বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ময়মনসিংহে শিয়ালের কামড়ে আহত ৬০



ময়মনসিংহ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় দুইদিনে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ কমপক্ষে ৬০জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে অনেককেই ময়মনসিংহ সূর্যাকান্ত এসকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ পর্যন্ত ৪০জনকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। পরে শিয়ালটিকে পিটিয়ে হত্যা করেছে স্থানীয়রা।

ঘাগড়া গ্রামের জোবেদা খাতুন জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার নামাজের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য বাড়ির সামনে পুকুরে ওজু করতে গেলে একটি শিয়াল তার উপর হামলা করে। তিনি দ্রুত ঘরে এসেও রক্ষা পায়নি। শিয়ালটি তার হাত, পা কামড়ে অনেক ক্ষত করেছে। ক্ষতের যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছেন তিনি।

দাপুনিয়া আইডিয়াল হাই স্কুলের ৬ষ্ট শ্রেণির শিক্ষার্থী সুব্রামনি শিয়ালের কামড়ে আহত হয়ে ভর্তি হয়েছেন এসকে হাসপাতালে। সে জানায়, বুধবার সন্ধ্যা সময় ঘরে পড়তে বসলে একটি শিয়াল এসে তাকে কামড়াতে শুরু করে। ডাক-চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।

চিকিৎসা নিতে আসা কালি বাজার মড়ল বাড়ির রুমা আক্তার (২৬) জানান, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে তার মা লাইলি বেগম ঘরে শিয়াল শিয়াল বলে চিৎকার করে। মাকে রক্ষা করতে গেলে তাকে ও তার ছোট ভাই লাবিবকে কামড়ায় শিয়ালটি।

শিয়ালের কামড়ে আহত আলামিন (২৫) জানান, দুই কয়েকটি গ্রামের অনেক মানুষকে কামড়িয়েছে একটি পাগলা শিয়াল। এলাকাবাসী মসজিদে মাইকিং করে দল বেধে বুধবার রাত ১টার দিকে শেয়ালটিকে হত্যা করে বলেও তিনি জানান।

ঘাগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাজাহান কবির সাজু জানান, গত মঙ্গল এবং বুধবারে ঘাগড়া ইউনিয়নের ঘাগড়া, সুহিলা, দেওখলা, দাপুনিয়া এবং কাতলাসেন গ্রামের প্রায় ৬০জন মানুষকে কামড়িয়েছে একটি পাগলা শিয়াল। এদের মধ্যে বেশির ভাগ শিশু ও নারী। আহতদের নাক, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ের চিহ্ন রয়েছে বলেও তিনি জানান ।

সূর্যকান্ত (এসকে) হাসপাতালের চিকিৎসক প্রজ্ঞানন্দ নাথ জানান, এ পর্যন্ত জনকে ৪০ জনকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। গুরুতর ৫-৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে রোগীর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলেও জানান তিনি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত