শনিবার, ২০ অক্টোবর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জেরুজালেম ইস্যুতে সৌদির ভূমিকা: লাভ হবে কার?



আন্তর্জাতিক ডেস্ক::বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বীকৃতির বিরুদ্ধে বিশ্বের মুসলমানরা যখন বিক্ষোভ করছে ঠিক তখনি সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার বিষয়ে তাদের রোডম্যাপ রয়েছে। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলিদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তরিক বলেও তিনি দাবি করেন।

ধারণা করা হচ্ছে, রোডম্যাপ অনুযায়ী বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমকে বর্ণবাদী ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মেনে নিতে সৌদি আরবের আপত্তি নেই। কারণ এরইমধ্যে সৌদি আরবের মিডলইস্ট রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক আব্দুল হামিদ হাকিম বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইহুদি ধর্মের প্রতীক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। সৌদি সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এরইমধ্যে বায়তুল মুকাদ্দাসকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে মেনে নেওয়ার বিষয়ে জনমত তৈরির কাজ শুরু করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বায়তুল মুকাদ্দাস ও ইয়েমেন ইস্যুতে আমেরিকা ও সৌদি আরব আঁতাত করেছে। এই আঁতাতের কারণে ইয়েমেনে সৌদি হামলা আরও বেড়েছে। গত ১০ দিনের সৌদি হামলায় ইয়েমেনে ২৪০ জন নিহত ও শত শত মানুষ আহত হয়েছে। বাস্তবতা হলো, আঁতাতের কারণে আমেরিকা ও ইসরাইল লাভবান হলেও চূড়ান্তভাবে ক্ষতির শিকার হবে সৌদি আরব। এরইমধ্যে সৌদি আরবের প্রতি মুসলমানদের ক্ষোভ ও ঘৃণা বেড়ে গেছে। সৌদি নীতির বিরুদ্ধে আলজেরিয়া, জর্ডান ও তুরস্কে এতবেশি প্রতিক্রিয়া হয়েছে যে, ওই সব দেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূতরাও এ বিষয়ে কথা বলতে বাধ্য হয়েছেন।

ইয়েমেনে নিরপরাধ নারী ও শিশু হত্যার কারণে সৌদি আরবের ভাবমর্যাদা অনেক আগে থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। ব্রিটেনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী পেনি মুরদান্ত ইয়েমেনে সৌদি বর্বরতার সমালোচনা করে বলেছেন, কোনো কারণ ছাড়াই সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে এবং মানবিক ত্রাণ প্রবেশে বাধা দিচ্ছে। দারিদ্রপীড়িত মুসলিম দেশ ইয়েমেনে গত প্রায় তিন বছর ধরে সৌদি আগ্রাসন চলছে। ওই আগ্রাসনের মধ্যদিয়ে দেশটির শাসক গোষ্ঠীর ইসলাম বিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হয়ে গেছে। মুসলমানরা বলছেন, মক্কা-মদিনার প্রকৃত সেবক হলে ইয়েমেনের নিরীহ মুসলমানদেরকে এভাবে হত্যা করতে পারতো না সৌদি শাসক গোষ্ঠী।

সর্বশেষ বায়তুল মুকাদ্দাস ইস্যুতে সৌদি আরব নিজেকে মুসলিম বিশ্ব থেকে আলাদা করে ফেলেছে এবং আরব বিশ্বের নেতৃত্বের আসন হাতছাড়া করেছে। শুধু তাই নয় সৌদি শাসকগোষ্ঠীর পতনের আশঙ্কাও করছেন অনেক বিশ্লেষক। কারণ মোহাম্মাদ বিন সালমান সৌদি আরবের যুবরাজ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ছয় মাসে এমন সব কাজ করেছেন যা সেখানকার শাসকগোষ্ঠীর পতন তরান্বিত হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। কারণ যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমান এরইমধ্যে দেশটির জনগণের জন্য নানা সমস্যা সৃষ্টি করেছেন। অর্থনীতিও দুর্বল হয়ে পড়ছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও যুবরাজকে একজন অবিবেচক ব্যক্তিত্ব হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেন্ডেন্ট এরইমধ্যে বিন সালমানকে মধ্যপ্রাচ্যের ব্যর্থ ব্যক্তিত্ব হিসেবে চিহ্নিত করেছে। পার্সটুডে

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত