মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী



নিউজ ডেস্ক:: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের উদ্দেশে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেছেন, ‘বাংলাদেশকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না।’
৩১ অক্টোবর মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা বলেন। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ হিসেবে ইউনেস্কোর ‘মেমোরি অফ দা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ যুক্ত হওয়ায় এ সংবাদ সম্মেলনে আসেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলার জন্য আমরা তৈরি। ষড়যন্ত্র করে কোনো লাভ হবে না। যেকোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় ঢাকা প্রস্তুত।’

জানা যায়, পাকিস্তান অ্যাফেয়ার্স নামে একটি ফেসবুক পেজে পোস্ট দেওয়া ১৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান হাইকমিশন তাদের ফেসবুক পেজে শেয়ার করেন। ভিডিওতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ কিছু বিতর্ক সৃষ্টির উপাদান রয়েছে।

ভিডিওতে দাবি করা হয়, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নন, জিয়াউর রহমানই বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক! আর বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর তাজউদ্দীন আহমেদ এ ব্যাপারে তখনকার মেজর জিয়াকে সমর্থন দেন।’
সেখানে দাবি করা হয়, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতাই চাননি; তিনি স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলেন।’
যদিও নেতিবাচিক আলোচনা শুরু হওয়ায় পাকিস্তান হাইকমিশনের ফেইসবুক পেজ থেকে ভিডিওটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকীকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি সতর্ক করে দেওয়া হয়। পকিস্তানের এ ধরনের প্রবণতা দুই দেশের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে সতর্ক করা হয়।

বাংলাদেশ পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন, যুদ্ধের সময়ও কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকে। আর আমরা চাইছি স্বাভাবিক সম্পর্কটা (পাকিস্তানের সঙ্গে) গড়ে উঠুক। ব্যবসা বাণিজ্য হোক।’

দুই দেশের আটকে থাকা পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈঠক আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দুই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরের বৈঠক দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে। সরকার চায়, সেই বৈঠক হোক, যেখানে দুই দেশ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করতে পারবে।’

৭ মার্চের ভাষণকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দালিলিক ভাষণ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইউনেস্কো। এর মাধ্যমে বিশ্ব বঙ্গবন্ধুর অতুলনীয় ব্যক্তিত্ব বাঙালি জাতির মুক্তি সংগ্রামে তার অবিসংবাদিত ভূমিকার বিষয়টি আরও বিশদভাবে জানার সুযোগ পাবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত