বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

চিকিৎসকের অবহেলার চা শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ



রুপম আচার্য্য, শ্রীমঙ্গল রিপোর্টার:
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দায়িত্বে অবহেলার কারণে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ মৃত্যুর ঘটনায় একাট্টা হয়ে ক্ষোভে-বিক্ষোভে ফুঁসে উঠে অবিলম্বে ওই চিকিৎসককে অপসারণ ও শাস্তির দাবী জানিয়েছেন চা শ্রমিকরা। এ ঘটনায় উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন না হলে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ায় হুসিয়ারি দিয়েছেন চা শ্রমিক নেতারা।
নিহতের পরিবার সুত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার উপজেলার কালিঘাট চা বাগানের চা শ্রমিক রবি নাগ মোমিন (২৪)- কে শুক্রবার বিকেল ৪ টার দিকে অসুস্থ অবস্থায় কালিঘাট চা বাগানের নিজস্ব হাসপাতালে (এটি বাগান কর্তৃপক্ষের বেসরকারি হাসপাতাল) চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন তার পরিবারের লোকেরা। ওইদিন রাতে তার অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসকের সাথে বারবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি হাসপাতালে আসেননি। পরে বিনা চিকিৎসায় মোমিনের মৃত্যু হয় বলে প্রথম আলোর কাছে নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন।
নিহত মোমিনের মাতা কষ্টি নাগ বলেন শুক্রবার আমার ছেলের বুকে ব্যাথা উঠলে মুখে বমি করে সে। সাথে সাথে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় সেখান থেকে ভালো চিকিৎসা না পেয়ে লাশ হয়ে ফিরে তার ছেলে।
নিহতের বড় ভাই শামীম নাগ বলেন, আমার ভাইকে হাসপাতালে ভর্তির পর প্রথমে তাকে দেখে হাসপাতালের চিকিৎসক নাদিরা ম্যাডাম (নাগিরা বেগম) আমার ভাইকে একটি ডিএ ৫% স্যালাইন, একটি মোম সিরাপ, একটি ইমিস্টেট ও ডাইজিফার্ম ইঞ্জেকশন দিয়ে চলে যান। রাত ১২ টার দিকে তার অবস্থার অরো অবনতি হতে থাকে। হাসপাতালে তখন চিকিৎসক না থাকায় আমরা আমরা ডাক্তার নাদিরার সাথে বার বার যোগাযোগ করলেও তিনি আসেননি। পরে সেখান থেকে বালিশিরা মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে (২২ জুন) দিবাগত রাত তিনটার দিকে আমার ভাই মারা যায়।
কালীঘাট ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য সদস্য মো. শামছুল হক বলেন, আমরা বারবার ম্যাডামকে ডেকেছি, এমনকি তার বাসায় চৌকিদার পাঠিয়েছি, গাড়ি পাঠিয়েছি, তবুও তিনি আসেন নি। তিনি আসতে পারবেন না এবং বাচ্চাকে নিয়ে ব্যস্ত আছেন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন বাগানের রোগীদের সাথে এমন আচরন প্রথম নয়। সব সময়ই এ ধরনের আচরন করা হয়। চা বাগানের হাসপাতালের ডাক্তাররা রোগীকে ভালো করে পরিক্ষা করে না। ঔষধও দেয় না ঠিক মতো। চা শ্রমিকরা বাগানের হাসপাতাল থেকে সরকারি হাসপাতালে গেলে চা বাগান কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের ব্যায়ভার বহন করে না বিধায় দরিদ্র শ্রমিকরা চা বাগানের এই হাসপাতালে বিনা চিকিৎসায়ই মারা যায়।
এ বিষয়টি নিয়ে কালীঘাট হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক নাদিরা বেগমের সাথে মুঠোফোনে একাধিক যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেন নি। পরে সরাসরি তার বাংলোয় গেলে তিনি ঘরের ভিতর থেকে তার গার্ডের মাধ্যমে এখন ঘুমিয়ে আছেন সাংবাদিকদের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না বলে জানান।
কালীঘাট চা বাগান পঞ্চায়েত সভাপতি নরোত্তম তাঁতী বলেন, সকাল বেলা চা শ্রমিকরা ধর্মঘটের ডাক দিয়েও আমরা ধর্মঘটে যাই নি। আমরা বিনা চিকিৎসায় চা শ্রমিকের মৃত্যু কিছুতেই মেনে নেবো না। চা বাগান কর্তৃপক্ষ কর্তৃক দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে বিহিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে ডা. নাদিরাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও শাস্তির ব্যবস্থা না করলে শ্রমিকরা ধর্মঘটসহ কঠোর আন্দোলনে নামবেন বলে জানান তিনি।
ফিনলে চা কোম্পানির জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সাজ্জাদ সারোয়ার প্রথম আলোকে বলেন, কোন মৃত্যুর গ্রহনযোগ্য নয়। চা শ্রমিকের মৃত্যুর বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। আমরা বিষয়টি নিয়ে সিইও (চীপ একজিকিউটিভ অফিসার) এর কাছে একটি প্রতিবেদন দাখিল করবো। এ জন্য সিইও অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী বাগান পঞ্চায়ত সহকারে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি যাচাই করে যা যা করনীয় তার উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত