মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

সূত্র খুঁজছে পুলিশ-গোয়েন্দা সংস্থাহঠাৎ শামীম ওসমানের বাড়িতে অপরিচিত কে এই ব্যক্তি?



নিউজ ডেস্ক::স্মার্ট চেহারা, দামি পোশাক আর ইংরেজি উচ্চারণে বোঝার উপায় ছিল না সে একজন আগন্তুক। বিয়েবাড়িতে আসা অনেকেই মনে করেছিল বরের বন্ধু। কিন্তু বিপত্তি বাধে যখন ওই আগন্তুক তার সঙ্গে থাকা দামি ভিডিও ক্যাম দিয়ে আমন্ত্রিতদের ছবি না তুলে গোপনে পুরো বাড়ির ভিতর ও বাহিরের ভিডিও করছিল।

বেশ তড়িঘড়ি করে বের হয়ে যাওয়ার সময় তাকে রাস্তায় থামিয়ে পরিচয় জিজ্ঞাসা করার পরই জানা যায়, সে স্বজন বা এ এলাকার কেউ নয়। নারায়ণগঞ্জের এমপি ও প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের জামতলার বাড়িতে ঘটেছে এমন ঘটনা।

বিষয়টি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠদের মাঝে। বিশেষ করে সুলতান মাহমুদ শুভ নামে ওই যুবকের কাছ থেকে প্রচুর মালয়েশিয়ার কারেন্সি (রিঙ্গিত) আর সেখানকার কাগজপত্র পাওয়ার পর এ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছেন পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজন।

তবে এখনও তারা ওই যুবকের আগমন সম্পর্কে জানতে ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শুভ তাদেরকে যা বলছে তার পুরোটাই অসংলগ্ন।

বিষয়টি ‘অন্য কিছু’ বলে সন্দেহ পোষণ করে ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ‘তার মালয়েশিয়ার ঠিকানা ও থাকার স্থান সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহের আগে আমরা কিছুই বলতে পারছি না।’জানা গেছে, চলতি মাসে সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমানের একমাত্র ছেলে ইমতিনান ওসমানের বিয়ের অনুষ্ঠান চলছে। গত ১৫ ডিসেম্বর ছিল বিয়ের দিন এবং আগামী ২২ ডিসেম্বর বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে তার বাড়িতে চলছে নানা আয়োজন এবং প্রতিদিনই নেতাকর্মী ও স্বজনরা শুভেচ্ছা জানাতে আসছেন বাড়িতে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১৬ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় শামীম ওসমান এমপির জামতলাস্থ নিজ বাড়িতে প্রবেশ করে গোপনে ভিডিও ধারণ করছিল এক যুবক।

বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার সময় সন্দেহ হলে কয়েকজন তাকে আসার কারণ ও পরিচয় জানতে চাইলে সে নানান কথা বলতে থাকে। একপর্যায়ে সে জানায়, ‘আমি শামীম ওসমানের ভক্ত, তাই তাকে দেখতে এসেছি।’ এরপর তাকে নিয়ে যাওয়া হয় শামীম ওসমানের কাছে। এমপি শামীম ওসমান বলেন, ছেলেটিকে প্রথম দেখেই আমি ভেবেছিলাম সে আমার বা কনে বাড়ির কেউ হবে।

কিন্তু সে জানায় সে আমার ভক্ত এবং আমার সঙ্গে সেলফি তুলতে এসেছে। বিষয়টি সন্দেহ হলে আমি তার বাসার কথা জানতে চাই। সে প্রথমে জানায় তার বাড়ি বগুড়া। এরপর বগুড়া কোন থানা এলাকায় জানতে চাইলে বলে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জের মাঝামাঝি। আমি তার কাছে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখতে চাইলে সে দেখাতে ব্যর্থ হয়। বর্তমান ঠিকানা জানতে চাইলে সে উত্তরা থাকে বলে জানায়।

এরপর তার মানিব্যাগ দেখতে চাইলে সে ইতস্তত শুরু করলে আমি বলি তোমার কথার তো মিল পাচ্ছি না। একপর্যায়ে সে আমার সরকারি দেহরক্ষীর কাছে তার মানিব্যাগ দিলে দেখতে পাই সেখানে প্রচুর মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত এবং সব কাগজপত্র মালয়েশিয়ার ঠিকানার।

একপর্যায়ে আমি বাধ্য হয়ে ফতুল্লা থানায় বিষয়টি জানালে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে যায়। শামীম ওসমান বলেন, বিষয়টি আমি পুলিশ, র‌্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়েছি। বিষয়টি এখন তাদের হাতেই আছে। এদিকে এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার শুভর আচরণ সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে।

মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশে এসে নিজের বাড়িতে না গিয়ে কেন হোটেলে অবস্থান করেছে এবং তারপর সে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের জামতলাস্থ নিজ বাড়ির ভেতরে অনুপ্রবেশ করে গোপনে ভিডিও ধারণ করেছে।

এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। বিষয়টি জঙ্গি সংশ্লিষ্ট কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, ‘আমরা জানি শামীম ওসমান এমপি সব সময়ই জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন এবং ২০০১-এর ১৬ জুন তাকে হত্যা করতে জঙ্গিরা বোমা হামলা চালিয়েছিল।

তাই সব মিলিয়ে বিষয়টিকে আমরা গুরুত্বসহকারেই খতিয়ে দেখছি।’ এদিকে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল উদ্দিন জানান, শুভ জানিয়েছে তার স্থায়ী ঠিকানা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থানার চরতেলিজানা গ্রামে।

সে রাজধানীর মিরপুর ১০ শেওড়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা হাসান আলমগীর খানের ছেলে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দু’দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে প্রেরণ করা হলে আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। সূত্র:- যুগান্তর।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত