মঙ্গলবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

যে কারণে আর্জিনার স্বামী-মেয়েকে হত্যা করল পরকীয়া প্রেমিক!



নিউজ ডেস্ক ::

রাজধানীর বাড্ডায় বাবা-মেয়েকে খুনের ঘটানায় বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। এই হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে রয়েছে আর্জিনা-প্রতিবেশি শাহীন মল্লিকের অবৈধ সম্পর্ক। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে দরজা খোলা রেখে স্বামী-সন্তানদের নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন আর্জিনা। গভীর রাতে প্রেমিক শাহীন ঘরে প্রবেশ করে লাঠি দিয়ে জামিলের মাথায় আঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় শিশু সন্তান নুসরাত বিষয়টি দেখে ফেলায় তাকেও মা আরজিনার সামনেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন শাহীন। দুই সন্তানের জননী আরজিনা বেগম পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে যান প্রতিবেশী শাহীন মল্লিকের সঙ্গে। আর সেই পরকীয়ার জেরেই স্বামী ও মেয়েকে খুন করে পরকীয়া প্রেমিক শাহীন।

আর্জিনা এবং শাহীনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে একথা জানান।

তদন্ত কর্মকর্তা আরো জানান, জামিল শেখ আগের বাসায় ভাড়া থাকা অবস্থায় প্রতিবেশী শাহীনের সঙ্গে আরজিনার পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে গতমাসে নতুন বাসায় ভাড়া নেওয়ার সময় আর্জিনা কৌশলে শাহীনকে সাবলেট হিসেবে নেয়। তখন থেকে স্ত্রীসহ শাহীন আরজিনাদের সঙ্গেই বসবাস করে আসছিলেন। গত ৬ মাস ধরে তাদের মধ্যে গভীর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। আরজিনা শাহীনের সঙ্গে নতুনকরে ঘর বাঁধার স্বপ্নে বাধা ছিলেন একমাত্র জামিল।

এ জোড়া খুনের ঘটনায় নিহতের স্ত্রী আরজিনার পরকীয়া প্রেমিক প্রধান সন্দেহভাজন ও দায়েরকৃত মামলার আসামি শাহীন মল্লিককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শাখাওয়াত হোসেন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, শুক্রবার সকালে খুলনা থেকে শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। নিহত জামিলের ভাই শেখ শামীম হোসেন বাদী হয়ে নিহতের স্ত্রী আরজিনা বেগম ও তার পরকীয়া প্রেমিক শাহিন মল্লিককে আসামি করে বাড্ডা থানায় এ মামলা করেন। মামলা নং ৪। বৃহস্পতিবার রাতেই ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। মামলা নথিভুক্ত হবার পর নিহতের স্ত্রী আরজিনা বেগমকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

তিনি আরও বলেন, শাহিন মল্লিক পেশায় রং মিস্ত্রি। মামলায় পরকীয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। নিহতের পরিবারও একই দাবি করেছে। স্ত্রী আরজিনা ও তার প্রেমিক শাহিনের যোগসাজশে জোড়া খুন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে পুলিশ।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) ভোর রাতে ঘরে স্বামী ও সন্তানের লাশ রেখে ছাদের এক কোণে বসে মৃদু শব্দে কাঁদছিলেন গৃহবধূ আরজিনা। চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া ইয়সুফ মসজিদে ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় তৃতীয় তলায় তাকে কাঁদতে দেখেন। নামাজ শেষে ফিরে একইভাবে তাকে কাঁদতে দেখে তিনি দোতলায় বাড়ির মালিক দুলাল পাঠানের স্ত্রী নাছিমা দুলালের কাছে যান। নাছিমা দোতলার ভাড়াটিয়া জোছনাকে পাঠান আরজিনার কাছে। খোলা দরজা দিয়ে ঘরের মেঝেতে রক্ত দেখেই চিৎকার করে নাছিমার কাছে ছুটে আসেন তিনি। এরপর নাছিমা ও জোছনা একসঙ্গে ওই বাসায় গিয়ে দেখেন— জামিল শেখ (৩৮) ও তার মেয়ে নুসরাত আক্তার জিদনী (৯) খুন হয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত