শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাড্ডায় জোড়া খুন, পরকীয়া প্রেমিক শাহিন গ্রেফতার



নিউজ ডেস্ক ::

রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় জোড়া খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আরজিনার পরকীয়া প্রেমিক প্রধান সন্দেহভাজন ও দায়েরকৃত মামলার আসামি শাহিন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে খুলনা থেকে শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত জামিলের ভাই শেখ শামীম হোসেন বাদী হয়ে নিহতের স্ত্রী আরজিনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক শাহিন মল্লিককে আসামি করে বাড্ডা থানায় এ মামলা করেন। মামলা নং ৪। বৃহস্পতিবার রাতেই ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়।

মামলা নথিভুক্ত হবার পর নিহতের স্ত্রী আরজিনা বেগমকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তিনি আরও বলেন, শাহিন মল্লিক পেশায় রং মিস্ত্রি। মামলায় পরকীয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। নিহতের পরিবারও একই দাবি করেছে। স্ত্রী আরজিনা ও তার প্রেমিক শাহিনের যোগসাজশে জোড়া খুন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, গতকাল ভোর রাতে ঘরে স্বামী ও সন্তানের লাশ রেখে ছাদের এক কোণে বসে মৃদু শব্দে কাঁদছিলেন গৃহবধূ আরজিনা। চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া ইয়সুফ মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তৃতীয় তলায় তাকে কাঁদতে দেখেন। নামাজ শেষে ফিরে একইভাবে তাকে কাঁদতে দেখে তিনি দোতলায় বাড়ির মালিক দুলাল পাঠানের স্ত্রী নাছিমা দুলালের কাছে যান। নাছিমা দোতলার ভাড়াটিয়া জোছনাকে পাঠান আরজিনার কাছে। খোলা দরজা দিয়ে ঘরের মেঝেতে রক্ত দেখেই চিৎকার করে নাছিমার কাছে ছুটে আসেন তিনি। এরপর নাছিমা ও জোছনা একসঙ্গে ওই বাসায় গিয়ে দেখেন— জামিল শেখ (৩৮) ও তার মেয়ে নুসরাত আক্তার জিদনী (৯) খুন হয়েছেন।

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগ এলাকায় জোড়া খুনের এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে নিহত জামিলের স্ত্রী আরজিনাকে।

পুলিশের দায়িত্বশীল একটি সূত্র বলছে, স্ত্রী আরজিনা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েছেন। প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে তিনিই স্বামী ও মেয়েকে হত্যা করেছেন। আটকের পর আরজিনা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ কথা স্বীকার করেছে বলেও নিশ্চিত করেছে সূত্রটি।

পুলিশ জানায়, এক মাস আগে উত্তর বাড্ডার ময়নারবাগের কবরস্থান রোডের ৩০৬ নম্বর বাড়ির ৩য় তলার দুটি ঘর ভাড়া নেন গুলশানের একটি বেসরকারি কোম্পানির গাড়িচালক জামিল শেখ। মেয়ে বাড্ডা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী নুসরাত, ৪ বছরের ছেলে আলিভ ও স্ত্রী আরজিনাকে নিয়ে এক ঘরে থাকতেন, আর একটি ঘর সাবলেট দেন এক দম্পতিকে। বৃহস্পতিবার লাশ উদ্ধারের সময় ওই দম্পতি ঘরে ছিলেন না। বুধবার রাতে তারা ঘরে তালা মেরে চলে যান। হত্যাকাণ্ডের রাতেই তাদের চলে যাওয়াটা সন্দেহের চোখে দেখছে পুলিশ।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ— এই হত্যাকাণ্ডে আরজিনা জড়িত। তারা জানান, আরজিনার চালচলন ভালো ছিল না। তার পরকীয়া প্রেম নিয়ে দাম্পত্য কলহ ছিল।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় বলেন, ধারণা করা হচ্ছে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জামিল শেখকে খুন করা হয়েছে। এটি ‘টার্গেট কিলিং’। মেয়েটি দেখে ফেলায় তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এই হত্যাকাণ্ডে পরিবারের কারো হাত রয়েছে। পারিবারিক টানাপড়েন থেকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারনা এই পুলিশ কর্মকর্তার।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত