সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

নয়াপল্টনে রিজভীস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বিএনপির প্রশ্ন



নিউজ ডেস্ক::বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) গভীর রাতে ১৯৬ কর্মকর্তার যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যা রহস্যজনক এবং সর্বমহলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, এসএসবির ফিটলিস্ট অনুযায়ী অনেক যোগ্য ও উপযুক্ত কর্মকর্তাকেও পদোন্নতি দেয়া হয়নি। এ ছাড়া আরও বেশকিছু কর্মকর্তার নাম ফিটলিস্ট ভুক্ত করা হয়নি বলেও অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগের আমলে বলেই তা সম্ভব। এবারও শত শত যোগ্য ও মেধাবি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি বঞ্চিত করা হয়েছে। যোগ্যতা থাকার পরও পদোন্নতি না পাওয়ায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। গভীর রাতে পদোন্নতির প্রজ্ঞাপন জারি নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার (২৩ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বর্তমান ভোটারবিহীন সরকার দলীয়করণের মাধ্যমে গোটা প্রশাসনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। বার বার যোগ্য ও মেধাবি কর্মকর্তাদের পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা, অযোগ্য দলীয় লোকদের প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় বসিয়ে রাখা, দলীয় লোকদের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া এবং পদের তিনগুণের বেশী পদোন্নতি দিয়ে প্রশাসনের ভারসাম্য ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। বার বার পদোন্নতি বঞ্চিত হয়ে যোগ্য কর্মকর্তারা হতাশা থেকে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা আত্মহত্যাও করেছে। যা জাতির জন্য খুবই লজ্জাকর।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন-আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় নিখোঁজরা ফিরতে শুরু করেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রশ্ন-তাহলে কাদের তৎপরতায় নিখোঁজ ব্যক্তিরা গুম হয়েছিল ? যারা দীর্ঘ ৯ বছর ধরে ভীতির শিহরণে গোটা জাতিকে রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে গুমের হিড়িক চালিয়েছে তারা কারা? তাহলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী কী আমরা ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সাইফুল ইসলাম হিরু, পারভেজ, সুমন, খালেদ হোসেন সোহেল, কাজী ফরহাদ, মোঃ জহির, সুজন, সেলিম রেজা পিন্টু, ছাত্রনেতা জাকিরসহ গুম হওয়া কমপক্ষে ৭৫০ জন বিএনপি নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে পেতে অপেক্ষা করবো? নিখোঁজ কয়েকজনকে ফেরত দেয়ায় গুম থাকা ব্যক্তিদের পরিবারগুলো কী তাহলে তাদের ফিরিয়ে পেতে আশায় বুক বাঁধবে? বিএনপি নেতাকর্মীদের বাইরেও সাবেক সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তা, আইনজীবী, রাষ্ট্রদূত, শিক্ষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী যারা গুম হয়েছেন তাদের পরিবারও নিখোঁজ স্বজনদের অপেক্ষায় আছে। তাদেরকে ফিরিয়ে দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এদেশে চলমান সকল গুমের জন্য দায়ী বর্তমান জবাবদিহিহীন সরকার। বিচার বহির্ভূত হত্যা আর গুমের কর্মসূচি হচ্ছে অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখার গ্যারান্টি। তাই এই সন্ত্রাসী পথ থেকে সরকার সরে আসতে পারবে না নিজেদের স্বার্থেই। সেজন্যই বাংলাদেশকে লাশের দেশে পরিণত করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে আবারো বিচারবহির্ভূত হত্যার মাত্রা বৃদ্ধি করা হয়েছে। রক্তপাতের বিভিষিকা টিকিয়ে রাখতে এরা নিজের মর্জি ও প্রয়োজনমাফিক সংবিধান সংশোধন ও আইন রচনা করে চলেছেন।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন-আওয়ামী লীগই আগামীতে ক্ষমতায় আসবে। তার উদ্দেশ্যে বলতে চাই-তাহলে কী আপনারা ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ভোটারবিহীন নির্বাচনের মতো আরেকটি নির্বাচনের নীল নকশা প্রস্তুত করে রেখেছেন ? ভোটারবিহীন নির্বাচনে এতটাই মজা পেয়েছেন যে, তারা সেই অবৈধ পথ ছাড়তে চাচ্ছেন না। ওবায়দুল কাদের সাহেবের এই বক্তব্য আগামী নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা ও ষড়যন্ত্রের ক্ষণে ক্ষণে একটা নৈরাজ্যের কালো রাতের আভাস মেলে। কিন্তু এবারেই দুঃশাসনের ঘন অন্ধকারের অবসান ঘটবে। মানুষের ঘৃণা-ধিক্কারে অবৈধ ক্ষমতাসীনরা আর টিকে থাকতে পারবে না। ভোটারবিহীন নির্বাচনের স্বপ্ন আর পূরণ হবে না। বিভিষিকাময় রক্তাক্ত প্রান্তর সৃষ্টি করে আর প্রধানমন্ত্রীত্ব করা যাবে না।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত