সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৯ আশ্বিন ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

“ঘর ভেঙ্গে মাটিতে, রাতে ঘুমাই আকাশের নিচে“



আহমদউর রহমান ইমরান, রাজনগর থেকে: 

‘বন্যায় আমার সব শেষ। ঘর ভেঙ্গে মাটির সাথে। রাতে পরিবারের সবরে নিয়া উঠানে ( আঙ্গিনায়) তাকি (ঘুমাই)। মনু নদীর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থ রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নের মৌলভীরচক গ্রামের সায়েদ বাদশা এই সব হৃদয় বিদায়ক কথা বলেন প্রতিবেদকে। সরেজমিনে উপজেলার বন্যায় কবলিত ৩টি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্যার কারনে অনেক বাড়ি ঘর ভেঙ্গে মাটির সাথে এক হয়েগেছে। অনেক মানুষ নতুন করে বাড়ি নির্মান করে ঘুরে দাড়াবার চেষ্টা করছে। আবার কেউ কেউ টাকার অভাবে হত দরিদ্র মানুষ নতুন করে কোন রকমে দরিদ্র মানুষের বসতঘর তৈরীর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

এছাড়াও কৃষি, সবজি ক্ষেত সবই নষ্ট হয়েছে। চরম ক্ষতি হয়েছে গবাদিপশু, হাসমুরগীর খামার। কামারচাক ইউনিয়নেরও পুরো ৪২টি গ্রাম বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। আশ্রয় কেন্দ্র থেকে ফিরে মানুষ খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। ঘর ঠিক করার জন্য অর্থ-সামর্থ তাদের কাছে নেই। সরজমিনে ইউনিয়নের মৌলভীরচক, পালপুর ও মরিচা গ্রামের আফরুজ মিয়া, জালাল মিয়া, আলিফজান বিবি, দিপকদত্ত সহ অন্যানরা বলেন, বন্যায় আমাদের সব কিছু শেষ। বাড়ি ঘর ধ্বসে গেছে। অনেক ঘর সম্পুর্ণ ভেঙ্গে মাটির সাথে এক হয়ে গেছে । কিন্তু কীভাবে ঠিক করবো। ধার দেনা ছাড়া উপায় নাই। আমরা সরকারের সহযোগীতা চাই।

এবারের বন্যায় সাধারণ মানুষের কাঁচা ঘরগুলো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। মাথা গুজার এ সংগ্রাম তাদেরকে ঠেলে দেবে অনিশ্চত ভবিষ্যতের দিকে। মৌলভীরচক গ্রামের আলিক চৌধুরী বলেন, বন্যায় আমাদের কামারচাক ইউনিয়নে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক বাড়ি ঘর ভেঙ্গে গেছে । সারা উপজেলার মধ্যে আমাদের ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্থ। সরকারের সহযোগীতা বেশি প্রয়োজন। স্বরণকালের ভয়াবহ বন্যায় মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার কামারচাক, টেংরা ও মনসুরনগর ইউনিয়নের কয়েক হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এসব পাঁকা ওকাঁচা ঘর পুরোপুরি ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। নষ্ট হয়েছে ঘরে থাকা আসবাব-পত্রছাড়াও রাস্তাঘাট ব্রীজকালবাট গবাবাদি পশুর খামার বিভিন্ন জলাসয় পুকুর ও খামারের মাছ ক্ষেতের ধান সাকসবজির বাগান পানি সরে যাওয়ার ক্ষয়ক্ষতি দৃশ্যমান হচ্ছে।

কামারচাক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নজমুল হক সেলিম বলেন, বন্যার কারনে আমার ইউনিয়ন বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বসে গেছে বলেই ধারণা করছি। ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করা হচ্ছে।
রাজনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফেরদৌসী আক্তার বলেন, আমরা পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্ধ পেয়েছি এবং তা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের মধ্যে বিতরণ করে যাচ্ছি। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ বাড়ি ঘরের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। আশা করছি এ সপ্তাহের বিতরে তালিকা অনুযায়ী ঘর মেরামতের জন্য টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করতে পারবো।

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত