটা। সেটা হরিয়ানা পুলিশের আইজি কে রাওয়ের মাত্র চারটি গাড়ির কনভয়ে গুরমিতকে নিয়ে হঠাৎ উল্টো পথ ধরেন। এই সময়েই বেঁকে বসেন জেড প্লাস নিরাপত্তা পাওয়া ধর্মগুরুর রক্ষীরা। তারা পুলিশেরই কমান্ডো। কিন্তু ‘বাবা’র অনুগত। হাতে একে-৪৭ ধরা এই কমান্ডোরা গাড়ি ঘোরানোয় বাধা দিলে অন্য পুলিশরা তাদের পিটিয়ে নিরস্ত করেন।

গাড়ি ঢুকে পড়ে সেনা ক্যান্টনমেন্ট এলাকায়। এক কর্নেলের সঙ্গে কথা বলে রেখেছিলেন আইজি। সেখান থেকেই গুরমিতকে নিয়ে রোহতকের জেলের দিকে উড়ে যায় হেলিকপ্টার। আইজি রাওয়ের কথায়, ‘হিংসা ছড়িয়ে ভিড়ের মধ্যে পালানোর সব ছকই কষা ছিল। কমান্ডোরা গুলি চালালে আরও ক্ষতি হতে পারত।

পুলিশের তৎপরতায় রাম রহিমের গোটা পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। এই ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ১২ জন পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে পাঁচজনকে ঘটনার দিনই আটক করা হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত