সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

জায়গা দখল করে ঘিরে ফেলছে হোটেল সিগাল।



কক্সবাজার থেকে: সরকারি জমি ফের বাগিয়ে নিচ্ছে হোটেল সিগাল। সাগরকন্যা কক্সবাজার সৈকতের সি ইন পয়েন্টে উচ্ছেদ হওয়া ৫০ শতাংশ জায়গা এরই মধ্যে দখলে নিয়েছে এই তারকা হোটেল কর্তৃপক্ষ।

প্রশাসনের নাকের ডগায় বিএনপি ঘেঁষা হোটেল সিগালের এমন বেপরোয়া দখলবাজি বিপুল বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। কেননা বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে তারেক রহমান ও বিএনপির কক্সবাজার ভিত্তিক প্রায় সব অনুষ্ঠানেই জড়িয়ে ছিলো হোটেল সিগাল। তারেক রহমানের সব আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক বৈঠক, বার্থ ডে পার্টি, গেট টুগেদার আর দলের কনসার্টে হোস্ট ভ্যেনু হতো সিগাল।

আওয়ামী লীগ আমলে তাই হোটেল সিগালের এই দখলবাজি নানামুখী প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। কিন্তু সিগাল কর্তৃপক্ষ কেনো কিছুর কেয়ারই করছে না।

সরকারি জায়গা কেনো ফের দখলে নিচ্ছেন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত সিগালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মাসুম ইকবালের ঔদ্ধত্যপূর্ণ জবাব, প্রশাসনের মৌখিক অনুমতিক্রমে দখল নেওয়া হয়েছে।

সরকারি জায়গা দখল করছে হোটেল সিগাল। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সিগালের অবৈধ দখলে নেওয়া এই ৫০ শতাংশ জমির বর্তমান বাজার মূল্য ২৫ কোটি টাকারও বেশী।

উচ্ছেদ করা জায়গাটির প্রকৃত মালিক কে, সরকার নাকি সিগাল- প্রশ্নের জবাবে কৌশলী উত্তরে মাসুম ইকবাল বলেন, আমাদের ভেতরে যদি সরকারি জমি থেকে থাকে তাহলে আমাদের নামে বরাদ্দ দেওয়ার অনুরোধ করেছি।

এমন অস্বচ্ছ উত্তর নানামুখী জল্পনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে গোপন আ‍ঁতাত করেই হোটেল সিগাল ওই জায়গা দখলে নিয়েছে বলে অসন্তোষ দানা বাঁধছে স্থানীয়দের মধ্যে। সবার অভিযোগ, গত ১৯ এপ্রিল স্থানীয় প্রশাসন হোটেল সিগালের পাশাপাশি প্রাসাদ প্যারাডাইস, তরঙ্গ রেস্তোরাঁ, ক্যাঙ্গারু এবং সি রেস্তারাঁর অবৈধ স্থাপনাও উচ্ছেদ করে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়। অন্যরা পরবর্তীতে সরকারি জমি বাদ দিয়ে যার যার সীমানা প্রাচীর তোলে। কিন্তু একমাত্র হোটেল সিগালই প্রশাসনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সরকারি জমি ফের দখলে নিয়েছে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত