বৃহস্পতিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

হারানো জৌলুশ ফিরে পেতে মরিয়া বিএনপি



নিউজ ডেস্ক::প্রায় একযুগ ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি সাংগঠনিক ক্ষমতার পাশাপাশি হারিয়েছে নিজস্ব জৌলুশ। এক সময়ে দাবি আদায়ে অনড় দলটি বর্তমানে আন্দোলন বিমুখ হয়ে পড়েছে। কয়েক দফা আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্নভাবে সমালোচনার মুখে পড়েছে দলটি।

এমন কি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বিএনপির মূল্যহীন আন্দোলন নিয়ে সমালোচনা করেছে। তারা বলেন, বিএনপি আর কখনও আন্দোলন করতে পারবে না। তারা (বিএনপি) এখন অনেকটাই ঘরের মধ্যে আলোচনা সভা, প্রেস বিজ্ঞপ্তি নির্ভর হয়ে পড়েছে।

তারা আরও বলেন, বিএনপি এখন একটি বাংলাদেশ নালিশ পার্টি। তারা (বিএনপি) জনগণ থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তারা জনগণের মন না বুঝে জনবিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়। ফলে তাদের আন্দোলন বার বার ব্যর্থ হয়। তারপরও যদিও কোন ইস্যূতে আন্দোলনের ডাক দেয় তখন সিনিয়র নেতারা মাঠে না এসে ঘরে বসে হিন্দি সিরিয়াল দেখেন। বিএনপি আন্দোলন ও নির্বাচন দুটোতেই ব্যর্থ। নির্বাচনের মাঠে নেমে মাঝপথে তারা যেভাবে পালিয়ে যায়, আবার আন্দোলনে নামার পরও মাঝপথ থেকে তারা ঠিক সেভাবেই পালিয়ে যায়। অবশ্য পালিয়ে যাওয়া তাদের স্বভাব।

তবে সব বাঁধা, সমালোচনা কাটিয়ে নিজেদেরকে আবারও স্বগৌরবে ফেরাতে চান বিএনপির নেতাকর্মীরা। তারা জনগণকে সঙ্গে, গণতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দলকে আবারও ফেরাতে চায় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষমতায়।

এ বিষয়ে বিএনপির একাধিক সিনিয়র জানান, বিএনপি গণতান্ত্রিক দল। গণতান্ত্রিক উপায়ে আলোচনা-সংলাপের মাধ্যমেই তাদের দাবি আদায় করতে চায়। আলোচনা বা সংলাপের কোন ব্যবস্থা না হলে তখন আন্দোলনের কোন বিকল্প থাকবে না। তবে ক্ষমতা হারানোর পর থেকেই নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য বিভিন্ন ইস্যূতে আন্দোলনে রাজপথে নামলেও সরকারের কঠিন বাঁধার মুখে পেরে উঠতে পারেনি দলটি।

সরকার অগণতান্ত্রি উপায়ে বিরোধী মতামতকে সহ্য না করে তাদের দমন করতে দেশের প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে যার ফলে রাজপথে বিএনপি নেতারা নামতে চাইলেই গণ গ্রেফতার শুরু করে সরকার। অনেক নেতাকে গুমও করেছে এই সরকার। একই সঙ্গে জাতীয় এবং দলীয় গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে সভা-সমাবেশের অনুমতি চাইলেও সরকার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তা করতে দেয়া হয় না।

বিএনপিকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, সব বাঁধা বিপত্তি কাটিয়ে যে লক্ষ্যে বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সেই লক্ষ্যে আবারো ফিরবে বিএনপি। জনগণকে পাশে নিয়ে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়ার রহমানের আদর্শে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে বিএনপি।

সরকারের দাবি আদায়ে বাধ্য করা নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়াম্যান শামসুজ্জামান দুদু  বলেন, বিএনপি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা সকল দাবি দাওয়া এবং প্রস্তাবনা আলোচনা বা সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করতে চাই। আগামী নির্বাচন নিয়ে সরকারের সাথে সংলাপের জন্য আমরা সর্বদা প্রস্তুত। তবে সরকার যদি শেষ পর্যন্ত বিএনপির সাথে সংলাপে না বসতে চায় তবে তো আন্দোলনের বিকল্প থাকবে না। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ করতে বিএনপি সব রকমের রাস্তায় খোলা রেখেছে। হয় সংলাপ না হয় আন্দোলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রদলের এক সিনিয়র নেতা  বলেন, আমাদের এখনো যেসব সাহসী নেতা আছেন তার একভাগও আওয়ামী লীগের বা অন্য কোনো দলের মধ্যে নেই। তারা (আওয়ামী লীগ) তো প্রশাসন এবং পুলিশ বাহিনীর উপর নির্ভর করে আছে। তাদের যদি সাহস থাকে তবে পুলিশ বাহিনীকে লেলিয়ে না দিয়ে মাঠে নামুক দেখা যাবে কে দাবি আদায় করতে পারে কে পারে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত