রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৮ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনআশা নয়, সংকট বাড়ছে বিএনপিতে!



নিউজ ডেস্ক::আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে বিএনপিতে ততটা আশা নয়, সংকট বাড়ছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতে, এই নির্বাচন সহায়ক সরকার বা নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে করতে বিএনপি চেয়ারপারসন যে রুপরেখা জাতির কাছে তুলে ধরার কথা তা এখনও ধোয়াসায়। সঠিক সময়ে রুপরেখা দেয়া হবে বললেও, ‘কবে’ সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নেই বিএনপির সিনিয়র নেতাদের কাছে।

সভা-সমাবেশ, ক্ষমতাসীনদের বক্তব্যের জবাব এবং বিভিন্ন ইস্যূতে গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতির মধ্যেই বিএনপির সীমাবদ্ধা দেখছেন মাঠের নেতাকর্মীরা। সরকারের নির্যাতনের বিরুদ্ধে ও প্রধান দাবি নির্বাচনকালীন সময়ে সহায়ক সরকারের দাবিতে আন্দোলনের কথা বললেও প্রকৃত অর্থে তেমন কোনো আন্দোলনের লক্ষণ দেখছেন না তারা।

দলের অঙ্গসংগঠন গুলোর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা নিয়ে ধুম্রজাল, মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও ঘোষণা করা হয়নি ছাত্রদল, কৃষকদলের কমিটি। দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ আগের করা কমিটির অধীনে চলছে কৃষকদল। ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা নিয়ে কয়েক দফা নেতাকর্মী আন্দোলন করলেও এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি দলটির হাইকামান্ড থেকে।

এছাড়া মুক্তিযোদ্ধা দলের ২০১৫ সালে শুধুমাত্র সাদেক খানকে সাধারণ সম্পাদক করে আগের কমিটিকেই বহাল রাখা হয়। স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল, জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল, মহিলা দল, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি ঘোষণা করলেও দীর্ঘ দিনেও পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করতে পারেনি সংগঠনগুলো। এছাড়া সারা দেশের তৃণমূল কমিটি পুনর্গঠনেও রয়েছে ধীর গতি। সঠিক সময়ে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা না করার কারণ হিসেবে ‘পদ’ নিয়ে নেতাকর্মীদের অন্তর্দ্বন্দকে দায়ী করছেন তারা।

দলের প্রতিটি সংগঠনের নেতাকর্মীদের ‘পদ প্রাপ্তী’ নিয়ে অসন্তোষ এবং অন্তর্দ্বন্দেই আটকে আছে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার জন্য সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক বারবার সময় দিলেও আশার আলো দেখছেন না তৃণমূল নেতাকর্মীরা।

কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বিডি২৪লাইভকে বলেন, আমরা কৃষকদলের সম্মেলনের আহ্বান করেছিলাম কিন্তু সে সময় আমাদের চেয়ারপারসন নানা কারণে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় করতে পারিনি। তবে শীঘ্রই তার সাথে আবারও আলাপ করে সম্মেলন বা কমিটির ব্যাপারে কথা বলবো। তিনি (খালেদা জিয়া) যেভাবে দিক-নির্দেশনা দিবেন সেভাবে করা হবে।

মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান বিডি২৪লাইভকে বলেন, মুক্তিযোদ্ধা দলের কমিটির মেয়াদের সময় একভাবে শেষ হয়েছে। আরেক ভাবে এখনও আছে। মেয়াদ শেষে শুধু আমাকে সাধারণ সম্পাদক করে ২০১৫ সালে আগের কমিটি বহাল রেখে আবারও কমিটি দেয়া হয়। আগের কমিটিতে শুধু একটা পরিবর্তন হয়েছে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর আবারও মুক্তিযোদ্ধা দলের কাউন্সিল হবে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি ও বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল বিডি২৪লাইভকে বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের পূর্ণাঙ্গ কমিটি আমরা অনেক আগেই দিতাম। কিন্তু পরে আমরা চিন্তা করলাম থানা এবং প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নাম নেই। এর জন্যই প্রোসেসটা একটু স্লো হয়েছে। আমরা চেয়েছি নিজেরা নাম ঠিক না করে থানা ওয়ার্ড থেকে নামগুলো আসুক। এখন আমরা নাম নিচ্ছি। এরপরে আমরা বসে বাকি পদগুলোতে পূরণ করবো। আগামী এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি দেবার ইচ্ছা আছে বলেও জানান তিনি।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আহসানউল্লাহ হাসান বলেন, এখন আমাদের প্রোগ্রাম চলছে। এ মাসের ২৫-৩০ তারিখের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা ম্যাডামের হাতে পৌঁছাবে বলেও জানান তিনি।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত