শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

পরকীয়া সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে রাখতে হত্যাকাণ্ড: পুলিশ



নিউজ ডেস্ক :: রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় পরকীয়া সম্পর্কের কারণে জামিল শেখ ও তার নয় বছরের মেয়ে নুসরাতকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছেন গুলশান বিভাগের পুলিশের উপ কমিশনার মোস্তাক আহমেদ।

আজ শনিবার বেলা সোয়া ১১ টার সময়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এর আগে ১ নভেম্বর রাজধানীর উত্তর বাড্ডা থেকে আরজিনা বেগম এবং গতকাল শুক্রবার বিকালে খুলনার বয়রা এলাকা থেকে শাহিন মল্লিককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে ভারী রক্তমাখা কাঠ ও রক্তমাখা গামছা উদ্ধার করা হয়।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, উত্তর বাড্ডা ময়নারবাগের ৩০৬ নম্বর বাসায় সাত হাজার টাকায় দুইরুমের একটি বাসা ভাড়া নেয় জামিল শেখ। সেখানে তার স্ত্রী আরজিনা বেগম, নয় বছরের মেয়ে নুসরাত জাহান এবং ছেলে আলবিকে নিয়ে বসবাস করত। জামিল শেখ পেশায় একজন গাড়ি চালক। আর শাহিন মল্লিক পেশায় রাজমিস্ত্রি। শাহিনের স্ত্রী মাসুমা গৃহকর্মী। কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেশিরভাগ সময়ে জামিল শেখ ও শাহিনের স্ত্রী মাসুমা বাসার বাইরে থাকত। এই সুযোগেই শাহিন ও আরজিনা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে এই সম্পর্ক অবৈধ সম্পর্কে মোড় নেয়। আরজিনা সব সময়ে চেষ্টা করত জামিলের কাছ থেকে দূরে থাকতে।

গুলশান বিভাগের পুলিশের উপ কমিশনার বলেন, শাহিন আরজিনাকে স্বপ্ন দেখায় তারা বিয়ে করে নতুন জীবন শুরু করবে। কিন্ত পথে কাঁটা হয়ে দাড়ায় জামিল শেখ। জামিলকে তালাক দিতে চেয়েছিল আরজিনা। কিন্তু শাহিন তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। ঘটনার রাতে জামিলের বড় ভাই তাদের বাসায় আসে। ওই রাতে শাহিনসহ সবাই একসঙ্গে রাতের খাবার খায়। পরে জামিলের ভাই চলে গেলে তারা ঘুমিয়ে পড়ে।

মোস্তাক আহমেদ বলেন, পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী শাহিন বাড়ির নিচে থেকে আগে একটি কাঠ এনে রাখে। পরে রাতের যে কোনো এক সময়ে আরজিনা ঘরের দরজা খুলে দিলে শাহিন ওই কাঠ দিয়ে জামিলের মাথায় আঘাত করে। এতে জামিলের ঘুম ভেঙ্গে গেলে দ্রুত কাঠ দিয়ে আরো কয়েকটি আঘাত করলে সে মারা যায়। নয় বছরের মেয়ে নুসরাত ও ছেলে আলবির ঘুম ভেঙ্গে যায়। এরপর আলবি ঘুমিয়ে পড়লেও নুসরাত তার মা ও শাহিনকে প্রশ্ন করতে থাকে তোমরা কেন আমার বাবাকে মারলে। এছাড়া সে কাঁদতে শুরু করে।

এ ঘটনা নুসরাত দেখে ফেলায়, শাহিন ঘরের বাইরে যেয়ে তাকেও হত্যার প্রস্তাব দেয়। পরে জীবন বাঁচাতে আরজিনাও এতে রাজি হলে, তারা শিশুকন্যা নুসরাতের মুখে বালিশ চাপা দিয়ে ও শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে শাহিনের স্ত্রী মাসুমার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সে বিষয়টি জানতে পারে। পরে শাহিন ও আরজিনা তাকে বোঝাতে সক্ষম হয় যে কোনো ভাবে এটা হয়ে গেছে এখান থেকে বাঁচতে হলে দ্রুত তাদের এখান থেকে চলে যেতে হবে। পরে তারা সেখানে থেকে বাইরে গিয়ে খুলনায় চলে যায়।

গুলশান বিভাগের পুলিশের উপ কমিশনার বলেন, ঘটনাটি মানুষকে বোঝানোর জন্য আরজিনা কান্নাকাটি করতে থাকে। এর মধ্যে ফজরের আযান পড়ে যায়। তখন তাদের এক প্রতিবেশী ফজরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময়ে আরজিনাকে কান্নকাটি করতে দেখে। ওই ভদ্রলোক নামাজ থেকে ফেরার সময়ে আরজিনাকে কান্নকাটি করতে দেখে তার স্ত্রীকে বিষয়টি জানায়। পরে ওই ভদ্রলোকের স্ত্রীর মাধ্যমে বিষয়টি বাড়ির মালিক জানতে পারেন। পরে তিনিই পুলিশকে খবর দেন। এ সময়ে আরজিনা পুলিশকে জানায় আমাদের বাসায় চার থেকে পাঁচজন অজ্ঞাত পরিচয়ের মানুষ এসেছিল তারাই ভারি কাঠ দিয়ে জামিলের মাথায় আঘাত করলে তার মৃত্যু হয়। এছাড়াও শ্বাসরোধ করে নুসরাতকে হত্যা করেছে।

প্রসঙ্গত, গত ১ নভেম্বর রাজধানীর বাড্ডার থানার উত্তর বাড্ডা ময়নারবাগের ৩০৬ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার একটি ফ্লাট থেকে গাড়িচালক জামিল শেখ ও তার নয় বছরের মেয়ে নুসরাত জাহানের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ওইদিন সন্ধ্যায় নিহত জামিলের বড় ভাই একটি হত্যা মামলা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ ও গণমাধ্যম শাখার উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান, অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী, গুলশান পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মানস কুমার পোদ্দার সহকারী কমিশনার মো. আশরাফ হোসেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত