বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বড়লেখা পৌরমেয়রের তৎপরতায় মার্কেট মালিকরা ভাঙ্গছে অবৈধ স্থাপনা



আব্দুর রব, বড়লেখা:: মৌলভীবাজারের বড়লেখা পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরীর তৎপতায় প্রধান সড়কের মার্কেট মালিকরা সড়ক ও জনপথের জায়গায় নির্মিত অবৈধ স্থাপনা ভাঙ্গতে শুরু করেছেন। উচু পাকা এসব অবৈধ স্থাপনার কারণে বছর জুড়ে শহরে তীব্র যানজট ও ৩-৪ দফা জলাবদ্ধতার সৃষ্ঠি হওয়ায় পৌরবাসীকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হতো।

জানা গেছে, বড়লেখা শহরের প্রধান সড়কের দুই পাশের মার্কেট মালিকরা দীর্ঘদিন ধরে তাদের মার্কেটের সামনে সড়কের সম্মুখ অংশ পাকা করে দখল করে রাখেস। পৌরসভার ড্রেনও এর নিচে ঢাকা পড়ে গিয়েছিল। ফলে বৃষ্টিতে জমাটবদ্ধ পানি ড্রেন দিয়ে নিষ্কাশিত হতে পারত না। এতে সড়ক নিমজ্জিত হয়ে অনেকের দোকানপাঠে পানি ঢুকে লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হত। যার কারণে পৌরবাসীকে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হত। এ অবস্থায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) কর্মকর্তা ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেন। কিন্তু মার্কেট মালিকরা তাতে সাড়া দেননি। পৌরসভার মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী কয়েক দফা বিপনী বিতানের মালিকদের নিয়ে সমস্যা সমাধানে মতবিনিময় করেন। অবশেষে তারা মেয়রের আহ্বানে সাড়া দিয়ে গত শনিবার থেকে নিজেরাই তাদের তৈরী অবৈধ পাকা স্থাপনা ভাঙ্গা শুরু করেন।
সওজ ও পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, শহরের প্রধান সড়কটি মৌলভীবাজার-চান্দগ্রাম আঞ্চলিক মহাসড়ক। সড়কটির দক্ষিণ বাজার এলাকা সংলগ্ন বড়লেখা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উত্তর বাজারের ষাটমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত এলাকা খুবই ব্যস্ততম এলাকা। এ জায়গায় সড়কের দুই পাশে অন্তত ২০টি ছোট-বড় মার্কেট রয়েছে। প্রত্যেক মার্কেট মালিক তাদের সামনে সড়কের ১০-১৫ ফুট জায়গা দখল করে রাস্তা থেকে উচু পাকা স্থাপনার নির্মাণ করেন। ফলে শহরে তীব্র যানজট দেখা দেয়। এ ছাড়া ড্রেন দিয়ে পানি নিস্কাশন বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় সওজ অধিদপ্তর ও পৌরসভা কর্তৃপক্ষ ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেয়।
সরেজমিনে মঙ্গলবার দুপুরের দিকে দেখা গেছে, শহরের মধ্যবাজার এলাকায় হাজী আব্দুল আলী ট্রেড সেন্টারের সামনে ৬-৭ জন জন শ্রমিক লোহার কুদাল ও শাবল দিয়ে ড্রেনের উপর নির্মিত পাকার ঢালাই ভাঙ্গতে দেখা গেছে। পৌর মেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী ও মার্কেট মালিক শামীম আহমদ কাজের তদারকি করছেন।
মার্কেট মালিক শামীম আহমদ জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে মার্কেটটি নির্মাণ করি। সামনের প্রায় ১১০ ফুট জায়গা পাকা করেছিলাম। মেয়র অনুরোধ করেছেন, তাই জায়গাটি ছেড়ে দিচ্ছি। নিজের খরছে পাকা ভাঙ্গাচ্ছি। রাস্তা বড় হলে যানজট কমবে এবং রাস্তায় পানি জমে আর ক্ষতি হবে না।
পাশের হেপি কমপ্লেক্সের (মার্কেট) সামনের পাকা স্থাপনাও ভাঙ্গার কাজ চলতে দেখা গেছে। হেপি কমপ্লেক্সের মালিক আব্দুর রহিম জানান, মেয়রের আহবানে সাড়া দিয়ে তিনি পাকা স্থাপনা অপসারণ কাজ করছেন। এতে পৌরবাসীর চলাচলের সুবিধা হবে।
পৌরমেয়র আবুল ইমাম মো. কামরান চৌধুরী জানান, শহরের ২০ মার্কেট মালিক সড়ক ও জনপথের বেশ জায়গা দখল করে রাখায় যানবাহন ও পথচারীর চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছিল। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের ড্রেনেজগুলো কোন কাজে আসছিল না। এসব সমস্যা নিরসনে মার্কেট মালিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভা করেছি। সড়কে জলাবদ্ধতা ও যানজটের সমস্যার কথা তুলে ধরে অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে ফেলতে তাদেরকে অনুরোধ জানাই। তারা রাজি হয়ে নিজ খরচে স্থাপনা ভাঙ্গতে শুরু করেন। গত শনিবার থেকে এ কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধেক সম্পন্ন হয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত