বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

‘২২ জানুয়ারির বাতিল নির্বাচন এখন আর ভাবায় না’



নিউজ ডেস্ক::১০ বছর পর ইসিতে সংলাপে এসেছিলেন ২০০৬ সালের মাত্র দুই মাসের দায়িত্বপালনকারী নির্বাচন কমিশনার সাইফুল আলম। কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন ইসির ‘সফলতা’ দেখে ‘শুভ কামনা করলেও ‘সেই ২২ জানুয়ারির’ নির্বাচন নিয়ে এখন আর ভাবেন না সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাইফুল আলম। দীর্ঘদিন পর এই প্রথম কথা বললেন আলোচিত এমএ আজিজ কমিশনের একজন সদস্য; যিনি ইসির সংলাপেও অংশ নিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, সমালোচনা বা ব্যর্থতা নয়, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে তাদের যেতে হয়েছে। ওই নির্বাচন নিয়ে এখন আর সংলাপে আলোচনার ‘প্রশ্নই উঠে না’; বরং ভবিষ্যতের জন্য সবাইকে সহযোগিতা দিয়ে ভালো কিছুর জন্যে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। ২০০৬ সালের ২৭ নভেম্বর যোগ দিয়ে ৩১ জানুয়ারি ২০০৭ সালে বিদায় নিতে হয় নির্বাচন কমিশনার মো. সাইফুল আলম কে।

বহুল আলোচিত প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি এম এ আজিজ কমিশনের সদস্য ছিলেন তিনি। তবে ছুটিতে থাকায় সিইসি এম এ আজিজের সঙ্গে দেখা হয় নি এ নির্বাচন কমিশনারের। সাইফুল আলমও চাকরি জীবনে ছিলেন বিচারক। তিনি যখন নির্বাচন কমিশনার হিসাবে যোগ দেন তখন ভারপ্রাপ্ত সিইসি ছিলেন বিচারপতি মাহফুজুর রহমান। ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি ভোটের জন্য তফসিলও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ১১ জানুয়ারি জরুরি অবস্থা জারির পর সেই তফসিল বাতিলের মধ্য দিয়ে ইতি ঘটে একটি অধ্যায়ের।

ফখরুদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসার পর ৩১ জানুয়ারি বিদায় নিতে হয় তৎকালীন পুরো ইসিকে। সিইসি এম এ আজিজ ও নির্বাচন কমিশনার স ম জাকারিয়া কমিশনকে থেকে বিদায় নেওয়ার পর কখনো উন্মুক্ত আলোচনা বা জনসম্মুখে আসেন নি। দীর্ঘ ১০ বছর পর কে এম নূরুল হুদা নেতৃত্বাধীন নির্বাচন কমিশন সেই ইসির বিচারপতি এম এ আজিজসহ বেঁচে থাকা সদস্যদের সংলাপে আমন্ত্রণ জানায়।

বিচারপতি মাহফুজুর রহমান প্রয়াত হলেও নির্বাচন কমিশনার স ম জাকারিয়া, হাসান মাহমুদ মনসুর, মোদাব্বির হোসেন চৌধুরী ও সাইফুল আলমকেও সংলাপে ডাকা হয়।
মঙ্গলবার ইসির সংলাপে যোগ দেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাইফুল আলম। জানতে চাইলে সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “আমি তো খুব অল্প সময় (২৭ নভেম্বর-৩১ জানুয়ারি) ছিলাম নির্বাচন কমিশনে। তবুও এতোদিন পর নতুন ইসি আমন্ত্রণ জানিয়েছে, যোগাযোগ করেছে। আমি চেষ্টা করেছি সামান্য অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে।”

সংলাপে অংশ নিলেও কর্মকর্তা-কর্মচারিসহ অনেকে ‘চেনেন নি’ ও ‘টের পান নি’ বলে মনে করেন তিনি। “সেভাবে যেহেতু কাজ করতে পারি নি, অনেকের সঙ্গে পরিচিতও হতে পারি নি; তাই হয়ত কেউ কেউ চেনেন নি। আমি সেই সময় বলেছিলাম-রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ইসিতে যোগ দিয়েছি; আবার রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই চলে যেতে হচ্ছে।”
তবে সংলাপে বিচার বিভাগের এক সময়কার সহকর্মী সাবেক নির্বাচন কমিশনার মুহম্মদ ছহুল হোসাইন ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানমকে পেয়েছেন; অনেকদিন পর কথা হয়েছে।

২২ জানুয়ারির বাতিল নির্বাচন নিয়ে সংলাপেও কেউ আলোচনা করে নি, প্রসঙ্গও টানেন নি বলে জানান সাইফুল আলম। তিনি বলেন, “সমালোচনা থাকলেও সিইসি এমএ আজিজকে তো আমি পাই নি। আবার আমিও ছিলাম কয়েক মাস। ওই [বাতিল] নির্বাচন এখন আবার ভাবায় না।পাস্ট ইজ পাস্ট, অতীত নিয়ে তো আর ভাবি না।তখন রাষ্ট্রের প্রয়োজনে এসেছি, গেছিও ভালোর জন্যে।”

কে এম নূরুল হুদা ইসির জন্যে শুভ কামনা একাদশ সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ইসির উদ্যোগকে স্বাগত জানান ও শুভ কামনা করেন তিনি। খুব কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ওই কমিশনকে পার হতে হলেও বর্তমান নির্বাচন কমিশন সব দলের অংশগ্রহণে ভালো নির্বাচন করতে পারবে বলে মনে করেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাইফুল। তিনি বলেন, “আমার তো মনে হয় এ ইসি মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারছে। সংলাপেও সাড়া পেয়েছে। আমিও চাই ভালো কিছু হোক, ভালো একটা নির্বাচন হোক। সব দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন করাও যাবে আশা করি।”

সাবেক এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, “অনেকের মতো আমিও কমন সুপারিশ করেছি। সেনা মোতায়েন নিয়ে দুই প্রতিষ্ঠানের দোষ হতে পারে। ডাকলে বিদ্যমান আইনের আলোকে মোতায়েন করতে হবে; না ডাকলে বলবে সাড়া পাচ্ছে না ইসি। যাই হোক- ইসিকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” ভোটকেন্দ্র তদারকিও সুপারিশ করেন সাইফুল আলম।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত