বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

রাজনগরে নারীর লাশ উদ্ধার: পরিচয় ফোনে, ধর্ষণ শেষে হত্যা



ডেস্ক রিপোর্টার: রাজনগরে উদ্ধারকৃত অজ্ঞাত নারীর লাশের পরিচয় মিলেছে। নিহতের নাম রাশেদা বেগম (৩০)। তিনি উসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে। এ ঘটনায় পুলিশ আবারক মিয়া (২২) নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। সে উপজেলার মনসুরনগর ইউনিয়নের ছিককা গ্রামের মজম্মিল মিয়া ওরফে মজু মিয়ার ছেলে। রবিবার বিকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গণধর্ষণ শেষে রাশেদাকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়েছিল বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে আবারক মিয়া।

পুলিশ ও মামলার সূত্রে জানা যায়, উসমানীনগর উপজেলার পূর্বপৈলনপুর ইউনিয়নের অইয়া গ্রামের মৃত ফরাসত মিয়ার মেয়ে রাশেদা বেগমের (৩০) মোবাইল ফোনের সূত্রে পরিচয় ছিল গ্রেফতারকৃত আবারক মিয়া ও মৌলভীবাজারের এক যুবকের সঙ্গে। বেশ কয়েকবার তাদের দেখা-সাক্ষাতও হতো। গত বুধবার তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মৌলভীবাজার আসেন রাশেদা বেগম। বুধবার সন্ধ্যায় মৌলভীবাজারের ওই যুবককে নিয়ে রাজনগর উপজেলা পরিষদের সামনে আসেন রাশেদা। এসময় ওই যুবক আবারক মিয়াকেও ফোন করে রাজনগর নিয়ে আসেন। রাশেদাকে নিয়ে তারা উপজেলা পরিষদের পার্শবর্তী মাছুয়া নদীর পাশ ঘেষে পশ্চিম দিকে যেতে থাকেন। এসময় দক্ষিণ খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিম পাশে নদীর ধারে এসে ওই যুবক রাশেদাকে কুপ্রস্তাব দেন। এতে তিনি রাজি না হওয়ায় উভয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন রাশেদাকে। বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ে গলায় ওড়না পেছিয়ে তাকে হত্যা করে ধর্ষকরা। পরে লাশের সঙ্গে ইট বেঁধে নদীর অল্প পানিতেই তলিয়ে দেয় রাশেদার লাশ।

এ ঘটনায় রাশেদার ভাই আব্দুল খালিদ বাদী হয়ে রাজনগর থানায় মামলা করেছেন্। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে রাজনগর থানার এসআই জিয়াউল ইসলাম ও এসআই রাজিব হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আবারক মিয়াকে কমলগঞ্জ উপজেলার পতনঊষার থেকে গ্রেফতার করে। রবিবার বিকালে মৌলভীবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট জিয়াদুল হকের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আবারক। পরে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।

এদিকে নিহতের ভাই মামলায় উল্লেখ করেছেন পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে রাশেদা বেগম ধান কেনার জন্য এসেছিলেন। তাদের কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকার ধান কেনার কথা ছিল। তবে নিহতের টাকা ছিনিয়ে নেয়ার কথা স্বীকার করেনি আসামী আবারক মিয়া।

এ ব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘আসামীরা রাশেদাকে ধর্ষণ করে লাশ পানিতে ডুবিয়ে দিয়েছিল। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।’

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শ্যামল বণিক বলেন, ‘নিহতের ভাইয়েরা লাশ নিয়ে গেছে। মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে। অপরজনকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

উল্ল্যেখ্য, গত শুক্রবর রাতে রাজনগর থানা পুলিশ দক্ষিক খারপাড়া গ্রামের মোবারক মিয়ার বাড়ির পশ্চিমে মাছুয়া নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। লাশের খবর পেয়ে নিহতের ভাই রাজনগর থানায় এসে লাশের পরিচয় সনাক্ত করেন।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত