বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

২ এজেন্ডায় এগোবে বিএনপি



নিউজ ডেস্ক::বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দলের নেতাদের উদ্দেশে বলেছেন, এখন থেকেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে কোনোক্রমেই শেখ হাসিনার অধীনে নয়। নির্বাচনকালীন সরকার গঠনের দাবি আদায়ে সবাইকে মাঠে নামারও জোর তাগাদা দিয়েছেন তিনি। গত মঙ্গলবার রাত ১২টার পর অনুষ্ঠিত চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের সঙ্গে এক বৈঠকে বেগম জিয়া নেতাদের এমন দিকনির্দেশনা দেন। বৈঠকে উপস্থিত কয়েকজন উপদেষ্টা এসব কথা জানিয়েছেন।

খালেদা জিয়া বলেছেন, দলীয় সরকারের অধীনে বিএনপি নির্বাচনে যাবে না। এমনকি দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনও করতে দেওয়া হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে অবশ্যই নয়। তার অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হতে পারে না। পাশাপাশি তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখার নির্দেশ দেন। তা ছাড়া উপদেষ্টাদের সংশ্লিষ্ট জেলা এবং থানা এলাকায় যাতায়াত বাড়ানোরও পরামর্শ দিয়েছেন। বলেছেন সংশ্লিষ্টদের মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সফর করতে।
লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পর ধারাবাহিক বৈঠকের অংশ হিসেবে চেয়ারপারসনের ৭৬ সদস্যের বিশিষ্ট উপদেষ্টাদের নিয়ে প্রথবারের মতো বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। তবে বৈঠকে ৫৩ জনের মতো সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ১০-১২ জন উপদেষ্টা দোতলায় চেয়ারপারসনের কামরায় গিয়ে একান্তে কথা বলেছেন। সেখানে নেতারা নিজেদের মনোনয়ন এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার কমিটি গঠন নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানান উপদেষ্টা কমিটির একজন সদস্য। বৈঠকে খালেদা জিয়া নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আওয়ামী লীগ আবার জোর করে ক্ষমতায় থেকে একতরফা নির্বাচন করতে চায়। এজন্য নির্বাচনে বিচারিক ক্ষমতাসহ সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হবে। নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) মাধ্যমে ভোটগ্রহণ মানা হবে না।
উপদেষ্টারা খালেদা জিয়াকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো সফরের তাগিদ দেন। দলের কর্মকা- গতিশীল করতে এবং নেতাদের সক্রিয় রাখতে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করার পরামর্শও দেন। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘ম্যাডাম শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচনে যাবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। এ ছাড়া এ ধরনের কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। তাই সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিতে বলেছেন চেয়ারপারসন।’ এ সময় উপদেষ্টারা দ্রুত জেলা কমিটিগুলোর পুনর্গঠন শেষ করার পরামর্শ দিয়েছেন। যেসব জেলায় বিরোধ আছে তা চিহ্নিত করে শিগগিরই মীমাংসা করার জন্য বলেছেন। যারা দলে বিভেদ-বিশৃঙ্খলা করবে তাদের বহিষ্কার করা হবে বলে কড়া হুশিয়ারি দেন খালেদা জিয়া। তিনি বলেন, ‘ম্যাডাম বলেছেন নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকার, সেনা মোতায়েন, ইসির নিরপেক্ষতা, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পরিবেশ না হলে নির্বাচনে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।’
আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর ১০-১২ জন উপদেষ্টা রাত ১২টার পর চেয়ারপারসনের সঙ্গে দোতলায় একান্তে কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, সাবিহউদ্দিন আহমদ, আমান উল্লাহ আমান, জয়নাল আবেদীন ফারুক, ইসমাইল জবিউল্লাহ, হেলালুজ্জামান তালুকদার লাল প্রমুখ।
বৈঠকে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের ৫৩ জন সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা হলেন উকিল আবদুস সাত্তার, লুৎফর রহমান খান আজাদ, সাবিহউদ্দিন আহমেদ, আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, আবুল খায়ের ভুঁইয়া, গাজী মাজহারুল আনোয়ার, আ ন হ আখতার হোসেন, মাজেদুল ইসলাম, জয়নুল আবদিন ফারুক, জয়নাল আবেদিন ভিপি জয়নাল, মনিরুল হক চৌধুরী, মেজর (অব.) কামরুল ইসলাম, সৈয়দ মেহেদি আহমেদ রুমি, এম এ কাইয়ুম, জহুরুল ইসলাম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, আবদুর রশিদ, হায়দার আলী, জিয়াউর রহমান খান, তাজমেরী এস ইসলাম, শাহিদা রফিক, গোলাম আকবর খন্দকার, কাজী আসাদ, কবির মুরাদ, অধ্যাপক শাহজাহান মিয়া, একরামুজ্জামান, ফজলুর রহমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, আতাউর রহমান ঢালী, নজমুল হক নান্নু, তাহমিনা রুশদীর লুনা, এনামুল হক চৌধুরী, সিরাজুল ইসলাম, সুকোমল বড়ুয়া, বিজন কান্তি সরকার, আবদুল হক, তৈমুর আলম খন্দকার, কামরুল মুনির, বোরহান উদ্দিন, আবদুল বায়েছ ভুঁইয়া, আবদুস সালাম, শাহাজাদা মিয়া, এস এম ফজলুল হক, এম এ লতিফ, আবদুল কুদ্দুস, আবদুল মান্নান তালুকদার, ফরহাদ হালিম ডোনার, খন্দকার মুক্তাদির আহমেদ, মামুন আহমেদ, সৈয়দ শামসুল আলম, হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু, মাহবুবুর রহমান প্রমুখ। ৭৬ সদস্যের উপদেষ্টা কাউন্সিল সদস্যের মধ্যে তিনজন হারুনার রশীদ মুন্নু, ফজলুর রহমান পটল ও আখতার হামিদ সিদ্দিকী প্রয়াত হয়েছেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত