বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৩০ কার্তিক ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

মনু নদীর ভাঙন: বানভাসি অধিকাংশ মানুষেরা রোযা রেখেছেন না খেয়ে



নাজমুল ইসলাম, কুলাউড়া: মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার ৫ সহ¯্রাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে। কেউ কেউ খেয়ে আবার কেউ কেউ না খেয়ে বৃহস্পতিবার রোযা রেখেছেন।

প্রতিরক্ষা বাঁধে ৬টি ভাঙনের পর আরও ২টি নতুর ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। কিছু শুকনো খাবার বানভাসি মানুষের জন্য সরবরাহ করা হলেও তা মানুষের কাছে পৌছানো দুষ্কর বলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানগণ জানান।
কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল মালিক জানান, সৃষ্ট ভাঙনের ফলে দেড় হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। এরমধ্যে ৫ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়ে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে। বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই। এসব পরিবারের মধ্যে মুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করা হয়েছে। তবে পানির মধ্যেও বেশির ভাগ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যাননি। এসব মানুষ বেশির ভাগ না খেয়ে রোযা রেখেছেন।
শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ ৪টি ভাঙন দেখা দিয়েছে শরীফপুর ইউনিয়নে। প্রায় ২ হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তবে অনেক মানুষ বাড়ি ছেড়ে আশ্রয় কেন্দ্রে যাননি। এরা অত্যন্ত কষ্টে রয়েছেন। এদেরকে কোন প্রকার সাহায্যও করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় আটকা পড়া মানুষকে উদ্ধার করাও সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া উপজেলা পৃথিমপাশা ও হাজিপুর ইউনিয়নে এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। গত ২দিন থেকে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।
এদিকে ঈদের আগ মুহুর্তে কুলাউড়ার ৪ ইউনিয়ন এবং রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়ন মুন নদীর ভাঙনে ৫ ইউনিয়নের জনপদ লন্ডভন্ড হয়ে গেছে। ভাঙন কবলিত এই ৫টি ইউনিয়নকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানগন। এছাড়া বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও ইংল্যান্ড প্রবাসী কামাল হাসান দুর্গত মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে ভাঙন কবলিত এসব এলাকাকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানান।
কুলাউড়া উপজেলা চেয়ারম্যান আসম কামরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌ. মো. গোলাম রাব্বি জানান, প্রথম দিন কুলাউড়ার ক্ষতিগ্রস্থ ইউনিয়নগুলোতে শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে। এসব দুর্গত মানুষের জন্য ৫০ মেট্রিক টন চাল ও নগদ ৬০ হাজার টাকা। অনুদানগুলো পাওয়া মাত্রই দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত