মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বিরল রোগে আক্রান্ত নবীগঞ্জের তাহমিনার চিকিৎসার দায়িত্ব নিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারী জাকির



স্টাফ রিপোর্টার:: বিরল রোগে আক্রান্ত ৭ বছর বয়সী শিশু কন্যা তাহমিনার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন। তার দেওয়া ঠিকানা মতে বৃহস্পতিবার সকালে তাহমিনাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে।

বিরল রোগে আক্রান্ত শিশু তাহমিনাকে নিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছিলেন তার মা। দীর্ঘদিন যাবত তাহমিনার পিতা রয়েছেন নিখোঁজ। টাকার অভাবে থমকে আছে তার বেঁচে থাকার স্বপ্ন। এ নিয়ে গত ১৫ অক্টোবর সাংবাদিক মতিউর রহমান মুন্না একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন ‘নবীগঞ্জ নিউজ ডট নেট’ পোর্টালে। পরের দিন দৈনিক বিবিয়ানা সহ অন্যান্য মিডিয়ায় ফলাও করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আসে।
‘নবীগঞ্জ নিউজ ডট নেট’ পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদটি নজড়ে আসে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেনের। জাকির ওইদিন রাতেই তার ভেরিফাইড করা ফেসবুক ফেইজে বিরল রোগে আক্রান্ত নবীগঞ্জের তাহমিনা বাঁচতে চায়’ শীরোনামের প্রতিবেদনটি শেয়ার করে লিখেন ‘আসুন পাশে দাড়াই’। পরে তিনি নবীগঞ্জ নিউজের সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করে তাহমিনার সম্পর্কে সকল তথ্য সংগ্রহ করেন এবং তাহমিনাকে ঢাকা নিয়ে চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা করবেন বলে আশ্বাস দেন। পরে ছাত্রলীগের সম্পাদক জাকিরের দেওয়া ঠিকানা মতে গতকাল বুধবার রাতেই তাহমিনা ও তার মাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেন তাদের নিকটাত্মীয় আহেমদ আজাদ মামুন। নবীগঞ্জ নিউজের কার্যালয় থেকে ঢাকা হাসপাতালের ঠিকানা ও যাতায়াতের খরচ বাবদ অর্থ তুলে দেওয়া হয় তাদের হাতে। এছাড়া মিডিয়া প্রতিবেদনটি নজরে আসার পর অনেকেই তাহমিনার চিকিৎসায় হাত বাড়ান।
গত মঙ্গলবার আইনশৃখলা কমিটির মাসিক সভায় তাহমিনাকে নিয়ে উপস্থিত হন তার মা, তখন উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসনসহ অনেকে সহায়তায় প্রায় ৬০ হাজার টাকা উঠে তাহমিনার জন্য। এছাড়া একটি স্কুলের শিার্থীদের মাধ্যমে আরো ১০ হাজার টাকার মতো তার মায়ের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
উলেখ্য, নবীগঞ্জ উপজেলার কালিয়ারভাঙ্গা ইউনিয়নের মান্দারকান্দি গ্রামের প্রায় ২ বছর ধরে নিখোঁজ পিতা বাচ্চু মিয়ার মেয়ে তাহমিনা। দরিদ্র মায়ের চার সন্তানের মধ্যে সে তৃতীয়। জন্মের পর স্বাভাবিক ছিল তার মেয়ে তাহমিনা। প্রায় দুই বছর আগে শিশুদের সঙ্গে খেলতে গিয়ে তার চোখে বড় ধরনের আঘাত পায়। পরে তাকে নিয়ে সিলেট ওসমানি মেডিকেল কলেজে সামান্য চিকিৎসা করানো হয়। প্রথমে সিলেটের ওসমানি মেডিকেলের এক চিকিৎসকের পরামর্শে অপারেশন করে চোঁখটি তুলে ফেলা হয়েছিল। এর পর থেকেই চোঁখে বিরল রোগে আক্রান্ত হয় তাহমিনা। তার পর থেকে তার মা মারুফা বেগম চার ছেলে-মেয়েকে নিয়ে পড়েন বিপাকে। দিনমজুরি ও অন্যের বাড়িতে কাজ করে ছেলে মেয়েদের মূখে দু-বেলা দুমুঠো খাবার তুলে দেন। পরে স্থানীয় গনমাধ্যম বিষয়টি সবার সামনে তুলে ধরে। বিরল রোগে আক্রান্ত ৭ বছর বয়সী শিশু কন্যা তাহমিনার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস.এম জাকির হোসেন। তার দেওয়া ঠিকানা মতে বৃহস্পতিবার সকালে তাহমিনাকে ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যাবেন তাদের নিকটাত্মীয় মামুন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত