বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

ভারতে ধর্ষণ মামলার আসামি ৪ বছরের শিশু



আন্তর্জাতিক ডেস্ক::ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সাড়ে ৪ বছর বয়সী এক শিশুর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠেছে। এ নিয়ে ইতিমধ্যে মামলাও হয়েছে। তবে এতটুকুন একটা শিশুর বিরুদ্ধে কীভাবে মামলা পরিচালনা করবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছে পুলিশ। কিন্তু ছেলেটা যে ওই জঘন্য অপকর্মটি করেছে তা নিশ্চিত করেছে মেয়েটির মা ও চিকিৎসক।

গত শুক্রবার ফাঁকা ক্লাসরুম ও টয়লেটে নিয়ে গিয়ে সমবয়সী মেয়েটিকে ধর্ষণ করে ওই ছেলেটি। মেয়েটি এসময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। পরে বাড়িতে ফিরে মেয়েটা যন্ত্রণায় কাঁদতে থাকে। কারণ জানতে চাইতে সে তার মাকে জানায় ছেলেটি তার গোপণাঙ্গে আঙ্গুল ও ধারালো পেন্সিল ঢুকিয়ে দিয়োছিলো। তখন মেয়েকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে নিশ্চিত হন তার মা। এতে মেয়েটির গোপণাঙ্গে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানা যায়।
পরদিন তিনি স্কুলকে বিষয়টি জানালে এতে কোনো রকম সহযোগিতা করতে রাজি হয়নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। তখন শিশুটির মা স্থানীয় থানায় এফআইআর দায়ের করেন। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় ক্লাসে কোনো টিচার বা আয়া ছিলেন না, যারা তার মেয়েকে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।
এদিকে এই মামলা নিয়ে বিপাকে পড়েছে পুলিশ। দিল্লি পুলিশের প্রধান মুখপাত্র দীপেন্দ্র পাঠক বলেন,‘ মামলা যখন ফাইল হয়েছে তখন শিশুটি তো অবশ্যই আসামি। কিন্তু ইন্ডিয়ান পেনাল কোডে স্পষ্ট বলা আছে, ৭ বছরের কম বয়সীদের বিরুদ্ধে মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে তাকে সুনির্দিষ্ট কিছু সুরক্ষা দিতে হবে। তাই আমরা আইনটি ভালোভাবে যাচাইবাছাই করে দেখছি। স্পর্শকাতর মামলাটির ক্ষেত্রে আমাদের খুব সাবধান থাকতে হবে।’
এই ঘটনায় শঙ্কিত বিশেষজ্ঞরাও। দিল্লির ফোর্টিস হেল্থকেয়ার হাসপাতালের মনোরোগ ও ব্যবহারিক বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ডা. সমীর পারিখ বলেন, ‘একটা ৪ বছরের শিশুর পক্ষে এ ধরনের যৌন আচরণ করা সম্ভব, এটা বিশ্বাস করতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে। এত কমবয়সী শিশুদের মধ্যে কোনো যৌনাকাঙ্খা তৈরি হওয়া সম্ভব কিনা তা খতিয়ে দেখতে হবে।’
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত