বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

বাড়ি যাচ্ছে মুক্তামণি



নিউজ ডেস্ক::দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার পর ১ মাসের জন্য বাড়ি যাচ্ছে মুক্তামণি। বিরল রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মুক্তামণি প্রায় ছয় মাস পর অনেকটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যাচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) ঢামেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন সাংবাদিকদের বলেন, মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তামণিকে ছাড়পত্র দেয়া হয়েছে। শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) সে তার পরিবারের সঙ্গে বাড়ি যাবে।

মুক্তামণির চিকিৎসা এখনো সম্পন্ন হয়নি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, তাকে (মুক্তামণি) আমরা ফলোআপে রেখেছি। তাকে আবার হাসপাতালে আসতে হবে। হেমানজিওমা রোগে আক্রান্ত মুক্তামণির আর অস্ত্রোপচার দরকার নেই।

সাতক্ষীরার কামারবাইশালের মুদির দোকানদার ইব্রাহীম হোসেনের দুই যমজ মেয়ে হীরামনি ও মুক্তামণি। জন্মের দেড় বছর পর থেকে মুক্তামণির সমস্যা শুরু। প্রথমে হাতে টিউমারের মতো হয়। ছয় বছর বয়স পর্যন্ত টিউমারটি তেমন বড় হয়নি। কিন্তু পরে তা ফুলে কোলবালিশের মতো হয়ে যায়। মুক্তামণি বিছানায় বন্দি হয়ে পড়ে। হাতে পুঁজ জমে থাকায় তা থেকে সব সময় দুর্গন্ধ বের হতো। হীরামনি ছাড়া অন্য কোনো শিশু এমনকি বড়রাও কাছে ঘেঁষতেন না।

মুক্তামণি এখন পর্যন্ত এক বছর তিন মাস বয়সী ছোট ভাইকে কোলে পর্যন্ত নিতে পারেনি। সাতক্ষীরা, ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় নানা চিকিৎসা চলে। তবে ভালো হয়নি বা ভালো হবে সে কথা কেউ কখনো বলেননি। গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে খবর প্রকাশ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনায় আসে মুক্তামণির খবর। ১১ জুলাই মুক্তাকে ভর্তি করানো হয় বার্ন ইউনিটে। তার পরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুক্তামণির চিকিৎসার দায়িত্ব নেন।

মুক্তামণির জন্য গঠিত আট সদস্যের মেডিকেল বোর্ড জানায়, মুক্তামণি বিরল রোগে আক্রান্ত। রোগটির নাম ‘হাইপারকেরাটোসিস’। পরে মুক্তামণির কাগজপত্র সিঙ্গাপুরে পাঠান বার্ন ইউনিটের সমন্বয়কারী ডা. সামন্ত লাল সেন। ওই দেশের একটি হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে কথাও হয়। তবে সিঙ্গাপুরের ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় তাদের পক্ষে এ ধরনের অপারেশন সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত ওই চ্যালেঞ্জই নেয় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিট। মুক্তামণির হাতে ১০ অক্টোবর প্রথম অস্ত্রোপচার হয়।

নিজের ভবিষ্যত কেমন হবে তা নিয়ে ভাবনার চেয়ে বাড়িতে যাওয়ার খুশিই বেশি ছুঁয়ে গেছে শিশু মুক্তামণির মন। সবশেষ ৬ নভেম্বরেও অস্ত্রপচার হয়েছে তার। বাড়িতে যাওয়ার আগে মুক্তামণির বাবা-মাকে বেশ কিছু নিয়মাবলি শিখিয়ে দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

চিকিৎসক ডা. রোমানা পারভিন বলেন, নিয়মিত চিকিৎসার পাশাপাশি এখন থেকে ফিজিওথেরাপিও শুরু হবে মুক্তামণির।

এ রোগ থেকে সেরে উঠতে আরও লম্বা সময় অপেক্ষা করতে হবে তাকে। সবার প্রত্যাশা পুরোপুরি সুস্থ হয়েই উঠুক মুক্তামণি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত