রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮ খ্রীষ্টাব্দ | ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৫ বঙ্গাব্দ

দুই যুগ ধরে মানবেতর জীবন: আমেরিকা প্রেসিডেন্টের কাছে ডিভি লটারী ভিসা বঞ্চিতদের চিঠি



স্টাফ রিপোর্টার:
লটারিতে বিজয়ী হওয়ার দুই যুগ পার হলে এখনও স্বপ্নের দেশ আমেরিকায় পা রাখতে পারেননি ডিভি লটারি বিজয়ীরা। কিন্তু ভিসার প্রহর গুনতে গুনতে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৬/৭ জন। অধিকাংশ লটারী বিজয়ীরা জলন্ত অভিসাপের মধ্যে ভিটামাটি বিক্রি করে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। আবার কেউ কেউ মৃত্যু’র সাথে পাঞ্জা লড়ছেন। বিষয়টির সমাধান চেয়ে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে সরকারি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ঘুরতে ঘুরতে তারা ক্লান্ত। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্পের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে “আমেরিকা ডিভি লটারি বিজয়ী ও ভিসা বঞ্চিত বাংলাদেশী সমন্বয় পরিষদ, মৌলভীবাজার”। পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনার জন্য গত ২৭ জুন জাতীয় সংসদের পিটিশন কমিটির সভাপতি স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরী’র কাছে আবেদন করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯৯৫ সাল হতে আমেরিকা সরকার ডিভি লটারী চালু করে বিশ্বের ৫৫টি দেশ থেকে কোটার ভিত্তিতে প্রতি বছর ৫৫ হাজার লোককে স্থায়ী বসবাসের সুযোগ দেয়। তন্মধ্যে বাংলাদেশের কোটায় প্রতিবছর ৩৮৫০ জন আবেদনকারীর অভিবাসন নিশ্চিত করা হয়। এ আলোকে ১৯৯৫-২০১২ সাল পর্যন্ত মার্কিন অভিবাসন নীতির আলোকে ডিভি লটারীর মাধ্যমে বাংলাদেশী আবেদনকারীদের উল্লেখ সংখ্যক মানুষের প্রয়োজনী পাসপোর্ট, স্পন্সরশীপ ও মেডিকেল টেস্ট ও ভিসা ফি প্রদান করেও কিছু অসাধু দূতাবাস কর্মকর্তার জালিয়াতি, স্থানীয় দালাল চক্রের যোগসাজেসে প্রকৃত বিজয়ীদের কাগজপত্রে ছবি বদল করে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে অন্যত্র বিক্রি করে ভুয়া লোক পাঠায়।

আবেদন থেকে আরোও জানা যায়, ভিসা জালিয়াতির সাথে ডাক ও বিমান বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। তারা গড়ে তুলে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চক্র। ওই চক্র বিজয়ীদের নামে আসা চিঠি তাদের হাতে না পৌঁছিয়ে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে অন্য জনের কাছে বিক্রি করত। পরবর্তীতে ডাক সার্ভিসের তৎক্ষালিন পরিচালক সাইদ উদ্দিন মাহমুদকে চেয়ারম্যান ও এপি এমজি নুুরুল আমিনকে সদস্য সচিব করে একটি তদন্ত কমিটিও ঘটন করা হয়। কিন্তু ওই দতন্ত কমিটি ১৮ বছরেও আলোর মুখ দেখেনি।

এ বিষয়টি গত ১০ জুন ২০১৩ সালে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসিন আলী জাতীয় সংসদে প্রশ্নোক্তর পর্বে মৌখিক উত্তরদানের জন্য ২৯২ নং প্রশ্নে বিষয়টি উত্তাপন করেন। কিন্তু পরবর্তীতে সৈয়দ মহসিন আলী অসুস্থ থাকায় বিষয়টি আর সংসদে আলোচনায় আসেনি। এ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়েও আর কোনো আলোচনা হয়নি বলে পরিষদের সদস্যরা জানান। তাদের দাবি, বর্তমান সরকারের চলতি সংসদে সমাজকল্যাণমন্ত্রী মরহুম সৈয়দ মহসিন আলীর উত্তাপিত প্রশ্নটি আলোচনা করে দীর্ঘ দিনের সমস্যার সমাধান করা।

এ বিষয়ে আমেরিকান ডিভি লটারী বিজয়ী ও ভিসা বঞ্চিত বাংলাদেশি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি সৈয়দ ইউনুছ আলী বলেন, আমাদের পরিষদের ভিসা বঞ্চিতদের অধিকাংশই হতদরিদ্র। ডিভি লটারী বিজয়ী হয়ে স্বপ্ন দেখছিলেন স্বনির্ভর ও উন্নয়নশীল দেশ আমেরিকায় গিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করবেন। কিন্তু দূতাবাসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা/কর্মচারী ও বাংলাদেশের কিছু দালালের যোগসাজেসে অদ্যবধি আমাদের স্বপ্ন পূরণ হয়নি।

 

#দৈনিকমৌলভীবাজারডটকম/হোসাইন/ডেস্ক

নিউজ সম্পর্কে আপনার বস্তুনিস্ঠ মতামত প্রদান করুন

টি মতামত