রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চাঁদনী উচ্চ শিক্ষায় সহযোগীতা চান বিত্তশালীদের



হোসাইন আহমদ, অতিথি রিপোর্টার: বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীর মতো চাঁদনীও একজন। ৬ বছর আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান বাবা মোঃ সুফিয়ান মিয়া। ৩ বোন ও ২ ভাইয়ের মধ্যে চাঁদনী সবার বড়। চাঁদনীর বাড়ি সিলেট জেলার উসমানীনগর উপজেলার ইছাপুর গ্রামে। বাবা মারা যাওয়ার পর চলে আসেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বাগারাই গ্রামে নানা বাড়িতে। ষষ্ট শ্রেণীতে ভর্তি হন পাশ্ববর্তী সাধুহাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

পিএসসি, জেএসসি ও এবারের এসএসসি পরীক্ষায় পেয়েছেন এপ্লাস। স্বপ্ন বড় হয়ে একজন হার্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হওয়ার। মুঠোফোনে চাঁদনীর কথা হলে সে বলে, আমার মা একজন হার্টের রোগী। হার্ট বিশেষজ্ঞ ডাক্তার হয়ে মায়ের মতো দরিদ্র হার্টের রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা করব। তাদের সেবা করাই আমার মূল উদ্দেশ্য। কিন্তু চাঁদনীর এই স্বপ্ন পূরণে একমাত্র বাধা অর্থ।

নানা বাড়ি’র আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায় ফলাফলের পর চাঁদনীকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি নিয়ে শষ্কায় আছে চাঁদনী। লেখাপড়ায় সহযোগীতা চায় সমাজের বিত্তশালীদের।
চাঁদনীর মা লায়লা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, চিকিৎসার অভাবে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে ছেলে মেয়েদের নিয়ে অসহায়। প্রতিবেশি ও আত্মীয়দের সহযোগীতায় অনেক কষ্ট করে কোনো রকম বেঁচে আছি। ৫ সন্তানের মধ্যে ছেলেরা ছোট থাকায় কাজে পাঠাতে পারছি না। ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়া করানোও সম্ভব হচ্ছে না। বিত্তশালীদের সহযোগীতা না পেলে সন্তানদের লেখাপড়া বাদ দিয়ে অন্য চিন্তা করতে হবে।
সাধুহাটি আব্দুল বারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা পল্লবী গোস্বামী বলেন, চাঁদনীর কাছে দরিদ্রতা হার মেনেছে। মেয়েটি অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করে এপ্লাস পেয়েছে। মেয়েটি অত্যান্ত ভদ্র ও ন¤্র। বিত্তশালীদের সহযোগীতা পেলে সে অনেক বড় হয়ে সমাজ উন্নয়নে ভুমিকা রাখতে পারবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত