শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মাঠে নামার আগে ঘর গোছাচ্ছে বিএনপি



বদরুল আলম মজুমদার: মাঠে নামার আগেই দলের সকল পর্যায়ের কমিটি শেষ করতে চায় বিএনপি। এতদিন খালেদা জিয়ার অপেক্ষায় দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়া বন্ধ ছিল। তবে এখন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে বহুল কাঙ্ক্ষিত সাংগঠনিক কমিটি গঠনের কাজ শুরু হচ্ছে। দলের একাধিক নিভরযোগ্য সূত্র জানায়, আগামী নির্বাচন বা নির্বাচনের আগে সরকারবিরোধী আন্দোলন, যে পথেই বিএনপি হাঁটুক না কেন একটি শক্তিশালী সংগঠনের বিকল্প নেই। এমন বাস্তবতায় সম্প্রতি দলের সিনিয়র নেতারা তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারাও সাংগঠনিক পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বাড়িয়েছেন তৎপরতা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে কাঙ্ক্ষিত ফল না আসায় দলের ভেতরে এক ধরনের ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে। তাছাড়া দলের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করার জন্য বিএনপি সাংগঠনিকভাবে তেমন কোনো শক্তিই দেখাতে পারেনি। দলের তৃণমূল থেকে বারবার কঠোর কর্মসূচি চাওয়া হলেও দল সে পথে হাঁটেনি। এ কারণেই বিএনপির বড় একটি অংশ মনে করে, সরকার চেয়ারপারসনকে জেল থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে কোনো চাপই অনূভব করেনি। তারা মনে করেন, কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে না পারার জন্যই খালেদা জিয়ার জেলজীবন দীর্ঘায়িত হচ্ছে। এ ছাড়াও আগামী সাধারণ নির্বাচনে কেন্দ্র পাহারা দিয়ে মাঠে থাকতে হলে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে। এ জন্য সারা দেশে দল গোছানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিএনপির হাইকমান্ড।

সম্প্রতি দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক আলোচনায় আক্ষেপ করে বলেছেন, চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে না পারার জন্য ব্যর্থতা স্বীকার করে নিচ্ছি। সরকার আমাদের চেয়ারপারসনকে জোর করে জেলে রাখার চেষ্টা করছে। সেই অবস্থা থেকে ফেরাতে আমরা তেমন কোনো প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারিনি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা আমাদের চেয়ারপারসনকে মুক্ত করতে পারব না।

বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনকে কঠোর করতে না পারার একমাত্র ব্যর্থতা হচ্ছে দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা। দেশের অধিকাংশ জায়গায় বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের কমিটি হয় না যুগ যুগ ধরে। তাই নতুন নেতৃত্ব বের না হওয়াতে কেউ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে রিস্ক নিতে চায় না। দলের পক্ষ থেকে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে তা পালন হয় না। নেতারা জানান, দেশের দুই একটি জেলা ছাড়া অধিকাংশ এলাকায় কর্মসূচি পালন হত নামকাওয়াস্তে। এ ধরনের কর্মসূচি রাজনীতিতে কোনো প্রভাব তো ফেলতই না বরং যারা অল্প-বিস্তর কর্মসূচি পালন করত তাদেরও পড়তে হত পুলিশের রোষানলে।

গত চার বছর বিএনপি মাঠে বড় কোনো অন্দোলনে না গিয়ে সংগঠন গোছানোয় বেশ মনোযোগ দিয়েছিল। এসব সাংগঠনিক পুনর্গঠন বেশ জোরেশোরে চললেও চেয়ারপারসন জেলে যাওয়ার পর তা স্থগিত হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে সিনিয়র নেতারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করেন। সে আলোকে ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে পুনর্গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন তারেক রহমান। পুনর্গঠনের কাজ তদারকি করবেন তারেক রহমান নিজেই। সাংগঠনিক পুনর্গঠনের দায়িত্বে থাকা বিএনপির ভাইসচেয়ারম্যান মো. শাজাহান প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) কারাবন্দির আগে ৭৮ সাংগঠনিক জেলার মধ্যে বিএনপির ৫১ সাংগঠনিক জেলা কমিটি পুনর্গঠন সম্ভব হয়েছে। বাকি জেলাগুলোর মধ্যে ১৫টির খসড়া কমিটিও প্রস্তুত আছে। বাকি কমিটিগুলোর ব্যাপারে খোঁজখবরও নেওয়া শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এতদিন কমিটি গঠন করা হত সুপার ফাইভ বা ক্ষেত্র বিশেষ একটু বেশি। কিন্তু এবারের নির্দেশনা হচ্ছে পুরো কমিটির কাজ এক সঙ্গে শেষ করতে হবে। সে ক্ষেত্রে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক—এই তিন পদের নেতাদের গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে। কমিটি গঠনে সংগঠনের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাধীনভাবে কাজ করবেন। কোনো কমিটি গঠনে অভিযোগ উঠলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র আরো জানায়, পুনর্গঠন কাজ দ্রুত শেষ করে আনার জন্য লন্ডন থেকে দলের ঢাকা মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোর নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তারেক রহমান। এমন নির্দেশনা পান যুবদল স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের নেতারাও। তারেক রহমানের নির্দেশনা পেয়ে কাজ শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট দল ও ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা। ইতোমধ্যে ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক ও ছাত্রদলের কমিটি গঠনের কাজে জোর দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, সব ঠিক থাকলে মহানগরের সকল থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলো চলতি রমজান মাসের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে। গত বছর ১১ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির কমিটি গঠন করা হলেও এখনো পূর্ণাঙ্গ হয়নি। ৫১ থানা কমিটির বেশিরভাগই মেয়াদোত্তীর্ণ। ওয়ার্ড কমিটি নেই দীর্ঘদিন।

এ ছাড়া গত বছরের ১৬ জানুয়ারি যুবদল ও ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর স্বেচ্ছাসেবক দলের কমিটি গঠন হলেও এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ হয়নি। জেলা, মহানগর ও সাংগঠনিক কমিটিরও বেশিরভাগ মেয়াদোত্তীর্ণ। এ দুইটি অঙ্গ সংগঠনের ঢাকা মহানগর কমিটিও পূর্ণাঙ্গ হয়নি। থানা ও ওয়ার্ড কমিটি দীর্ঘদিন না হওয়ায় অসন্তোষ ও স্থবিরতা বিরাজ করছে।

ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাবেক কমিশনার হাসান বলেন, মহানগর কমিটি পূর্ণাঙ্গ, থানা ও ওয়ার্ড কমিটি গঠনে নতুন তাগাদা আমাদের ওপর আছে। যদিও আমরা আগে থেকেই অনেক কাজ এগিয়ে রেখেছি। সে ক্ষেত্রে কমিটি গঠনে সমস্যা হবে না। আশা করি, ঈদের আগে আমরা অনেকগুলো কমিটি গঠন কাজ শেষ করতে পারব।
nসূত্র: প্রতিদিনের সংবাদ

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত