রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

অস্তিত্ব সংকটে ছাতকের পেপারমিল শহীদ মিনার



ছাতক সংবাদদাতা ::বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে বাঙ্গালী জাতি মেতে উঠে বিজয় উল্লাসে। বিজয় দিবসে সারা দেশের ন্যায় ছাতকেও সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবি সংগঠন শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সময়ের আগেই শহীদ মিনার ও স্মৃতিসৌধ ধোঁয়া-মুছা ও পরিস্কার-পরিছন্ন করা হয় প্রতি বছর। ১৬ ডিসেম্বর রাত ১২টা ১মিনিট থেকে ফুলে-ফুলে সজ্জিত হয়ে উঠে স্মৃতিসৌধ ও শহীদ মিনার।

বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠন শহীদ মিনারের পাদদেশে পালন করে সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু বিগত দেড় যুগ ধরে সুনামগঞ্জের ছাতক পাল্প এন্ড পেপার মিলের মিনি মার্কেটস্থ শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসেননি কেউ। একটি ফুলও পড়েনি অবহেলিত এ শহীদ মিনারের বেদিতে। অশ্রদ্ধা ও অবহেলায় আরো একটি বছর পার হয়ে যায় স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠিত এ শহীদ মিনারটি। ছাতকস্থ সিলেট পাল্প এন্ড পেপার মিল উৎপাদনে যাওয়ার সময় মিলে শ্রমিক ইউনিয়ন ও সিবিএ মিল সংলগ্ন সুরমা নদীর পাড়ে ৮১ সালে নির্মিত হয় একটি শহীদ মিনার। তৎকালীন সময়ে মিলের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সিবিএ, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, এসপিপিএম উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজন এ শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতেন জাতীয় দিবস গুলোতে।
পরবর্তীকালে এসপিপিএম উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে আরো একটি শহীদ মিনার নির্মিত হলে ক্রমেই অবহেলিত হয়ে কদর হারাতে থাকে এ শহীদ মিনারটি। ২০০২ সালে মিলটি পে-অফ ঘোষনা করা হলে এ শহীদ মিনারটি মানুষের চোখের সম্পুর্ন আড়ালে চলে যায়। অবহেলায় ও অশ্রদ্ধায় পড়ে থাকে বছরের পর বছর। প্রায় দেড় যুগ ধরে অনাদরে পড়ে থাকা এ শহীদ মিনাটি ক্রমেই ভেঙ্গে অস্থিত্ব সংকটে পড়ে। ছোট আকৃতির হওয়ায় বর্তমানে মিনারের স্তম্ভে বসে আড্ডায় মত্ত হয় ভবঘুরেরা। রাতের আধাঁরে নেশাগ্রস্থ মানুষের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয় এ শহীদ মিনার ও আশপাশ এলাকা। মিনারের বেদীতে বসে প্রশ্রাব-পায়খানা করে এর পরিবেশ নোংরা করা হচ্ছে প্রতিনিয়িত। গত দু’বছর আগে পেপারমিল মিনি মার্কেট ব্রিজ ভেঙ্গে নতুন ব্রীজের নির্মাণ কাজ করার সময় এ শহীদ মিনারকে ঘেঁষে তৈরি করা হয়েছি বাইপাস সড়ক। তখন এ বাইপাস সড়ক দিয়ে প্রতিদিন সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ জেলা সদরে আসা-যাওয়া করেছেন প্রায় এক বছর। অবহেলা ও নোংরা অবস্থায় পড়ে থাকা এ শহীদ মিনারটি সকলের নজরে আসলেও রক্ষণাবেক্ষণে কেউ এগিয়ে আসেননি। এটি রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে এভাবেই যুগের পর যুগ অবহেলা ও অনাদরে পড়ে থেকে শহীদ মিনারটির হয়তো যবনিকাপাত ঘটবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত